ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ২৭ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২৭ মে, ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৩ শাওয়াল, ১৪৪১

রাস্তায় চলাচলের ১১ টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যা আপনার সন্তানের জানা উচিৎ

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: রাস্তায় চলাচলের ১১ টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যা আপনার সন্তানের জানা উচিৎ নিয়মগুলো জেনে নিন।

১। ট্রাফিক সাইন
সন্তানকে প্রথমেই আমাদের দেশের প্রচলিত ট্রাফিক সাইন সম্পর্কে একটি ধারনা দিন। অর্থাৎ কোন সাইনটির কী ‘অর্থ’, কোথায় কোন সাইনটি থাকলে তা রাস্তা চলাচলের ক্ষেত্রে কি বোঝায়, ইত্যাদি। তবে মনে রাখবেন, আপনার ব্যাখ্যা যেন শিশুসুলভ ভাষায় হয় যেন সে বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে পারে। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি সন্তানকে নিজে রাস্তায় চলাচলের সময় হতে কলমে দেখিয়ে দিতে পারেন।

২। ট্রাফিক সিগন্যাল
আমাদের দেশের ট্রাফিক সিগন্যাল সমূহ অর্থাৎ কোন লাইটের কি মানে তা সন্তানকে হাতে কলমে শিক্ষা দিন। মনে রাখবেন এসব বিষয় আপনার জন্য খুব সহজ হতে পারে, কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য নয়। তাই অলসতা না করে অর্থাৎ শুধু ছবি বা অনলাইনে না দেখিয়ে সরাসরি তাকে ট্রাফিক সিগন্যালের সম্পূর্ণ ধারনা দিন।

৩। জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যাবহার
রাস্তা যতই খালি থাকুক সন্তানকে সবসময় ফুট ওভার ব্রিজ ব্যাবহারের জন্য উৎসাহিত করবেন। ফুট ওভারব্রিজ না থাকলে যেখানে জেব্রা-ক্রসিং রয়েছে সেখান দিয়ে সিগন্যাল পরলে যেন সে রাস্তা পার হয়, এ বিষয়ে সঠিকভাবে শিক্ষা দিন। সম্ভব হলে নিজে তাকে নিয়ে কিছুদিন বাহিরে হাটতে বের হন এবং রাস্তা পারাপারে জেব্রা-ক্রসিং ও ফুট ওভার ব্রিজ ব্যাবহার করুন। যেন সে আপনাকে দেখে নিজে থেকেই অভ্যস্ত হয়।

৪। ফুটপাথ ব্যাবহার
আমাদের দেশের রাস্তা গুলোয় বিশেষ করে শহুরে রাস্তায় ফুটপাথ প্রায় সময় হকারদের দখলের জন্য থাকে ব্যাবহারের অযোগ্য। কিন্তু তারপরেও সন্তানকে যতটা সম্ভব ফুটপাত ব্যবহারের নির্দেশ দিন।

৫।জেব্রা-ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ বিহীন রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে
যেসব স্থানে রাস্তা পারাপারের জন্য জেব্রা-ক্রসিং বা ফুট ওভার ব্রিজ নেই সে সমস্ত স্থানে সন্তানকে ট্রাফিক সিগন্যাল অর্থাৎ গাড়ি জ্যামে পরলে পার হওয়ার জন্য বলুন। তবে অবশ্যই সবাই দলবেঁধে যখন পার হবে তখন সেই ভীরের সাথে রাস্তা পার হওয়ার জন্য পরামর্শ দিন।

৬।থামো, দেখো তারপর পার হও
শব্দ তিনটি অনেকটা মন্ত্রের মত শিখিয়ে দিন আপনার সন্তানকে। যেন সে প্রতিবার রাস্তা পারাপারের সময় অবশ্যই প্রথমে থেমে ডানে-বামে দেখে নেয় এবং এরপর নিরাপদ হলে তারপর রাস্তা পার হয়।

৭। কান খাড়া অর্থাৎ সতর্ক অবস্থা
রাস্তা পার না হয়েও অর্থাৎ ফুটপাত দিয়ে হাটার সময়ও কিন্তু বিপদ ঘটতে পারে। কারণ আমাদের দেশের ফিটনেস বিহীন গাড়ি সাথে লাইসেন্স বিহীন চালক, -এ দুয়ে মিলে ফুটপাত দিয়েও তারা অনেক সময় গাড়ি তুলে দিয়ে থাকে। তাই, রাস্তায় চলার সময় সন্তানকে বলবেন অবশ্যই তারা যেন জোরে কোন হর্ন শুনলেই আশেপাশে তাকিয়ে সতর্ক হয়ে যায়।

৮। রাস্তায় খেলা করা বা দৌড়াদৌড়ি করা থেকে বিরত থাকা
অনেক বাচ্চারাই দেখা যায় স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার সময় নিজেদের মধ্যে দুষ্টুমিচ্ছলে ফুটপাতে দৌড়াদৌড়ি বা খেলা করে থাকে। খেলতে খেলতে একসময় তারা রাস্তায়ও নেমে যায় যা খুবই বিপদজনক। তাই প্রত্যেক অভিভাবকের উচিৎ সন্তানকে রাস্তায় হাটার সময় এরকম বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া।

৯। গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা না দেয়া
স্বাভাবিক ভাবেই যেকোনো বাচ্চাকাচ্চা গাড়িতে চরলে জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা হচ্ছে তাদের কাছে একরকম খেলার মত। তাই সন্তান বাসে চরলে কখনও যেন জানালা দিয়ে মাথা বা হাত না দেয় শেষদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখা উচিৎ।

১০। রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে বাঁক বা মোড়ের রাস্তা ব্যাবহার না করা
রাস্তার যে সমস্ত স্থানে বাঁক বা মোড় রয়েছে সেসব স্থান দিয়ে অবশ্যই পারাপার না হওয়ার জন্য সন্তানকে নির্দেশ দিবেন। রাস্তায় বাঁকের কারণে অপর পাশে গাড়ি আছে কি নেই তা জানা যায় না। তাই রাস্তায় চলাচলের সময় সন্তানকে বাঁক বা মোড়ের রাস্তা পার হওয়া থেকে ১শ হাত দূরে থাকার নির্দেশ দিন।

১১। তাড়াহুড়ো কে না বলুন
“আরেকটু জলদি না হাঁটলে স্কুলে আজ দেরি হয়ে যাবে বা এক্সাম মিস হবে বা ইত্যাদি আরও অনেক কিছু হবে।” -এরকম পরিস্থিতিতে সন্তানকে স্থির ও শান্ত হবার জন্য উৎসাহিত করুন আর তারাহুরোকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করুন। কারণ, স্কুলের এটেন্ডেন্স মিস হওয়া বা পরীক্ষায় দেরি হওয়া থেকে আপনার সন্তানের মূল্য অনেক বেশি।

স্কুল পড়ুয়া শিশুদের একটি স্বাভাবিক স্বভাব হচ্ছে, রাস্তায় হাটার সময় তারা একসাথে ৪-৫ জন জটলা পাকিয়ে হাটে। এতে করে ফুটপাতে অন্যদের হাটার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় অথবা অন্যান্য পথচারীরা রাস্তা দিয়ে হাটতে বাধ্য হয়। আবার শিশুদের মাঝে সাধারণত শুধুশুধু রাস্তা পার হওয়ার একরকম প্রবণতা থাকে, যা খুবই ভয়ের কারণ। তাই রাস্তায় চলাচলের সময় এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় গুলো তুলে ধরে তাদের মাঝে এগুলো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া উচিৎ।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of