ব্রেকিং নিউজ

আপডেট অক্টোবর ১২, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭, বর্ষাকাল, ১৭ জিলহজ, ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

ঢাবিতে পলিটিক্যাল রুম খ্যাত টর্চার সেল!

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েটে) ‘টর্চার রুমে’ বেধড়ক পিটিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় সামনে চলে আসছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতনকেন্দ্রিক নানা ঘটনা। জানা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে রয়েছে গেস্ট রুম ও গণরুম খ্যাত ‘টর্চার সেল’। এসব টর্চার সেলে প্রতিদিন চলে সিনিয়র ছাত্রলীগকর্মী দ্বারা জুনিয়র শিক্ষার্থী নির্যাতন।

বিজ্ঞাপন

এমনি অভিযোগ হলে থাকা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয় একাত্তর হলের ছাত্র রানা আখন্দকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে গেস্ট রুমে পিটিয়েছেন হল ছাত্রলীগের কর্মীরা। মারধরের শিকার ওই ছাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, হলের ছাত্রলীগ নেতা তাকে হুমকি দেন ‘প্রোগ্রামে যাবি নাকি হল ছাড়বি।’ মারধরের শিকার রানা আখন্দ সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্র। এ ছাড়া গত ১৪ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের ২৫ জন শিক্ষার্থীকে পলিটিক্যাল রুমে মারধরের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে মনির নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের পর লুকিয়ে রাখা হয়। পরে হল প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রাত দুইটার দিকে অন্য একটি হল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম-গণরুম একটি আলোচিত বিষয়। ঢাবির আবাসিক হলগুলোতে টর্চার সেল গেস্টরুম, গণরুম বা পলিটিক্যাল রুম নামে খ্যাত। আমরা মনে করি, এসব অভিযোগ মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের খবর আমরা আর শুনতে চাই না। গেস্টরুম অথিতি আপ্যায়নের জায়গা হলেও ম্যানার শিখানোর নামে নবাগত শিক্ষার্থীদের এই রুমগুলোতে চলে অমানুষিক নির্যাতন। ভিন্ন মত প্রকাশ করলে ও রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ না নিলে রাতভর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। হলের সিনিয়রদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আবার কেউ কেউ হল ছাড়তে বাধ্য হয়।

ফরিদপুরের গরিব অটোরিকশাচালকের মেধাবী সন্তান হাফিজুর মোল্লা ঢাকায় এসেছিলেন উচ্চশিক্ষা নিতে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি ভর্তিও হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে। ছাত্রলীগের ‘বড় ভাইদের’ হাত ধরে তিনি উঠেছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে। তাকে থাকতে দেয়া হয় দোতলার দক্ষিণ পাশের বারান্দায়। শীতের মধ্যে বারান্দায় থাকা এবং রাতে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যাওয়ায় হাফিজ ঠা-া, নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কারণ পড়ালেখা করা। রাতে গেস্ট রুমে আটকে রাখা ও প্রোগ্রাম থাকলে ক্লাস বাদ দিয়ে প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য নয়। আমরা মনে করি, মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিত ও গেস্টরুম গণরুম বন্ধ করা হোক।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x