ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ১১ শাওয়াল, ১৪৪১

মাঘের শীতে কাবু রংপুর: যেন স্তব্ধ হয়েছে গোটা অঞ্চল

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: ‘মাঘের জারে (ঠাণ্ডায়) বাঘ কাঁন্দে’ রংপুর অঞ্চলের এই প্রবাদের প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহে সোমবার থেকে এ অঞ্চলে নতুন করে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে শ্রমজীবীসহ নদীপারের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। প্রচণ্ড শীতের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় ক্ষেতমজুররা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

শীতের দাপটে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় যেন স্তব্ধ হয়েছে গোটা অঞ্চল। আজ মঙ্গলবার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কাছাকাছি আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কমপক্ষে আরো দু-একদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

জানা যায়, পর পর কয়েক দফায় ঘন কুয়াশাসহ মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রংপুর অঞ্চলে শুরু হয় শীতের দাপট। রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝড়ে মাঠ-ঘাট-প্রান্তর ভিজিয়ে দেয়। সাথে পশ্চিমা হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের আট জেলার মানুষ। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষজন শীতের কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার সকালে রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। শীতের কারণে রংপুরের রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারে জনসমাগম আগের তুলনায় অনেক কম। চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির মতো কুয়াশাপাত ঘটছে। শীতের কবল থেকে বাঁচার জন্য গ্রামাঞ্চলে লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে উঞ্চতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। শীতের এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর অবস্থাও কাহিল হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলোকে দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতে অভাবী মানুষজনের জীবন বাঁচানো দায় হয়ে পড়েছে।

পশ্চিমা বাতাসে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মানুষজন ঘরের বাইরে যেতে না-পারায় রাস্তা-ঘাট ও হাট-বাজার ছিল অনেকটাই ফাঁকা। মাঠেও কাজ করার সাহস পায়নি কৃষি শ্রমিকরা। নগরীর চব্বিশ হাজারী এলাকার দিনমজুর মনছুর আলী বলেন, থাকি থাকি এবার এমন ঠাণ্ডায় শরীল (শরীর) দুর্বল হয়া গেইছে। কাম (কাজ) করি ক্যামনে! ঠাণ্ডার কারণে শ্রম বিক্রি করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র লোকজন। শীতবস্ত্রের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শীতের কারণে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ময় কুমার জানান, মূলত শিশুরাই শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। এবারে কোল্ড ডায়রিয়া আর নিউমানিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশুদের গরম কাপড় পরানো এবং সকালে ও সন্ধ্যার পর তাদের ঘরের বাইরে বের না করার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of