ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

ঢাকা বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৯ শাওয়াল, ১৪৪১

একমুখী হয়ে পড়েছে ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম: ঋণকে সার্বজনীন করা জরুরি

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ : দেশের ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট গ্রাহককেই বেশি বেশি ঋণ দিচ্ছে, বারবার দিচ্ছে। অথচ ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে নানা সমস্যার কথা বলা হয়। বারবার ও বেশি বেশি যারা ঋণ পাচ্ছেন, তারাই আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলাপি। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকেরই সংঘবদ্ধ একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা স্বার্থ হাসিলে ঋণ খেলাপিদেরই আবার ঋণ পাইয়ে দিচ্ছে। এর বাইরে যারা ভালো যোগাযোগ, মেকানিজম ও বোঝাপড়া (কূট কৌশল) যানেন, অথচ পেছনে তাদের নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তারাও ঋণ পাচ্ছেন। ব্যাংকগুলো বরাবরই তেলা মাথায় তেল দিচ্ছে। অর্থনীতির জন্য এ প্রবণতা ভালো নয় বলে আমরা মনে করি। এর থেকে বের হয়ে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য মূলধন পাওয়ার ক্ষেত্রটিকে আরও সহজ করা জরুরি। ছোট উদ্যোক্তাদের হাতে মূলধন না দেয়া হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মাঠেই ভেস্তে যাবে।

দেশে কুটির, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ চেয়েও পাচ্ছেন না। নানা সমস্যার অজুহাতে নতুন উদ্যোক্তাদেরকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে না বললেই চলে। এর ফলে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ প্রাণশক্তি মাঠপর্যায়ে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বড় শঙ্কার বিষয়। অথচ নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের হার বড়দের তুলনায় বেশি। যা শতকরা ৯০ শতাংশ, ক্ষেত্রবিশেষে তা ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। ছোটদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের যত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তা যদি বড় ঋণে অনুসরণ করা হতো তাহলে ছোটরাও চাহিদা অনুসারে ঋণ পেত। তাই ঋণকে সার্বজনীন করতে যেকোনো মূল্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ উদ্ধার করা জরুরি বলে আমরা মনে করি।

ছোট আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা শুরু, কিংবা বিদ্যমান শিল্পটি একটু বড় করতে বা ব্যবসার প্রসারে ব্যাংকের শতভাগ সহযোগিতার প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। যদিও এ ধরনের উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন স্বল্প সুদেই ওই ঋণ পাওয়ার কথা। এদিকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কেউ ঋণ যদিও বা পাচ্ছেন, সেখানেও থাকছে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো থাবা।

মিলছে না এক অংকের সুদে ঋণ। এ ঋণের বেশিরভাগই ছাড় করা হয় স্বল্পমেয়াদি শর্তে। এতে সুদের হার যেমন বেশি, পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের গ্রেস পিরিয়ডও হয় খুব কম। ফলে কিস্তি পরিশোধে সুদাসলের সীমাটাও হচ্ছে বড়। এতে ব্যবসাটা দাঁড় করানোর আগেই উদ্যোক্তাকে ঋণের টাকা পরিশোধে মনোযোগী হওয়ায় মাঠপর্যায়ে অর্থনীতির অনেক সম্ভাবনা ঝরে পড়ছে। বড় ঋণগ্রহীতারাই কখনো কখনো অবস্থায় প্রেক্ষিতে খেলাপি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বড় ঋণগ্রহীতারাই বড় অংকের খেলাপি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলাপি হবে, এটা কাম্য হতে পারে না।

আমরা মনে করি, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর এই একমুখী প্রবণতা থেকে বের করে আনতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকই। তবে এর জন্য শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না, তা বাস্তবায়নে যতটা কঠোর হওয়া যায় তাই করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of