ব্রেকিং নিউজ

আপডেট অক্টোবর ১৪, ২০১৯

ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০, ২৬ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪১

কেমন চলছে পাকিস্তানে যৌন শিক্ষা?

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: পাকিস্তানের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২১ কোটি। আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা আছে। জন্মহার কমাতে কাজ করে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানে ‘লেডি হেল্থ ওয়ার্কার্স’ বা এলএইচডাব্লিউ কর্মসূচি চালু হয়। প্রায় ২২ হাজার কর্মী এতে কাজ করছেন।

শাহিদা সুমরু তাঁদের একজন। সিন্ধু প্রদেশের ভিত শাহ এলাকায় কাজ করেন তিনি। অল্পবয়সি মায়েদের অপরিকল্পিত ও নিয়মিত গর্ভধারণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গর্ভনিরোধক বড়ি, কনডম, ইনজেকশনসহ জন্ম নিয়ন্ত্রণের নানান উপায় সম্পর্কেও তাঁদের জানান শাহিদা।

তবে সবাই যে তাঁর সব কথা গ্রহণ করেন তা নয়। শাহিদা বলেন, ‘‘(মহিলাদের মধ্য) অনেক ধরণের মিথ ও ভুল ধারনা আছে। এছাড়া অনেকে ভয় পান এই ভেবে যে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তাঁদের বন্ধ্যা করে দিতে পারে। অন্যরা মনে করেন, এসব পদ্ধতি ধর্মবিরোধী।”

গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানের প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ বিবাহিত নারীর প্রায় অর্ধেক জন্মনিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গুটমাকার ইন্সটিটিউট ও পপুলেশন কাউন্সিল এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

ঐ রিপোর্টে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে প্রতিবছর প্রায় ৩৮ লাখ অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে এলএইচডাব্লিউ কর্মসূচির কাজ ভালোভাবে এগোচ্ছে না। এমনকি শাহিদার মতো কর্মীরা অনেকসময় মাসের পর মাস বেতন পান না।

পরিস্থিতির উন্নয়নে এলএইচডাব্লিউ কর্মসূচির তহবিল বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পপুলেশন কাউন্সিলের পাকিস্তানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেবা সাথার বলেন, ‘‘আমাদের রিপোর্ট এটিই প্রমাণ করছে যে, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে।”

গবেষণা বলছে, পাকিস্তান সরকার বর্তমানে গর্ভনিরোধক বড়ির পেছনে বছরে ৬৮৬ কোটি টাকা ব্যয় করে। কিন্তু টাকার পরিমাণটি যদি দ্বিগুণ করা যায় তাহলে ৩১ লাখ অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ ঠেকানো সম্ভব বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x