ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৪০ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২১ জিলকদ, ১৪৪১

ঘৃণিত এবং ন্যাক্কারজনক আচরণ মাহি নামের চিত্রনায়িকার!

লিটন এরশাদ

মোহাম্মদ হোসেন জেমী, নিরাপদ নিউজ: অভিযোগের ভিত্তিতে বলছি, অত্যন্ত ঘৃণিত এবং ন্যাক্কারজনক মাহি নামের চিত্রনায়িকার আচরণ। বস্তির মেয়েদের মানসিকতাকেও হার মানায় এসব মাহিরা। কিছু কথিত নায়িকা আছে যারা প্রযোজকদের লুটপাট করে খেতে চায়। চরিত্রের জন্য মানানসই নয় তারপরও দামি পোশাকের জন্য টাকা দাবি, অবাস্তব যাতায়াত ভাড়া (এফডিসি থেকে উত্তরা পনেরশো টাকা, এফডিসি থেকে মগবাজার বারোশো টাকা, উত্তরা থেকে গাজীপুর হোতাপাড়া ৪,০০০ টাকা, এফডিসি থেকে সাভার ৬,০০০ টাকা ইত্যাদি) দুপুরের খাবার, বিকেলের নাস্তা, রাতের খাবার, একজন নায়িকার পেছনে চারজন লোক, তাদের আবার যাতায়াত ভাড়া, তাদের তিনবেলা করে পেট পুরে খাওয়ানো, এদের চাহিদা এবং নখরার শেষ নাই। অথচ এইসব কথিত শিল্পীদের ছবি শুক্র পেরিয়ে শনিবার গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। রবিবারতো সিনেমা হল ফক ফকা। এসব কারণেই আজ একের পর এক প্রযোজক রাগে-অভিমানে এবং জেদে চলচ্চিত্র ছেড়ে চলে গেছেন। অবতার ছবির প্রযোজক ভাইকে বলব বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে লিখিত ভাবে মাহির এই পোশাক প্রতারণার কথা অভিযোগ আকারে তুলে ধরুন এবং আপনার কাছে যা প্রমাণ আছে তা উপস্থাপন করে এর বিচার দাবি করুন। প্রযোজক সমিতির বর্তমান পরিষদ এবং নেতারা আপোষহীন ও নীতিবান। তাদের কাছে সুবিচার পাবেনই।
শুধু মাহি শ্রেণীর নায়িকারাই নয়, আমার নির্মিত হৃদয় থেকে পাওয়া ছবিতে একজন প্রতিষ্ঠিত নায়িকা প্রোডাকশনের ৮টি শাড়ি, পেটিকোট, ব্লাউজ এবং ছয় সেট থ্রি পিস নিয়ে গিয়েছিল। বাংলার মেলার ডিজাইনার এমদাদ ভাইকে দিয়ে প্রতিটি শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ ডিজাইন করানো হয়েছিল। অনেক টাকা খরচ করেছিলাম এই পোশাকের পেছনে। যে দিন রাতে নায়িকা তার অ্যাসিস্ট্যান্ট এর মাধ্যমে কাপড়গুলো নিয়ে যায়, সেদিন আমার প্রোডাকশনের লোকদের বলেছিল পরের দিন ফেরত দিয়ে দিবে। আজ প্রায় ১০ বছর হয়ে গেল ফেরতের নাম নেই।
বাংলালিংকের বিজ্ঞাপন করে পরিচিতি পাওয়া একজন নায়ককে আমার একটা বিজ্ঞাপনচিত্রে নিয়েছিলাম। শুটিং শেষে কোম্পানির মালিককে অভিনব পদ্ধতিতে পটিয়ে, বিগলিত হাসি দিয়ে সেই নায়ক একটি সুট, পাঞ্জাবি, জুতা, মুজা নিয়ে চলে গিয়েছিল। পরে কোম্পানির মালিক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এরা এত ছ্যাঁচড়া হয় কিভাবে?
মজার বিষয় হচ্ছে প্রোডাকশনের পোশাক পড়ে এরা আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যায় এবং এদের ন্যূনতম চক্ষুলজ্জা নেই।
রাজধানী ছবিতে প্রধান ভিলেন শুটিংয়ের শেষদিনে আমার প্রোডাকশনের ড্রেস এবং বিদেশ থেকে আনা একটি টুপি নিয়ে গিয়েছিল। কোনোদিন ফেরত দেয়নি।
এরকম জোড়-জবরদস্তি করে, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে, মিথ্যা কথা বলে প্রযোজকের কাছ থেকে দামি দামি পোশাক নেয়ার ঘটনা এফডিসিতে অগণিত আছে। কিন্তু কোনো নির্মাতা এ বিষয়ে মুখ খোলেন না। শিল্পীদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে বলে। অনেকে আবার আছেন মিউ মিউ স্বভাবের। তাই তারা চুপ থাকেন। এই অনৈতিক, ঘৃণিত আচরণের সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, শাকিব আমার কোন ছবিতে পোশাক নেয়াতো দূরের কথা প্রোডাকশনের একটা রুমাল পর্যন্ত নেয়নি। প্রয়াত মান্না ভাই, মিশা সওদাগর, আলেক, রুবেল ভাই, বাপ্পারাজ, আফজাল শরীফ, জ্যাকি আলমগীর, রিয়াজ, সাদেক বাচ্চু, প্রয়াত নাসির খান, ববিতা আপা, ওয়াসিম ভাই, সুচরিতা আপা, উজ্জ্বল ভাই, ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইসহ আরো অনেক অনেক শিল্পী আমার ছবিতে কাজ করেছেন। কেউ কোনদিন প্রোডাকশনের কাছ থেকে কোন পোশাক দাবি করা বা কোনো বাড়তি সুবিধা আদায় করার জন্য কখনো কোনো চেষ্টা করেননি। এদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অপরিসীম।
পরিশেষে বলবো, আমরা আত্মমর্যাদাশীল শিল্পী চাই। নিচু মনের এবং প্রযোজকদের রক্তচোষা শিল্পী আমাদের দরকার নেই।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x