ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৯ শাওয়াল, ১৪৪১

আয়নাঘরে স্বাগতম

লিটন এরশাদ

রেজানুর রহমান, নিরাপদ নিউজ: বলতে গেলে একটানা ১৫ বছর পর মঞ্চে অভিনয়ে ফিরছি। নাটকের নাম আয়নাঘর। নাটকটি আমারই লেখা। আমাদের নাটকের দল ‘এথিক’ থেকে নাটকটি নির্দেশনারও দায়িত্ব পেয়েছি। আয়নাঘর নিয়ে অনেক চমক আছে। আস্তে আস্তে তা প্রকাশ করবো। তবে আনন্দের খবর আজ থেকে আমার ফেসবুক বন্ধুদের জন্য নতুন একটি লেখা শুরু করলাম। নাম ‘আয়নাঘর’। ধারাবাহিক এই লেখাটি নিয়মিত প্রকাশ হবে। আজ প্রকাশ হলো তৃতীয় কিস্তি…
তিন.
আমাদের গ্রামের নাম কৈকুরি। এক সময় গ্রামটি ছিল উলিপুর থানার অংশ। আরও সহজ করে বলি উলিপুর হল কুড়িগ্রাম জেলার একটি অংশ। সেই উলিপুরেরই একটি অংশ হল কৈকুরি। এখন অবশ্য রাজারহাটের অংশ হয়ে উঠেছে। ছোট বেলার যতটুকু মনে পড়ে… আমার বাবা তখন সৈয়দপুর শহরে চাকরি করেন। সৈয়দপুর সাবর্ডিনেট কলোনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। থাকতেন স্কুলেরই কোনায় একটি ঘরে। একই ঘরে একটি খাট, আলনা আর রান্নার সরঞ্জাম। স্টোভের চুলায় নিজেই রান্না করতেন। গোশল করতেন বাইরের টিউবওয়েলের পানি দিয়ে।
আর আমরা থাকতাম গ্রামে। বাবা মাঝে মাঝে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। গ্রামে আসার আগে হয়তো পোস্ট কার্ড অথবা খামের ভিতর চিঠি পাঠাতেন। যে মাসে বাবা গ্রামের বাড়িতে আসতেন না সে মাসে মানি অর্ডার করে টাকা পাঠাতেন আম্মার নামে। সে কারণে গ্রামের একজন ডাক পিয়ন আমার কাছে খুবই গুরুত্বপুর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। মাঝে মাঝে ভাবতাম একজন ডাক পিয়নের কি ক্ষমতা! সে ব্যাগে করে টাকা নিয়ে আসে। তার জন্য প্রতি মাসে আম্মা কি যে অপেক্ষায় থাকতেন। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই পিয়নের জন্য অপেক্ষা শুরু করতেন। কখনও কখনও এমনও হতো… সৈয়দপুর থেকে মাসের টাকা আসতে দেরী হচ্ছে, মা সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা পরে যেতেন। পিয়নের খোঁজ করতেন প্রতিদিন। পিয়ন যেদিন টাকা নিয়ে আসতো সেদিন মা কি যে খুশি হতেন! পিয়নের জন্য নারকেলের নাড়ু, চাউল ভাজা, অথবা এজাতীয় কোনো খাবার জমিয়ে রাখতেন।
তখন আবার কেবলই মনে হতো পিয়ন কেন প্রতিদিন আসে না। পিয়ন এলেই তো মায়ের মুখে হাসি ফুটবে। তার দুশ্চিন্তা কমে যাবে। মা আমাদের জন্য ভালো ভালো খাবার জোগাড় করবেন। এখন না বুঝি পিয়নের প্রতিদিন তো আসার কোনা সুযোগ নাই। কেউ টাকা পাঠালেই না পিয়ন সেটা দিতে আসবে। আসলে টাকাই তো সব….
আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল, নানার বাড়িতে। উলিপুর উপজেলার শীববাড়ি এলাকায় আমার নানার বাড়ি। সেখানে একটি প্রাইমারী স্কুলে আমাকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল। বড় টিনের ঘরে কোনো দেয়াল ছাড়াই ৫টি ক্লাশের ছেলে-মেয়েরা বসে ক্লাশ করতো। আমার নানাকে দেখিনি। নানীকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। মায়েরা ছিলেন ৯ ভাই বোন। দুই ভাই, সাত বোন। বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে ছোট জন ছাড়া সকলেই জন্মের পরই মারা যায়। আমার মা-ই বোনদের মধ্যে ছোট। বড় খালা বেঁচে নেই। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমার মমতাময়ী মা বেঁচে আছেন। আমার দুই মামা সংসার চালাতেন। দুজনই ছিলেন চাকরিজীবী। তাদের ছিল পৃথক সংসার। আমি কোন সংসারের ভাত খেয়ে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করবো তাই নিয়ে নানাবাড়িতে মহিলা বিষয়ক কুটনৈতিক চাল শুরু হয়েছিল। যে কারণে নানাবাড়িতে আমার আর পড়াশুনা হলো না…
ফিরে এলাম নিজেদের বাড়িতে। নানার বাড়িতে একটা সুবিধা ছিল। আশে পাশের সব মানুষই ছিল শিক্ষিত। সকাল-সন্ধ্যা সবার ঘরেই ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনার জন্য বসে যেত। দিনে সবাই যেত স্কুলে। একটা সাংস্কৃতিক পরিবেশও ছিল গোটা বাড়ি জুড়ে। আমার মায়ের এক চাচাত ভাই সেই সময় প্রাইমারী বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়ে যায়। কাজেই সহজেই অনুমান করা যায় বাড়িটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কতোটা উন্নত ছিল। প্রাইমারী বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্ত মায়ের ওই চাচাত ভাইকে নিয়ে একটা চমৎকার গল্প আছে। চমকপ্রদ গল্প…(চলবে)
পুনশ্চ: এখন থেকে আয়নাঘর প্রতি দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে একদিন মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে। কাজেই এবার অপেক্ষা আগামী মঙ্গলবারের জন্য।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of