ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জানুয়ারি ১৭, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০, ১৯ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১১ জিলক্বদ, ১৪৪১

ঘুরে আসুন নওগাঁর জাতীয় উদ্যান আলতাদিঘী

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

মনিরুল ইসলাম,নিরাপদ নিউজ:  নওগাঁ জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হলো ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত আলতাদিঘী। ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে একেক ঋতুতে যেমন একেক রূপ ধারণ করে এবং অপরূপ এক সৌন্দর্য বহন করে ঠিক তেমনি ঋতু বদলের সাথে সাথে এর প্রকৃতি ও সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেতে থাকে। আপনি যতবার আসবেন ঠিক ততবার তার অপরূপ সৌন্দর্যে মোহিত না হয়ে পারবেননা। বিশালাকার লম্বাটে এই দিঘীতে শোভা পাচ্ছে নানান ধরনের জলীয় ফুল । তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফুল হলো পদ্ম ও শালুক ফুল। যার অপরূপ শোভা যেন চোখ ধাঁধিয়ে দেবার মতো। দিঘীর চারদিকে তাকালে  শাল গাছ যেন অপরূপ লীলাভ‚মিতে পরিণত করেছে। বাগানের মধ্যে প্রবেশ করলে সব্রাগ্রে চোখে পড়ার মতো একটি দৃশ্য হলো “উঁইয়ের ঢিবি”। এঁটেল-দোঁআশ মাটির এই বাগনে  উঁই পোকা মাটি ঠেলে বিশালাকৃতির নিজেদের রাজপ্রাসাদ তৈরী করে। শীতের সময় নানান ধরণের অতিথি পাখি আসে এখানে, যাদের কল-কাকলীতে মুখরিত থাকে এই বাগানের পরিবেশ। দিঘীতে অৎশ্য পাখির জলকেলিতে যেন প্রকৃতির একটি চমকপ্রদ দিক ফুটে ওঠে। যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে।দিঘীর চারপাশে গ্রাম গুলোতে বসবাস করে সাঁওতাল ও কিছু উপজাতীয় লোক। যারা বিভিন্ন সময়ে এই উদ্যানে ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকে যা চোখে পড়ার মতো। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, সৌন্দর্য ভ‚মি আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পাইকবান্ধা রেঞ্জের অধীন ধামইরহাট বিটে অবস্থিত। রাজশাহী হতে ১১০ কিঃমিঃ উত্তরে নওগাঁ জেলা সদর হতে ৬০ কিঃমিঃ, জয়পুরহাট জেলা সদর হতে ২৭ কিঃমিঃ পশ্চিমে বগুড়া জেলা সদর হতে ৮০ কিঃমিঃ পশ্চিমে এবং ধামইরহাট উপজেলা হতে উত্তরে প্রায় ৫ কিঃমিঃ এর মধ্যে এই বনাঞ্চল তথা জাতীয় উদ্যানটির অবস্থান। আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানের মোট আয়তন ২৬৪.১২ হেক্টর। শালবন এলাকার মাঝে ৪২.৮১ একর আয়তনের একটি বিশাল দিঘী বিদ্যমান আছে। এর নাম আলতাদিঘী। নওগাঁ জেলার এই দিঘীর ন্যায় বৃহৎ ও মনোমুগ্ধকর দিঘী আর নেই। দিঘীটির দৈর্ঘ্য ১.২০ কিঃমিঃ, প্রস্থ ০.২০ কিঃমিঃ। দিঘীটির উত্তর, দক্ষিন, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে বন বিভাগের সৃজিত বাগান ও প্রাকৃতিক শালবাগান রয়েছে, পূর্ব পার্শ্বে কিছু সাঁওতাল উপজাতীর বসবাস রয়েছে। আলতাদিঘীর চতুর্পাশের বাগান, প্রাকৃতিক শালবন এবং সাঁওতাল আদিবাসীদর ভিন্নধর্মী জীবনাচারন দিঘীটির গুরুত্ব ও সৌন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি করেছে যা উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আলতাদিঘী পরিদর্শনে আসেন। আনুমানিক ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দে এ অঞ্চলের রাজা বিশ্বনাথ জগদল রাজত্ব করতেন। সেই সময় এতদাঞ্চলে পানির অভাব প্রকট ধারন করেছিল। কথিত আছে একদিন রানী স্বপ্নে দেখলেন যে, উক্ত এলাকার পানির সমস্যা নিরসনের জন্য একটি বৃহৎ দিঘী করতে হবে। সেই মতে রাণী রাজাকে বললেন আমি পায়ে হেটে যাব এবং যতক্ষন পর্যন্ত আমার পা ফেটে রক্ত না বের হবে ততক্ষন পর্যন্ত হাঁটতে থাকব। আমি যতদুর পর্যন্ত হাঁটব ততবড় একটি দিঘী খনন করে দিতে হবে। রাণীর কথামত পাইকপেয়াদা বাঁদিসহ রাণী হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটতে হাঁটতে রাণী বহুদুর চলে যাচ্ছিলেন। তখন পাইক পেয়াদারা চিন্তা করল রাণী যদি হাঁটতে থাকেন তাহলে রাজার পক্ষে এতবড় দিঘী খনন করা সম্ভব হবে না। তাই তারা হাঁটার এক পর্যায়ে রাণীর পিছন থেকে রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে চিৎকার করে উঠে বলল রাণীমা আপনার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। তখন রাণীমা উক্ত স্থানে বসে পড়লেন। রাজা বিশ্বনাথ জগদল সে পর্যন্ত উক্ত দিঘীটি খনন করলেন। রাণীর পায়ে আলতা ঢেলে দেওয়ার প্রেক্ষিতে দিঘীটির নামকরণ করা হয় “আলতাদিঘী”। আপনিও আসতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্য মন্ডিত আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of