ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৮ শাওয়াল, ১৪৪১

হতাশা নিয়ে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোতে নদী পারাপার!

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘটা করে উদ্বোধন হয়েছে সেতুর নির্মাণকাজ। ভিত্তিফলক উন্মোচনেই সীমাবদ্ধ তা। দেড় বছরেও শুরু হয়নি সেতুর কাজ। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর শিবগঞ্জ ও কালনা ঘাটে দুটি সেতু নির্মাণের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। স্থানীয় বাসিন্দারা হতাশা নিয়ে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোতে হচ্ছেন নদী পারাপার। আশা নিরাশায় দুলছে সেতুর স্বপ্ন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সেক্ষেত্রে উপজেলার শিবগঞ্জ ঘাট ও কালনা ঘাট এলাকায় এ দুটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প পাশ হয়। শিবগঞ্জ ঘাটে ২৯৪ মিটার সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

আর কালনা ঘাটে ৩৫০ মিটার সেতু নির্মাণকাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। প্রকল্প পাশ হওয়ার পর যথাযথ নিয়মে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। কাজ দুটি পায় নওগাঁর একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার কাজ শুরুর কার্যাদেশ পান ২০১৮ সালের ১৪ মে। আর প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু নানা জটিলতায় কাজই শুরু করতে পারেননি ঠিকাদার।

সরেজমিনে দেখা যায় শিবগঞ্জ ও কালনা ঘাটে রয়েছে সেতুর ভিত্তিফলক। স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর সেতু দুটির নির্মাণকাজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। কাজ শুরুর অপেক্ষার পালা শেষ হয়নি অদ্যাবধি। এ অবস্থায় লোকজন যাতায়াত করছেন বাঁশের সাঁকোতে।
শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গৌতম চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, ‘এলাকার মানুষের স্বপ্ন এখানে একটি সেতু হবে। গত নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করায় সে প্রত্যাশা জোরালো হয়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওটা ছিল লোক দেখানো।’
সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন,‘শিবগঞ্জ ঘাটে সেতু নির্মাণ হলে অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৪০/৫০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে। জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াতে দূরত্ব ও সময় কমে যাবে।’
কালনা ঘাটে আত্রাই নদীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহিষবাথান বাজার। এই বাজারে সপ্তাহের ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়। এখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কয়েকটি ব্যাংক ও একটি সরকারি খাদ্য গুদাম রয়েছে।
হাতুড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন,‘নির্বাচনের আগে বেশ ঘটা করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেলেন এমপি। এখন আর সেতু নির্মাণের খবর নেই। ঠিকাদার একটা ইটও ফেলেননি।’
এলজিইডি নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বলেন, ‘দুটি সেতু নির্মাণে যে নকশা পাঠানো হয়েছিল তাতে বড় ধরণের ভুল ছিল। সেতুর দূরত্ব বেশি দেখানো হয়েছিল। এসব ভুলভ্রান্তি দূর করে নতুন করে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। নতুন করে পাঠানো প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। দ্রুতই নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা যাবে। আগামী অর্থবছরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।’

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of