ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮, বর্ষাকাল, ১৬ জিলহজ, ১৪৪২

বিজ্ঞাপন

ঢাকার দূষিত বাতাসে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ : রাজধানীর শিশু হাসপাতালের অ্যাজমা বিভাগের সামনে অপেক্ষা করছিলেন জলিল খন্দকার। সঙ্গে তার ১১ বছরের কন্যা তিশা। চতুর্থ শ্রেণির তিশা কয়েকদিন থেকেই কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। ধূলোর কারণে মাস্ক পরে স্কুলে গেলেও কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমছেনা তার। তাই শেষমেষ চিকিৎসকের কাছে ধরনা দিতে এসেছেন বাবা-মেয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে বায়ু দূষণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। বায়ুদূষণ নিয়ে ২০ বছর ধরে কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, ঢাকার বাতাসে ধূলোবালি এবং শিল্পকারখানার ধোয়া বেড়ে যাওয়ায় বাতাসের মান দিনদিন খারাপ হচ্ছে। উপরন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় বাতাসের মান খারাপ হচ্ছে। ফলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির শিকার হচ্ছে শিশুরা।

এই অধ্যাপক আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তারা ঢাকা শহরের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাতাসের মানের ওপর পরীক্ষা চালান। সেখানে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বাতাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের চেয়েও চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।

গবেষকরা ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯ থেকে ১০ বছর বয়সী ২৫০ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখতে পান, ১৬.৮% শিক্ষার্থী কাশি, এবং ৫.৬% ছাত্র-ছাত্রী মাইগ্রেন বা মাথাব্যাথায় ভুগছেন। এছাড়াও অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত শিশুর হার ৬% পেয়েছেন তারা। পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যাদের আগে কোন ধরণের শ্বাস-প্রশ্বাসগত সমস্যা ছিলো না, তারাও এখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন না বলে গবেষণায় ধরা পড়েছে।

শিশু রোগীদের জন্য দেশের একমাত্র অ্যাজমা সেন্টার রয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতালে। অ্যাজমা সেন্টারে সম্প্রতি শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাজমা সেন্টারের চিকিৎসকেরা।

শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি শ্বাসতন্ত্রের রোগ হয়। হাঁপানি রোগী হলে তাদের হাঁপানি বেড়ে যায়। আবার অনেকে নতুন করে হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জি, হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। যক্ষ্মার মতো রোগগুলো বায়ুদূষণের কারণে বেড়ে যায়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায় নবজাতক ও শিশুদেরও। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বায়ুদূষণ।’

এদিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে নিরাপদ নেই বড়রাও। বায়ু দূষণের কারণে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগী। গত কয়েকদিনে জাতীয় বক্ষব্যাধী ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যাজমা ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিশু ও বয়স্ক রোগী অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাদিয়া সুলতানা জানান, ঋতু পরিবর্তন ও বায়ু দূষণের কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় গত কয়েকদিন ধরে অ্যাজমা, সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) সহ বিভিন্ন ধরণের শ্বাসতন্ত্রের রোগী হাসপাতালে বেশি আসছে। তিনি বলেন, ‘বায়ু দূষণের কারণে সব বয়সী মানুষের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগ বেড়েছে। তবে বক্ষব্যাধী হাসপাতালে বয়স্ক রোগী বেশি আসছে।’

দেশে বায়ু দূষণের কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার ২০১৯ এর প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বায়ু দূষণের কারণে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x