ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২৭ মে, ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৩ শাওয়াল, ১৪৪১

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

রাসেল কবির মুরাদ, নিরাপদ নিউজ:  কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ২০২০ সালকে সামনে রেখে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ইংরেজী নববর্ষকে উৎযাপন করতে প্রতিদিন নানা বয়সের হাজারো পর্যটক ভীড় করছে সৈকতে। অনেক পর্যটকই থার্টি ফাষ্ট নাইট উৎযাপন করতে আবাসিক হোটেল গুলোতে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। বছরের শেষ সূর্যাস্ত এবং নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখার সূযোগ হাত ছাড়া না হয়ে যায় এজন্য আগে থেকেই প্রস্ততি নিয়ে রেখেছেন। বড়দিনের ছুটিতে হাজারো পর্যটকদের ভীড়ে সৈকত এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সমুদ্রে গোসল,সমুদ্র ভ্রমণ.দর্শনীয় স্থান, কুয়াকাটার কুয়া, বৌদ্ধ মন্দির, রাখাইন তাঁতপল্লীগুলোতেও ভীড় দেখা গেছে লক্ষনীয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ নানা বয়সের পর্যটকদের উম্মাদণায় মুখর এখন সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি কুয়াকাটা।

বেশিরভাগ পর্যটকরাই কুয়াকাটার সৌন্দর্যমন্ডিত এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে সৈকতে থাকা ফটোগ্রাফারদের ফ্রেমে নিজেদের বন্দি করে রাখছেন। যাতে এই স্মৃতি মুছে না যায়। স্কুলগুলোর বার্ষিক পরিক্ষা শেষে মা-বাবার সাথে অথবা ভাবে দল বেঁধে সবাই অবকাস যাপনে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসছেন।
আবাসিক হোটেল গুলো নতুন বছরে পর্যটকদের বরণ করতে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছেন। প্রথম শ্রেনীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নেয়া হয়েছে আলোক সজ্জার প্রস্তুতি। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কেনাবেচা হচ্ছে প্রত্যাশার চেয়ে অধিক। অধিক সংখ্যক পর্যটকদের আগমনকে মাথায় রেখে নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক দম্পতি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলে মেয়েদের পরিক্ষা শেষ এখন স্কুল বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে পরিবারের সকলে মিলে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছেন। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখে ছেলে-মেয়েরা খুব খুশি। এখানকার মানুষ ও পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে তাদের। তবে সংযোগ সড়ক গুলো সংস্কার করা দরকার।

রাজশাহীর নওগাঁ বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হুমায়ূন কবির ও গৌতম কুমার মন্ডল জানান, তারা ২২ জন শিক্ষক পরিবার কুয়াকাটা ভ্রমনে এসেছেন। এখানকার দর্শনীয় স্পট ও রাখাইন পল্লী ঘুরে দেখেছেন। তাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। বিশাল সমুদসৈকত্র এবং নদীর মোহনা দেখে উপভোগ করেছেন। তবে তারা অভিযোগ করেন, খাবার হোটেল গুলোতে খাবারের মানের চেয়ে দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। খাবারগুলো ঢেকে রাখা হয় না। ধুলাবালু থাকে খাবারের উপর, সেই খাবারই খাওয়ানো হচ্ছে সকলকে।

থ্রী-স্টার হোটেল কুয়াকাটা গ্রান্ড এর ব্যবস্থাপক মো.সাওজীদ ইসলাম জানান, নতুন বছরে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্য বিশেষ প্রনোদণা প্যাকেজ রয়েছে। পর্যটকদের বরণে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি রেখেছেন। অনেকেই নতুন বছরে অগ্রিমবুকিং দিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, তাদের হোটেলে বেশির ভাগই বিদেশী পর্যটকরা ওঠেন। তাদের জন্যও রয়েছে বার-বি কিউ প্রনোদণা প্যাকেজ।

কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট এর স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, নতুন বছরে পর্যটকদের বরণ করতে সাজ-সজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। থার্টিফাষ্ট নাইট ও ২০২০ বছরের শুভেচ্ছা হিসেবে রিসোর্টে ৪০% ডিসকাউন্ট থাকছে। এছাড়া ইলিশের পেটে বসে ইলিশ খাবারের উপর থাকছে বিশেষ প্যাকেজ প্রনোদণা।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বুলেট আকন জানান, প্রতিবছর উৎসবমুখর এই দিনটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা, আনন্দসহকারে সবাই মিলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেলগুলো সেজেছে নতুন সাজে। পর্যটকদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সর্বাত্তকভাবে নিয়োজিত রয়েছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার মো.জহিরুল ইসলাম বলেন,থার্টি ফাষ্ট ও নতুন বছরকে বরন করতে সৈকতে আগত বিপুলসংখ্যক পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ হেল্পডেক্স খোলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of