ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জানুয়ারি ৪, ২০২০

ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৬ শাওয়াল, ১৪৪১

২০১৯ সালে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে: সড়কে প্রাণ গেছে ৫২২৭ জনের

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: ২০১৯ সালে ৪৭০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২২৭ জন নিহত এবং আহত হন ৬৯৫৩ জন বলে জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে কাজ করা সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের উদ্যোগে ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান উপস্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে ৪৭০২টি। এতে আহত হন ৬৯৫৩ জন আর নিহত হন ৪৩৫৬ জন। তবে হাসপাতালে ভর্তির পর ও হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার পর আনুমানিক মৃত্যু হয়েছে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৮৭১ জনের। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে নিহতের সংখ্যা ৫২২৭ জন। এছাড়া রেলপথে ১৬২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯৮ জন এবং আহত হন ৩৪৭ জন। অন্যদিকে নৌ দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩০টিতে, নিহত হন ৬৪ জন এবং আহত হন ১৫৭ জন।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালে গত ২০১৮ সালের তুলনায় দুর্ঘটনা অনেক বেড়েছে। যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পড়েন নিসচার চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ত্রুটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করা এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।

নিসচার প্রতিবেদনে এসেছে, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯ জন বাসচালক ও সহকারী এবং ৭২ জন ট্রাকচালক ও সহকারী মারা গেছেন। এ ছাড়া ২ হাজার ৬৬১ জন পথচারী মারা গেছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ। পথচারীরা গাড়ি চাপায়, পেছন দিক থেকে ধাক্কাসহ বিভিন্নভাবে দুর্ঘটনায় পড়েছে। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকা, রাস্তা চলাচল ও পারাপারে মোবাইল ব্যবহার, জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস, পদচারী-সেতু ব্যবহার না করা, যত্রতত্র পারাপারের ফলে পথচারীরা দুর্ঘটনায় পড়ছে।

নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল বছর বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বড় শহর ও মহাসড়কগুলোতে। অবৈধ যানবাহন—ভ্যান, রিকশা, নছিমন, অটোরিকশা এ জন্য দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়। আইনকে অমান্য করে ধীরগতির বাহন মহাসড়কে এখনো চলাচল করে, যা দূরপাল্লার বড় গাড়িগুলোর চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশকে এই ব্যাপারে তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায় না।

২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন করে আসছে নিসচা। এবারের প্রতিবেদনটি ১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, টিভি চ্যানেল ও অনলাইন গণমাধ্যমের তথ্য, নিসচার ১২০টি শাখা সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা সঠিক ও নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা করার দায়িত্ব সরকারের। ইতিপূর্বে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিয়মিত কোনো তথ্য প্রদান না করার কারণে সরকারিভাবে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়ে না। প্রতিবারের মতো এবারও আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি দুর্ঘটনা অনুসন্ধান সেল গঠন করে প্রতিবছরের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য জাতির কাছে উপস্থাপন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা বাড়ছে
নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা ১ হাজার ৯৮টি। নিহত হয়েছেন ৬৪৮ জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৪টি। আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৯০৩টি। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে, ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৫১ জন চালক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগা দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিআরটিএ তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে যেন তাদের কিছুই করার নেই।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শহরে মোটরসাইকেলের চালকদের হেলমেট পরার সুঅভ্যাস গড়ে ওঠা এবং সচেতনতা বাড়লেও গ্রামে জেলা পর্যায়ে ও গ্রামে হেলমেট না পরার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ছাড়া কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রশাসনের সামনে দিয়ে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল ও অপ্রাপ্তবয়স্করা মোটরসাইকেল চালাচ্ছে।

২০১৯ সালের জেলাভিত্তিক সড়ক দুর্ঘটনার হিসাবে নিসচার প্রতিবেদনে এসেছে, সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় (৩০৯টি)। এতে নিহত হয়েছে ৩৩৫ জন ও আহত হয়েছে ৩২৭ জন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়িতে (৭টি)। এতে নিহত হয়েছে ২৭ জন ও আহত হয়েছে ১০ জন। দেশে গত বছর সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ময়মনসিংহে (৪৮৮ জন)। আর সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম মারা গেছেন ঝালকাঠিতে (৫ জন)।

সংবাদ সম্মেলনে নিসচার পক্ষ থেকে আটটি সুপারিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতমগুলো হলো: ট্রাফিক সিগন্যাল মানা, যত্রতত্র পার্কিং না করা, ওভারটেক বিষয়ে আইন প্রয়োগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়গুলো স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা, মিডিয়ায় সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, মহাসড়ক ও প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, সড়কের ত্রুটি দূর করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিসচার মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক, উপদেষ্টা ও বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ প্রমুখ।

আজ সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা নিসচা কর্তৃক ২০১৯ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

নিরাপদ সড়ক চাই এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। সম্মলেনরে শুরুতইে নসিচা পরবিাররে পক্ষ থকেে সড়ক র্দুঘটনায় নহিত জাহানারা কাঞ্চনসহ সকলরে আত্মার মাগফরিাত কামনা করছি এবং শোক- সন্তপ্ত পরবিাররে প্রতি সমবদেনা জ্ঞাপন করছ। ২০১২ সাল থকেে আমাদরে সংগঠন প্রতি বছরই সড়ক র্দুঘটনার প্রতবিদেন জাতরি সামনে উপস্থাপন করে আসছ। ইতমিধ্যে ২০১৯ সালরে প্রতবিদেন আমরা তরৈি করছেি যা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজতি আজকরে এ সংবাদ সম্মলেনে উপস্থতি সকল দনৈকি পত্রকিা, অনলাইন র্পোটাল, ইলট্রেনকি মডিয়িা ও সংবাদ সংস্থাসহ বভিন্নি গণমাধ্যমরে প্রতনিধিবিৃন্দ, সবাইকে জানাই আন্তরকি অভনিন্দন ও শুভচ্ছো।

দশেরে সড়ক র্দুঘটনা গত বছর ২০১৯ সালে বগিত ২ বছররে তুলনায় অনকে বৃদ্ধি পয়েছেে যা ভয়াবহ আকার ধারন করছে। অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দূর্বল ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ক্রটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইন ও তার যথারীতি না প্রয়োগ ইত্যাদিই মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা যায়। এসব মূল কারণকে চিহ্নিত করে ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর আমার সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চনের মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন আমার নেতৃত্বে গড়ে উঠে যার নাম ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। এই সংগঠনের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দেশ ও বিদেশের ১২০টি শাখা সংগঠন সক্রিয়ভাবে জনসচেতনতাসহ সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি বছর আমরা সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকি। আশা করি, আপনাদের মাধ্যমে ২০১৯ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন দেশের জনগণ জানতে পারবেন এবং এর ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেন ও নিজেরা সচেতন হবেন ও সিন্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ এক পলকে ২০১৯ সাল এর সড়ক দূর্ঘটনা
 সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা নির্ণয় করা।
 আহত ও নিহতের সংখ্যা নির্ণয় করা।
 দায়ী যানবাহন চিহ্নিত করা।
 ফলাফল ও বিশ্লেষণ।
 আমাদের করণীয়।

পদ্ধতিঃ
এই পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের কাজটি সম্পাদন করা হয়েছে পুরোপুরি সেকেন্ডারী ডাটা বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে। যা হলঃ

 ১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা।
 শাখা সংগঠনগুলোর রিপোর্ট।
 টিভি চ্যানেল।

 অনলাইন পত্রিকার তথ্য।
 অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা।

২০১৯ সালের সর্বমোট সড়ক পথে দুর্ঘটনার হিসাব

 

২০১৯ সালে রেলপথে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে তারমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিরাজগঞ্জ এর উল্লাপাড়া উল্লেখযোগ্য।

এখানে  হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশী। এর মুল কারণ হিসেবে সিগন্যাল পদ্ধতি ও চালককে দায়ী করা যায়।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দুর্ঘটনাসহ ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়।

মোট নিহতের ২২% চালক

বিআরটিএ কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনকৃত শ্রেণীভিত্তিক যানবাহন ও শ্রেণীভিত্তিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর তালিকা

২০ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত

মন্তব্যঃ

১. আনুমানিক ৪০,০০০(চল্লিশ হাজার) অটো-ট্যাম্পো /অটো-রিকশা মেয়াদউত্তীর্ণ ও টু স্টোক হওয়ার কারণে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ১৩,০০০ (তেরো হাজার) ফোর-স্টোক সিএনজি যুক্ত  হয়েছে।

২. মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মোটরসাইকেল কে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

৩.মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভারী/মধ্যম/হালকা যানবাহন কে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএ কর্তৃক সরবরাহকৃত উপরোক্ত রিপোর্টে দেখা যায় বাংলাদেশে বাসের সংখ্যাও ৪৯,২৭২। এর মধ্যে ৯৯২ টি বাস দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে। এবং ট্রাকের সংখ্যা ১,৫১,৭৮৪, তার মধ্যে ১,০৩৩ টি ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। ১লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৬টি বাস ও ট্রাক মিলে  এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে ২,০২৫টি। বাকি ৪০ লক্ষ যানবাহনে সড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ ২,৬৭৭টি। একই হারে যদি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতো অথবা বাস ও ট্রাক এর সংখ্যা যদি আরোও বেশী হত তাহলে দুর্ঘটনার সংখ্যা গিয়ে  কত দাঁড়াত এবং ক্ষতির পরিমাণ যে কি হত এ বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এর দ্বারা এটা প্রতীয়মান হয় যে, বাস ও ট্রাক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বেশী দায়ী এবং এজন্য তাঁদের  প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতাবৃদ্ধি  ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষন অতীব জরুরি।  সর্বমোট ভারী যানবাহনের সংখ্যা ২,৬১,৮২১ টি হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে ১,৫৪,৭২০টি। এখানে ভারী লাইসেন্সধারী  ১,০৭,১০১ জন চালক কম রয়েছে। অথচ মধ্যম গাড়ীর সংখ্যা ৫৯,৫৫৪ হলেও চালক সংখ্যা ৯৫,৫০৩ জন। মোট ৩৫,৯৪৯ জন মধ্যম গাড়ি চালক বাড়তি রয়েছে। তাছাড়াও হালকা গাড়ির সংখ্যা ৭,২৬,০৪৮। আর হালকা গাড়ি চালকের সংখ্যা ১৯,২১,৯২৮। অর্থাৎ ১১,৯৫,৮৮০ জন হালকা গাড়ি চালক বাড়তি রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই ভারী গাড়ি চালনা করেন। মধ্যম এবং হালকা মিলে মোট ১২,৩১,৮২৯ জন অতিরিক্ত চালকদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষন প্রদান না করে একটি পক্ষ গাড়ি চালকের কমতি আছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহন করেন নাই। আমাদের অনুরোধ থাকলো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদেরকে দিয়ে ভারী গাড়ি চালানোর উদ্যোগ গ্রহন করুন। তাহলে আর কোন ঘাটতি থাকবেনা বলে আমরা মনে করি।

মটর সাইকেল আরোহী

২০১৯ সালে মটর সাইকেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা ১০৯৮ টি। গত ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২১% থাকলেও এ বছর তা কমে ১৯% এ দাঁড়িয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ২% কম । ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রোপলিটন শহরে মোটর সাইকেল চালকদের হেলমেট পরিধানের সুঅভ্যাস গড়ে ওঠা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য জেলা ও গ্রাম গঞ্জে হেলমেট না পরার প্রবণতাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাথে সাথে অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের মোটর সাইকেল চালনায়  কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও প্রশাসনের সামনে দিয়ে লাইসেন্সবিহীন মটোরসাইকেল ও অপ্রাপ্ত বয়সের কিশোরেরা মোটরসাইকেল চালনা করে। বিআরটিএ তথ্য অনুযায়ী দেশে  রেজিস্ট্রেশনকৃত মটর সাইকেল এর সংখ্যা ২৭,৮৬,৯৫৪ টি  এবং লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ১৩,৬০,৭০৩ জন। এতে এটা প্রতিয়মান হচ্ছে যে, বিআরটিএ তথ্য অনুযায়ী ১৪,২৬,২৫১ জন মোটর সাইকেল চালক আইন শৃঙ্খলা বাহিনির নাকের ডগা দিয়ে অবৈধভাবে মোটর সাইকেল চালনা করছে আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিআরটিএ নির্ভীকচিত্তে তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে যেন তাঁদের কিছুই করার নেই। এভাবে চলতে থাকলে মোটরসাইকেল চালকদের দ্বারা সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না বাড়বে আপনাদের কাছেই প্রশ্ন রাখলাম? আঞ্চলিক ও গ্রামীণ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য আরোহীদের হেলমেট না পরার প্রবণতা, ২ এর অধিক আরোহী, বেপারোয়া গতিতে মটর সাইকেল চালানো ও চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলাকে দায়ী করা হয়েছে। এ সমস্ত এলাকায় যদি মেট্রোপলিটন শহরগুলোর মত একইভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মোটর সাইকেলের দুর্ঘটনা ও মৃতের হার আরও কমানো যেত। মটর সাইকেল চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন কানুন সম্পর্কে ব্যাপক ধারনা প্রদান, দেশের অল্প বয়স্ক যুব সমাজ মটর সাইকেল চালনায় বিধিনিষেধ আরোপ ও গতির ক্ষতি সম্পর্কে ধারনা প্রদান কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে মোটর সাইকেলের দুর্ঘটনা ও মৃতের সংখ্যা কমানো সম্ভব।  মোটর সাইকেল বিক্রয়ের পূর্বে ­­বিক্রেতার উচিত অভিভাবকদের সম্মতি গ্রহন করা, ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে মোটর সাইকেল বিক্রয় না করা  এবং নিজেদের তত্ত্বাবধায়নে অরিয়েন্টেশন কোর্স এর মাধ্যমে গাড়ি চালানোর নিয়ম কানুন শিখে লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করে গাড়ি বিক্রয় করা।আমরা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সকল মোটরসাইকেল আমদানিকারক ও বিক্রেদারকে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি।

[*১,*২]  ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৬৬১ জন পথচারী মারা গিয়েছে । যা মোট দুর্ঘটনার ৫০.০৪ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে পথচারীরা গাড়ি চাপায়, পেছন দিকথেকে ধাক্কাসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।পথচারীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত ধারণা না থাকা, রাস্তা চলাচল ও পারাপারে মোবাইল ফোন ব্যবহার, জেব্রা ক্রসিং,আন্ডারপাস,ফুটভার ব্রীজ ব্যবহার না করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের ফলে সড়ক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।

২০১৯ সালের  দুর্ঘটনার মাসওয়ারী হিসাব

২০১৯ সালে জেলা ভিক্তিক দুর্ঘটনার হিসাব

জেলাদুর্ঘটনার সংখ্যানিহতআহত
ঢাকা৩০৯৩৩৫        ৩২৭
চট্টগ্রাম২২৬২৯৯২৫৫
গাজীপুর১৩০৭০১৫৫
ময়মনসিংহ২১১৪৮৮২৬৬
বগুড়া১১৯২৩৮১৩৬
দিনাজপুর১০৫৫৬১২৩
কুমিল্লা১১১৪০১১৬০
নারায়ণগঞ্জ৯৪১৭৯১১০
ফরিদপুর৩৪৮৬৩২
রাজশাহী৫৮৭২৬১
টাঙ্গাইল৮৭২৫৯৯৫
বরিশাল১২৩৩৫৯৯৫
ভোলা৫২৪৬৫০
ঝালকাঠি১২০৫১২
পটুয়াখালী১৮০৭১৮
পিরোজপুর১১০৬১৭
বান্দরবান২২৮৭২০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া৬৯১৮৩৯০
চাঁদপুর৪৮          ২৭৫৫
কক্সবাজার৪৫১০১৫৮
ফেনী৩৫৭৬৪৪
খাগড়াছড়ি০৭২৭১০
লক্ষ্মীপুর৪০৯০৪৮
নোয়াখালী৪৫২০৯৫৬
রাঙ্গামাটি১৮৫৬১৫
গোপালগঞ্জ৬১১২৫৭৮
কিশোরগঞ্জ৮৬২২৯৯৫
মাদারীপুর৬৩১৬৪৬৯
মানিকগঞ্জ৪৫২০৫৫২
মুন্সীগঞ্জ৩৭১১১৪৫
নরসিংদী৩৪৭৮৪১
রাজবাড়ী৩৮৬৯৪৪
শরীয়তপুর০৯৩৫১০
বাগেরহাট৫০১২৭৬৪
চুয়াডাঙ্গা৪৫১৮৪২
যশোর৮০১১০৮৪
ঝিনাইদহ৭২৯৩৭৮
খুলনা৪৩১০৬৫২
কুষ্টিয়া৩৬৩৩৪৬
মাগুরা৪২৮৩৪৬
মেহেরপুর১৮৩০৩২
নড়াইল২০২২২০
সাতক্ষিরা৪৭৩১৪৫
জামালপুর৩৪২৫৩৫
নেত্রকোনা৬৫৮৪৬৬
শেরপুর৩১২১৩৪
জয়পুরহাট৩৩৪৭৪০
নওগাঁ৬৩৪৭৭৩
নাটোর৮২১৮৫৮০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ৩৫৩৫৩৮
পাবনা৬৫১৩০৬৮
সিরাজগঞ্জ১০১২৫৮১৪০
গাইবান্ধা৪৩১১৮৫০
কুড়িগ্রাম৪৫১১০৪৪
লালমনিরহাট৩৭৫৪৫৩
নীলফামারী৪৩১৫৪৭
পঞ্চগড়১৬১২৩১
রংপুর৭৩২২২৮০
ঠাকুরগাঁও২২৪৬৫১
হবিগঞ্জ৮৬১৬০৮২
মৌলভীবাজার৫০২২৬৪৮
সুনামগঞ্জ৩৩৭৫৩৫
সিলেট৭১১৫৭৭৩

এক নজরে গত ৩ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র

সালদুর্ঘটনানিহতআহত
2017334956457908
20183103৪৪৩৯7425
২০১৯৪৭০২৫২২৭৬৯৫৩

 

গত ৩ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার হিসাব

মাস20172018২০১৯
দুর্ঘটনানিহতআহতদুর্ঘটনানিহতআহতদুর্ঘটনানিহতআহত
জানুয়ারী2102817213353846133৪৯৩৮৯564
ফেব্রুয়ারী278359698260324716৩৫২৩৯৪৭৯৪
মার্চ32937767524829152231৮33৯4৪৫
এপ্রিল309371628266309622৩০৬3৩০৪৭১
মে310416784257290607২৯১3৩০4৫২
জুন338435915288402751৩৯৬৪৬২১০৫৭
জুলাই284322943211277488২৪৫2৮২৩৬২
আগষ্ট251297495280341908৩৭৯৪৫৬৬৬৫
সেপ্টেম্বর277368683253291766৩৩২3২৯77০
অক্টোবর2683155462512844653২৩3৬১5৫২
নভেম্বর264301427243245499২৭৭৩০২৫৫১
ডিসেম্বর23130239321126146835০৩৯২601
  মোট3349৪১৪৪+১৫০১(২০%)=

5645

79083103৩৬৯৯+৭৪০

(২০%)=

৪৪৩৯

7425৩৯১৮৪৩৫৬৬৯৫৩
হাস্পাতালে ভর্তির পর ও হাস্পাতাল থেকে রিলিজের পর মৃত্যু আনুমানিক (২০%)৭৮৪৮৭১
সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১৯ সালের সর্বমোট নিহতের সংখ্যা৪৭০২৫২২৭৬৯৫৩

দূর্ঘটনার সংখ্যা:

২০১৯ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪৭০২ টি। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৫৯৯টি বশেী। ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৩৩৪৯ টি। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ২৮৫ টি কম| কিন্তু এবারে ২০১৮ সালের তুলনায় এবার ২০১৯ সালের সড়ক দুর্ঘটনা ২০১৮ সালের তুলনায় তুলনামূলক অনেক বেশী লক্ষণীয়। নিরাপদ সড়ক চাই ( নিসচা) এর দেশব্যাপি ১২০ টি শাখার কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষকদের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রশিক্ষন প্রদান, গাড়ি চালকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ, জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করনীয় সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদান ছাড়াও  কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরবর্তী সড়ক দুর্ঘটনা একটু হ্রাস পেলেও আমরা সড়ক দুর্ঘটনারোধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে তো পৌছাতে পারিনি বরং তা প্রায় ৩১% বেড়ে গেছে। আমরা মনে করি নিরাপদ সড়ক চাই এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও যদি একই উদ্যোগ গ্রহন করা হত তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা এ বছর  কমনো যেত।  সড়ক দুর্ঘটনার এই প্রতিবেদনটি ১১টি জাতীয় পত্রিকা যথারীতি দৈনিক ইত্তেফাক,প্রথম আলো , যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ ও দি ডেইলি স্টার, সময়ের আলো, বাংলাদেশের আলো, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময় ও ডেইলি আওয়ার টাইম পত্রিকা ছাড়াও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার স্ক্রল, অনলাইন নিউজ এবং শাখা সমূহের দুর্ঘটনা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকদের প্রেরিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক আঞ্চলিক তথ্য অপ্রকাশিত রয়েছে যা কোনো মিডিয়ায় উঠে আসেনি।সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা সঠিক ও নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, এটি কয়ার দায়িত্ব ছিল সরকারের। ইতিপূর্বে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ,  সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিয়মিত কোন তথ্য প্রদান না করার কারনে সরকারিভাবে কোন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়না। প্রতিবারের মত এবারেও আমরা যোগাযোগ মন্ত্রানলয় এর অধীনে একটি দুর্ঘটনা অনুসন্ধান সেল গঠনপূর্বক প্রতিবছরের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য জাতির  কাছে উপস্থাপন করার অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে করে সঠিক ও নিখুঁত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যাদি সকলে জানতে পারে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে।

নিহতের সংখ্যাঃ

২০১৯ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় নহিতরে সংখ্যা ৫২২৭। ২০১৮ সালে মোট নহিতরে সংখ্যা ছিল ৪৪৩৯। গত বছরের তুলনায় এ বছর সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭৮৮ জন বশেী। ২০১৭ সালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৬৪৫। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রায় ২৩.৩৬ শতাংশ কম ছিল। গত বছর ২০১৯ সালে ২০১৮ সালরে তুলনায় শতকরা ১৫ শতাংশ বশেী নহিত হয়ছে।

আহতদের সংখ্যাঃ

২০১৯ সালে মোট ৪৭০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৯৫৩ জন লোক আহত হয়েছে। ২০১৮ সালে ৩১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল ৭৪২৫ জন, এ বছর আহতের সংখ্যা ৪৭২ জন কম। গত বছরের তুলনায় আহতের সংখ্যা এবার প্রায় ৬শতাংশ কম বলে রপর্িোটে পাওয়া যায়। অনেক ছোট ছোট দুর্ঘটনায় আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হয় পত্রিকায়ও প্রকাশ হয় না। এদের মধ্যে অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে। যা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরাঃ

২০১৯ সালে বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বড় বড় শহর ও হাইওয়েতে। এছাড়াও অবৈধ যানবাহন যেমন- ভ্যান, রিক্সা, নসিমন, অটো রিক্সা ইত্যাদিকেও এজন্য বেশী দায়ী বলে প্রতিয়মান হয়। আইনকে অমান্য করে ধীর গতির বাহন মহাসড়কে এখনো চলাচল করে যা দূরপাল্লার বড় গাড়ীগুলোর চলাচলে বিঘতার সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশকে এ ব্যাপারে তেমন কোন কার্যকর ভুমিকা পালন করতে দেখা যায় না। অবৈধ যানবাহনের চলাচলে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতাও আছে বলে প্রতিয়মান হয়। তাছাড়াও এ সমস্ত ধীর গতির গাড়ীর হেডলাইট ও ব্রকে না থাকার কারণে ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টিতে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। যেখানে ঘন কুয়াশায় লঞ্চ, স্টীমার, নৌকা এমনকি উড়োজাহাজ চলাচলকেও বন্ধ করে দেয়া হয় সেখানে কুয়াশায় গাড়ী চালনার জন্য নির্দিষ্ট গতি নির্ধারণ করা সত্বেও তা মানা হয় না

যা ইতিপূর্বেও বহুবার বলা হয়েছে তবুও চালক, মালিক ও  আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোনো কার্যক্রম ছখে পড়ছে না। ২০১৯ সালে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড- ভ্যান    মিলিয়ে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে যা সড়ক দুর্ঘটনার ৩৯%। এছাড়াও মটরসাইকেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা শতকরা ১৯%। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এটাও একটি বড় কারণ।তাছাড়া সড়ক পরিবহণ আইন ২১০৮ এখনও পুরোপুরি কার্যকরী না হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ কোন ভূমিকা রাখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরো সোচ্চার হওয়া ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

 

জেলা ভিক্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিশ্লষেণ

জেলা ভিক্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিশ্লেষণ দেখা যায় যে ২০১৯ সালে ঢাকা ও তার আশেপাশে ৩০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩৩৫,  চট্টগ্রামে ২২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সংখ্যা ২৯৯, ময়মনসিংহে ২১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪৮৮ গাজীপুরে ১৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৭০, , বরশিাল ১২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩৬৯ এবং সরিাজগঞ্জ এ ১০১ সড়ক র্দুঘটনায় ২৫৮ জন নহিত হয়ছে।ে অতিরিক্ত লোক সংখ্যা, অপর্যাপ্ত রাস্তা, মটর সাইকেলও রিক্সার আলাদা কোন লেন না থাকা, শহরের মধ্যে পোষাক কারখানা এবং পথচারিদের নিয়ম না মানার প্রবণতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে। প্রায়শই দেখা যায় জেব্রা ক্রসিং, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস থাকা সত্যেও এগুলো দিয়ে পারাপার না হয়ে যত্রতত্র পারাপার, রাস্তায় চলা ও পারাপারের সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাওয়া ও একটি কারণ বলে উল্লেখিত আছে। এ ছাড়াও বড় বড় শহরগুলোতে উল্টোপথে চলাচল একটি অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। ঢাকা শহরে সরকারি আমলাদেরকেও নিয়ম বর্হিভুত উল্টোপথে যাতায়াতের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। আইন প্রযোগকারী সংস্থাগুলো মাঝে মাঝে উল্টোপথে চলার প্রবণতাকে থামানোর জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলেও নিয়মিত পর্য্যবেক্ষণ ও প্রযোগের অভাবে তা কার্যকরী হয় না।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই-বোনেরা

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই যে, জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এসডিজি’এস লক্ষ্যমাত্রায় ২০১১-২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০% কমিয়ে আনার  যে নির্দেশনা ছিলো, আমাদের দেশ ২০১৮ সালের মধ্যে তার ৩৪% লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল কিন্তু ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তা লক্ষমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ২৯% এ নেমে এসেছে। আর মাত্র ১ বছরে বাকি ২১% কমিয়ে আনা দুরহ কাজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিন এশিয়ার ১২ টি দেশের মধ্যে আমাদের দেশ সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে নিচ থেকে ২য় পর্যায়ে ছিলো কিন্তু  ২০১৯ সালের অবস্থান এখনও তথ্য পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ  কর্তৃক ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০% কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা প্রদান করেছিল সে লক্ষ্যমাত্রায় আমাদের দেশসহ অনেক দেশই অর্জন করতে পারেনি। যার ফলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন আমাদের সময় এসেছে ২০৩০ সালের মধ্যে এ লক্ষমাত্রাকে অর্জন করা।এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সকল মহল সমন্বিতভাবে কাজ করে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে এগিয়ে এসে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহন করলে আমরা জাতিসংঘ কর্তৃক নির্দেশিত ৫০% লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেও সড়ক দুর্ঘটনা আরও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো যা ৭০-৮০% করলে আশা করা যায়।

সুপারিশমালাঃ                

সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জরুরি কার্যক্রম গ্রহন করাঃ

এ আইনটি নিয়ে কিছু কুচক্রী মহল জনসাধারণ ও চালকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করছে। আসলে এই আইনটি কোনো  জেল,জরিমানার জন্য নয়, এই আইনটি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য করা হয়েছে। সকলেই যদি আইনটি মেনে চলে তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আসবে যেখানে জেল-জরিমানার কথাই আসেনা।বিশেষ করে এ আইনটি যে চালকবান্ধব (যেমন আইনটিতে চালকদের নিয়োগপত্র, কর্মঘণ্টা কল্যাণ তহবিল, পোশাক) ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে তা বিভিন্ন লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রকাশ ও প্রচার করা যাতে করে চালকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।

সুতরাং এই আইনকে মানার প্রবণতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে যে, ‘সড়ক পরিবহণ আইন ২১০৮’ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, বিষয়টি আদৌ সত্য নয়। শুধুমাত্র আইনের ২ টি ধারায় জুন ২০২০ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি – পূর্বে নিয়ম অনুয়ায়ী ট্রাক/কাভার্ড-ভ্যানের বডি চেসিস অনুযায়ী ২০ ফিট থাকার কথা কিন্তু  বর্তমানে মালিকপক্ষ এগুলোর বডি ২২ থেকে ২৪ ফিটে পরিবর্তন করেছে।বর্তমান আইনে তা ২২/২৪ ফিট থেকে ২০ ফিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরটি যাদের লাইসেন্স হালনাগাদ করার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদেরকে জুন ২০২০ এর  মধ্যে লাইসেন্স হালনাগাত করা এবং যারা হালকা থেকে মধ্যম ও মধ্যম থেকে ভারী লাইসেন্স করতে চাইলে এই সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে

-বিভিন্ন মিডিয়া মাধ্যমে সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান প্রচারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
– স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনারোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
– ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যত্র-তত্র গাড়ী পার্কিং করা, নির্দিষ্ট স্থান ব্যাতিরেকে যেখানে-সেখানে যাত্রি উঠানো-নামানো, ওভার টেকিং করা, পাল্টা-পাল্টি ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করা, গাড়ীর ছাদে যাত্রি বহন করা, ওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং থাকা সত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবনতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

-সরকার কর্তৃক গৃহীত ‘সেইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১,৪১০জন গাড়ি চালক প্রশিক্ষক তৈরি ও ৩ লক্ষ গাড়ি চালকদের আপগ্রেডিং এর জন্য ১২ ও ২৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার  পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা  হলে লাইসেন্সবিহীন চালকরা ২৪ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহনের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আসবে এবং হালকা ও মধ্যম গাড়ির চালকরা ১২ দিনের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে,এ ভারী গাড়ির লাইসেন্স পাবে যা দেশে দক্ষ চালক সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি।

-ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো সকল মহাসড়ক এবং প্রধান সড়কে একমুখী চলাচলের সদ্ধিান্ত নিয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতা সম্পন্ন সড়ক বিভাজন তথা রোড ডিভাইডার-এর ব্যবস্থা করতে হবে। সকল মহাসড়ক এবং প্রধানসড়ক কে অবশ্যই ন্যুনতম চারলেনে উন্নীত করতে হবে। মহাসড়কের পাশে হাটকিুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের মত দুপাশে ধীর গতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা সড়ক (র্সাভসি রোড) নির্মাণ করতে হবে।

-পথচারীদের নিবিঘে চলাচলের জন্য ফুটপথগুলো দখলমুক্ত করে যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় যেনো ফুটপাত দখল না হয় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ ব্যাপারে সকল সিটিকর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়র মহোদয়দের নিকট বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-সড়কের ত্রুটিগুলো অচিরেই দূর করতে হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ত্রুটিগুলো দূর করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে গেছে। একইভাবে অন্যন্য মহসড়কের ত্রুটিগুলো দূর করলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলেও আশা করা যায়।

-দেশের ৬৬ টি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সড়ক দুর্ঘটনারোধে করণীয় সম্পর্কিত যে প্রশিক্ষণ নিরাপদ সড়ক চাই ( নিসচা) এর নিজস্ব অর্থায়নে প্রদান করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষক তাদের স্কুলে যেয়ে ছাত্র-ছাত্রি, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করছে ,একই ভাবে ইমাম প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটসহ মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কে সড়ক দুর্ঘটনারোধে করনীয় সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে যাতে তারা স্ব স্ব এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনারোধে কাজ করতে পারে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আমাদের সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা) মানব কল্যাণের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে বিভিন্ন কার্যক্রম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের অকুতোভয় কর্মীরা সেচ্চাসেবীর ভিত্তিতে রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যাতে করে এ দেশের মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এদেশের রাজপথ যেনো সড়ক দুর্ঘটনার কারণে রক্তে রঞ্জিত না হয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। উল্লেখ থাকে যে, ইতিপূর্বে সরকার অথবা অন্য কোন পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হত না । ২০১২ সাল থেকে আমাদের সংগঠন নিয়মিত ভাবে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবারও নিসচা এরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে। এই কাজটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। ইতিপূর্বেও সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান ছিল সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন তৈরীতে মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি সেল গঠন করা অথবা আমাদের উপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা যাতে করে সড়ক দূর্ঘটনার গবেষণা ও পরিসংখ্যান নিখুঁতভাবে তৈরী করা সম্ভব হয়। বার বার তাগাদা দওেয়া সত্ত্বওে এ বষিয়ে কাঙ্ক্ষতি ফল পাওয়া যায়ন।ি আমাদের এই বক্তব্যগুলো আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে সকলকে জানাবেন, সড়ক দুর্ঘটানরোধে আপনাদের এই সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি পাশাপাশি বিগত ২৫ বছর ধরে আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করে যারা আমাদের সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা সেল এর পক্ষে কেন্দ্রীয় মহাসচিব  সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল।

নিরাপদে পথ চলুন, পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়।

(ইলিয়াস কাঞ্চন)

চেয়ারম্যান

আরো পড়ুন: ‘নতুন সড়ক আইন কার্যকরে বিআরটিএর তৎপরতা কম’

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of