ব্রেকিং নিউজ

আপডেট অক্টোবর ৩০, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০, ২১ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১

কানাডায় স্কুল বুলিং’এর শিকার অর্কর আত্মহত্যা

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদনিউজ : কানাডার মিডিয়া সাধারনত আত্মহত্যার কোনো সংবাদ প্রচার করে না। কিন্তু বারো বছর বয়সী স্কুল ছাত্র অর্কর মৃত্যু সংবাদটি মিডিয়ায় এসেছে এবং আত্মহত্যার খবর হিসেবেই এসেছে। অর্কর আত্মহত্যার খবরটি পড়তে পড়তে মনে হয়েছে- এটি বারো বছরের একটি বাচ্চার আতমহত্যার খবরই নয়, এক মায়ের আকুতির বিবরনই নয়, স্কুলে পড়ুয়া আমাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি আমাদের আরো মনোযোগী হ্ওয়ারও তাগিদ আছে এই খবরটিতে।

দুর্বা মুখার্জী নামে ভারতীয় বাংলাভাষী তরুনী মা বারো বছরের ছেলেটিকে নিয়ে কানাডায় এসেছিলেন উন্নত এবং নিরাপদ জীবনের সন্ধানে। কিন্তু এক বছরের মাথায়ই তার জীবনে নেমে এসে গভীর অমানিশা। গত ২১ জুন বাড়ীর কাছেই একটি বিল্ডিং এর পাশে অর্ককে মৃত অবস্থায় পা্ওয়া যায়। ময়না তদন্ত করোনারি অফিস থেকে জানানো হয়, অর্ক ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সন্তানের ম্রতূর প্রায় চার মাস পর মা দুর্বা জানতে পারে- তার ছেলের অসময়ে মৃত্যুর কারন।

বারো বছরের একটি ছেলে আত্মহত্যা করবে কেন? দুর্বার অভিযোগ স্কুলে তার ছেলে ‘বুলিয়িং’ এর শিকার হয়েছিলো্ । সে কারনেই সে আত্মহত্যা করেছে। তিনি ‘পুরো প্রভিন্সজুড়ে বুলিয়িং এর ব্যাপারে তদন্ত চেয়েছেন’।

স্কুলগুলোতে বুলিয়িং হয়- এটা অজানা কোনো তথ্য নয়। কিন্তু সেই বুলিয়িং এর মাত্রা কতোটা? কোনো একটি ঘটনা দিয়ে হয়তো সেই বুলিয়িং এর মাত্রা পরিমান করা কঠিন। কিন্তু সিবিসির সিরিজটা যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই কানাডার স্কুলের পরিস্থিতি দেখে আঁতকে ওঠে থাকবেন।
দুর্বার একটা ভিডিও সাক্ষাতকার দেখলাম। সেখানে তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, তাতে যে কোনো অভিভাবকের উদ্বিগ্ন হবার কারন আছে। অর্ককে সহপাঠীরা পিটিয়েছে, সেটা নিয়ে পুলিশী তদন্ত হয়েছে, তদন্ত শেষে পুলিশ বিষয়টি ‘ক্লোজ’ করে দিয়েছে।কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ‘অর্ক নামের ছেলেটির জীবনের প্রদীপও ক্লোজ হয়ে গেছে।

কেমন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে অর্ককে সময় কাটাতে হয়েছে- তা আমরা জানিনা। সম্ভবত অনুমানও করতে পারবো না। তবু বাবা- মা দের বলি, আপনার সন্তান স্কুলে কি করছে, কাদের সাথে মিশছে, কেমন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ী ফিরছে- জানার চেষ্টা করুন। সন্তানের বন্ধু হ্ওয়ার কোনো বিকল্প আমাদের কিন্তু নেই।

এই খবরটি পড়ে কমেন্টে নাহিদ কবির তার মেয়ের ঘটনা শেয়ার করে বলেছেন, গত বছর আমার মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে খুব arrogant আচরন করত যা তার স্বভাববিরুদধ । পরে জানতে পারি ক্লাসের আরেক মেয়ে তাকে সারাক্ষন চাপে রাখে শুধুমাত্র তার সাথে মিশতে হবে । অংকিতা বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করত । পরে তার আচরনের এই পরিবর্তনের কথা সকুলে ও ডে কেয়ারে জানাই । তৎক্ষনাৎ সেই মেয়েকে অন্য ক্লাসে সরিয়ে দেবার পর আমার মেয়ে আবার হাসিখুশি সেই পুরনো অংকিতা । সন্তানের স্বাভাবিক আচরনের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। তা নাহলে দূর্ঘটনা ঘটলে আর কিছুই করবার থাকবে না।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of