ব্রেকিং নিউজ

আপডেট অক্টোবর ২৬, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭, বর্ষাকাল, ১৭ জিলহজ, ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

ভাইরাল না হলে বিচার যেন দূরহ বিষয়!

লিটন এরশাদ

সুমনা সোমা: একটি দেশ তখনি এগিয়ে যায় যখন সে দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে কি আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত? নুসরাতের খুনিদের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। দেশের আর সবার মতো আমিও আনন্দিত। তবু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটছে না। কেননা এর আগে বিশ্বজিতের খুনিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির রায় হয়েছিলো। কিন্তু পরে আমরা দেখেছি রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় অনেকেই পার পেয়ে গেছে। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে নুসরাত তো প্রথম পুলিশের কাছেই গিয়েছিল। কিন্তু সে তো তখন আইনের সাহায্য পায়নি। সে সাহায্যের জন্য তাকে পুড়ে মরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
বিচার হয়নি ত্বকী হত্যার। সাগর-রুনি হত্যার। ব্লগার হত্যার। একের পর এক বিচারহীনতায় মুমূর্ষু দেশ। একটি অন্যায়ের বিচারের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয় সেই ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত। ভাইরাল না হলে সে ঘটনার বিচার যেন দূরহ বিষয়।
আবরারের মৃত্যু একদিনে ঘটেনি। এর পরিবেশ তৈরি হয়েছেলো অনেক আগেই। রাষ্ট্র সে ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কেননা বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রনামধারী ক্যাডাররা অস্ত্রসস্ত্রসহ মহড়া দিয়েছে। প্রশাসন সেসব দেখেনি। টর্চার সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর তৈরি হয়েছিলো এটা প্রশাসন জানে না তাও কি সম্ভব? বস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগণ দলীয় নিয়োগপ্রাপ্ত। দলের এইসব ক্যাডারদের তারাও ব্যবহার করে নিজেদের গদি টিকিয়ে রাখতে। যার নির্মম শিকার আবরার। দৃশ্যত হয়ত আমরা একজন আবরারকেই দেখছি। তাও সে নির্মমভাবে খুন হয়েছে বলে। যদি সে সকল নির্যাতন সহ্য করে বেঁচে যেতো তবে কি আমরা জানতাম এই টর্চার সেলের কথা। আরো অসংখ্য ছাত্র যে এরকম নির্যাতন সহ্য করে একটা ট্রমার মধ্যে সময় অতিবাহিত করেনি তা কি আমরা বলতে পারবো? অথচ এটা প্রশাসনের বলতে পারার কথা।
ছাদবাগান ধ্বংসকারী এক মহিলাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমরা খুশি হয়েছি। কেননা পরিবেশ ধ্বংসকারী কেউ যেন পার না পায় সেটি আমরা সবাই চাই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এ ঘটনা ভিডিও না হলে ভাইরাল না হলে ওই মহিলা গ্রেফতার হতো কি না তা বলতে পারছি না। অথচ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের এ সংশয় থাকতো না। চোখের সামনে সুন্দর বন ধ্বংসের সবরকম আয়োজন সম্পন্ন। কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না। রাষ্ট্রযন্ত্র এক্ষেত্রে নির্বিকার। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ধূসর এক সুন্দরবনের মৃত্যুর ছবি ভাইরাল হওয়ার জন্য। তখন হয়ত রাষ্ট্রপক্ষ দু একটা চুনাপুঁটি ধরে বলবে এর গাফিলতিতে নদী দূষণ হয়েছে। বলে এই ব্যাটা বদমাইশ বর্জ্য ফেলেছে। আমরাও খুশিতে বগল বাজাবো। তাই যদি না হয় তবে যে প্রতিবাদের জন্য আবরারকে হত্যা করা হলো। ভারতের সাথে রাষ্ট্রের সেই অসমচুক্তির কিন্তু কোন হেরফের হয়নি। অভিজিৎ, বিশ্বজিৎ, নিলয়, তনু, নুসরাত, সাগর-রুনি, ত্বকী, রাজনসহ প্রতিটি হত্যায় আইনের শাসন কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে সেটাই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x