ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০, ১৮ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১০ জিলক্বদ, ১৪৪১

‘সন্তানদের উপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে না দিয়ে তাদের পছন্দের গুরুত্ব দিন’

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

তানিয়া,নিরাপদ নিউজ: রাজিব মেধাবী ছাত্র। এডুকেশনাল সার্টিফিকেট সব গুলোতেই চমৎকার রেজাল্ট , কিন্তু ভালো জব পাচ্ছে না। দিন দিন আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে। সাথে সাথে বাবা মাও চিন্তিত। কয়েকদিন আগে আমার প্রতিবেশী একজন এর সাথে কথা হলো, তার সন্তান জব পেয়েছিলো একটা বায়িং হাউস এ কিন্তু কিছুদিন পর তার জবটা চলে যায়। এই ভাবে দুইটা জব অল্প কয়েকদিনেই হারায়। আবার নতুন জব এর জন্যে চেষ্টা করেছে।

উপরের উদাহরণ গুলো খুবই অহরহ বর্তমান সময়ে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, আমার ছেলে মেয়ের রেজাল্ট ভালো , গোল্ডেন জি পি এ পাওয়া , স্কলার কিন্তু ভালো চাকরি পাচ্ছে না কিংবা চাকরি তে সফলতা নাই। এটা এই দেশের জব মার্কেট এর সমস্যা। তাদের জন্যে একজন মানব সম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে আমার কিছু পরামর্শ।

আপনার সন্তানের মাঝে দায়িত্বশীল কাজের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধৈর্য , নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা এই গুণাবলী বর্তমান সময়ের ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টদের মধ্যে দৃশ্যমান কম হয় যা কিনা পূর্ববর্তী জেনেরেশন মনে করেন। যারা এই সমস্ত গুনাবলী অর্জন করতে পারবে তাদের এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। অভিভাবক হিসেবে সন্তানদের মধ্যে এই সমস্ত গুণাবলী ছাত্র জীবন থেকেই অভ্যাসে পরিণত করতে সহায়তা করা উচিত।

সন্তানদের এই ধারণা দেবার কোনো কারণ নেই যে সফলভাবে ছাত্র জীবন শেষ করলেই ভালো ক্যারিয়ার গড়া যায়। বর্তমান কর্ম জীবনের সফলতা ভালো রেজাল্ট এর চাইতেও নানাবিধ সফ্টস্কিল এর উপর নির্ভর করে। এ ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি । সৃজনশীল কাজে তাকে উৎসাহিত করুন, যেকোনো বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার দিকে মনোনিবেশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন ।

স্কুল কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা , বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বি এন সিসি সহ অনান্য কর্যক্রমে আপনার সন্তানএর আগ্রহ অনুযায়ী তাকে অংশগ্রহনে উৎসাহিত করুন।

আপনার সন্তানকে সাপোর্ট দিন, অনুপ্রেরণা দিন , প্রয়োজন মতো অর্থ খরচ করুন সাথে সাথে অর্থ উপার্জনের চিন্তাও মাথায় ঢুকিয়ে দিন। লেখা পড়ার শেষ হলেই নিজের দায়িত্বে অর্থ উপার্জনের জন্য মানসিক ভাবে তৈরী করতে হবে।

ইন্টারনেট এর যুগে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী নির্বাচনের সময় তার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম চেক করে থাকে। কাজেই আপনার সন্তানকে বুঝাবেন পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং টা যেন মার্জিত সুন্দর হয়।

সন্তানদের উপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে না দিয়ে তাদের পছন্দের গুরুত্ব দিন। তাদের পছন্দের ক্যারিয়ার তৈরিতে সাহায্য করুন। আর সে যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সেক্ষেত্রেও তাকে তার ইন্টারেস্ট, প্যাশন, দক্ষতা, ভবিষ্যত চাহিদা সব কিছু বিবেচনা করে তাকে সাহায্য করুন সঠিক ক্যারিয়ার পাথ নির্বাচনে। এ ব্যাপারে প্রফেশনালদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে , উপদেশ দেবার সাথে সাথে আপনার নিজের মধ্যে যদি সুন্দর স্বভাব গুলো সন্তানরা দেখতে পায়, তবে তাদের জন্যে সহজ হবে ছোট বেলা থেকেই নিজেকে সর্বগুণান্বিত করে গড়ে তোলা। কেননা পরিবার হচ্ছে প্রথম শিক্ষা স্থান।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of