ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সড়ক সংবাদ ২৭ বছরেও কেউ কথা রাখেনিঃ ঝুঁকিপূণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে যাতায়াত!

২৭ বছরেও কেউ কথা রাখেনিঃ ঝুঁকিপূণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে যাতায়াত!

মাধ্যমিক বিদ্যালযের ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশার মানূষ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করছে

মাধ্যমিক বিদ্যালযের ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশার মানূষ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করছে

১৬ জুন ২০১৫, নিরাপদ নিউজ, তাপস কুমারঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় গুড়নই নদীর  দক্ষিণ পাড়ে বিলদহর হাটে যেতে উত্তর পাড়ের গ্রাম গুলোর হাটুরে, প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালযের ছাত্রছাত্রী ও দক্ষিণ পাড়ের চাষীদের চলনবিলে কৃষি কাজে ও মৎসজীবি সহ নানা পেশার মানূষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিগত ২৭ বছর ধরে খেয়াঘাট সংলগ্ন বিলদহর হাট সমান্তরাল অপরপাড়ে কালিনগরের কালামিয়ার বাড়ীর পাশে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ঝুঁকিপূণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে।
১৯৮৮ খ্রিঃ প্রলয়ংকরী বন্যায় নদীর পাড় দিয়ে চলাচলের রাস্তা নদী গর্ভে চলে যায়। যাতায়াতে ৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে বাঁশের তৈরি চারাট দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়। সেইযে শুরু আজও চলছে। নদীর পাড় ক্রমাগত ভাংগনে আজকে দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার।
২০০৬ খ্রিঃ হতে বিগত ৯ বছর ধরে বিলদহর খেয়াঘাট ইজারাদার মিন্টু মিয়া নৌকা দিয়ে পারাপারের বিড়ম্বনা এড়াতে ও সহজ করতে জানুয়ারী মাসে সাবগাড়ীতে রাবার ড্যাম ফোলানো হলে নদীর স্রোত বন্ধ হলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। ড্যাম ছেড়ে দিলে নদীর স্রোত বইতে শুরু করলে সাঁকো গুটিয়ে নেয়।
মিন্টু মিয়া পাড়ের পাওনা আদায়ে নদীতে বাঁশের সাঁকোর পাশাপাশি নদীরপাড় দিয়ে বাঁশের চারাট দিয়ে সাঁকো বানিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছে। বাঁশের চারাটের সাঁকোটি সারাবছর ধরে মেরামত কাজ চালাতে হয়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিনগর সহ ৫টি গ্রামের বিলদহর হাটে যেতে হাটুরে, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, গুড়নই নদীর পাড়ে কালামিয়ার বাড়ীর পাশে ১৫ মিটারের ১টি সাঁকো ও গুড়নই নদীতে ১১০ মিটারের ১টি ঝুঁকিপূণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালযের ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশার মানূষ নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করছে।
১ মিটার চওড়া বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাশাপাশি দুজন, মাথায় বোঝা নিয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বেখেয়াল হলে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশংকা। প্রতিনিয়ত চলাচলে চারাট পুরোনো হয়ে ভেংগে যায়। যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বৃষ্টিপাত হলে অল্প বয়সী শিশুরা বিদ্যালয়ে ও বয়স্করা হাটে যেতে পারেনা।
বিগত ২৭ বছরেও স্থানীয় চামারী ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন নদীপাড় দিয়ে রিটেইনার ওয়াল দিয়ে বিপদমুক্ত মাটির রাস্তা কিংবা বিকল্প রাস্তা তৈরি করেনি। যাতায়াতে উন্নয়নের হাওয়া লাগেনি এখানে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে বিলদহর হাট ও বিলদহর খেয়াঘাট ইজারা থেকে বিগত ২৭ বছরে ১ কোটি টাকার বেশী আয় হয়েছে।
খেয়াঘাট থেকে আয়ের অর্থ চলে গেছে ৫নং চামারী ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে। বিলদহর হাট ইজারার টাকা জমা হয়েছে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিচালিত হিসাব নম্বরে।

সেখান থেকে ৪৬ ভাগ টাকা এসেছে ৫নং চামারী ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে। ইজারার টাকা জমা ও খরচ শেষে শূন্য দেখান হয়েছে। হাটুরেদের যাতায়াতের পথ সহজ ও সুগম করতে নদীর অপর পাড়ে হাট এলাকার মধ্যে হওয়া সত্বেও উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের মাধ্যমে কোন উন্নয়ন করা হয়নি।
১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ডিসেম্বর তৎকালিন স্থাানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হাতিয়ানদহতে জিসিসিআর সড়ক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ২০০৮ খিষ্টাব্দের ২৭শে ডিসেম্বর বিলদহর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নাটোর-০৩ আসনের সংসদ সদস্য, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে জুলাই ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, জুনাইদ আহমেদ পলক ত্রিমোহনী ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বিলদহরে গুড়নই নদীতে ব্রীজ ও নদীরপাড়ের রাস্তা নির্মানের আশ্বাস বাণী শুনিয়েছেন। অজতক ব্রীজ নির্মাণের স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত ও বিকল্প রাস্তা হয়নি। এলাকাসির যাতায়াত সমস্যা নিরসনে বিষয়টি কবে আলোর মুখ দেখবে কেউ জানেনা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)