ব্রেকিং নিউজ

আপডেট নভেম্বর ২৭, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১ আশ্বিন, ১৪২৮, শরৎকাল, ১৮ সফর, ১৪৪৩

বিজ্ঞাপন

আগুনের ঝুঁকি নিয়েই ব্যবসা

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটে সম্প্রতি আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে বসে বুক চাপড়ে আহাজারি ও কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যবসায়ীরা। অনেকের আহাজারিতে শোনা গেছে, সহায়-সম্বল বা পুঁজি বলতে যা কিছু তাদের ছিলো, সবই এ ব্যবসার মধ্যে সংশ্লিষ্ট। যারা ধার-কর্য করে পুঁজি খাঁটিয়েছেন, তাদের এক কথায় পথে বসার মত উপক্রম। রাজধানীর অধিকাংশ মার্কেটের ভিতরে হাজার হাজার দোকান এমনভাবে সরু গলির মতো গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে হাঁটার ন্যূনতম জায়গাটুকু পর্যন্ত নেই। গা ঘেঁষে পথ চলতে হয় ক্রেতাদের।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া দোকানিরা গলিতেই মালামালের পসরা সাজিয়ে বসে। দোকানের কারণে গলিপথে ২ জন মানুষের আসা-যাওয়া করতেই কষ্ট হয়। ফলে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। পরিসংখ্যানে রাজধানীর বেশির ভাগ শপিংমল ও মার্কেট অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে। ওই তালিকায় সিটি কর্পোরেশনের মার্কেটতো রয়েছেই, বেসরকারি মালিকানা মার্কেটও রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকা তৈরি করেছে। ওই মার্কেটগুলোর মধ্যে উত্তরের ৭টি এবং দক্ষিণের ১০টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব মার্কেট ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করে সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড টাঙালেও মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ওই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আশঙ্কা করছি, অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে নগরীর শপিংমল ও মার্কেট সম্পূর্ণ অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোর মধ্যে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, সুন্দরবন স্কয়ার, বঙ্গবাজার হকার্স, ফুলবাড়িয়া, মৌচাক, নিউ সুপার, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, ইস্টার্ন মল্লিকা, ইস্টার্ন প্লাজা, প্রিয়প্রাঙ্গণ শপিং সেন্টার, মোহাম্মদপুর টাউন হল, চন্দ্রিমা, বনলতা, খিলগাঁও সুপার, কারওয়ান বাজার চিকেন, সদরঘাট হকার্স মার্কেটসহ মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকার অনেকগুলো মার্কেট। এসব মার্কেটের কোনোটিতেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পানি ও ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম নেই। অগ্নিকা-ের সময় দ্রুত বের হওয়ার বিকল্প পথও না থাকলেও রয়েছে প্রতিদিন আগুন লাগার যথেষ্ট উপাদান।

অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও অগ্নি আইন (২০০৩) অনুযায়ী ৩০টির বেশি নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর মার্কেটগুলোর অধিকাংশই নিয়ম মেনে ভবন তৈরি করেনি। এমনকি অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে মার্কেটগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডার, পানির রিজার্ভ ট্যাংক, বালুভর্তি বালতি ও রেসকিউ সিঁড়িসহ অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রীও নেই।

আমরা আশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরিভাবে বর্তমানে অগ্নিঝুঁকিতে থাকা মার্কেটগুলোর হালনাগাদ তালিকা তৈরির করবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতর্কও করা হবে। দেখা গেছে ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যে যন্ত্র রয়েছে সেগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ। সেজন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি মার্কেটে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা তা যাচাই করে ট্রেড লাইসেন্স দেয়া উচিত।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x