ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১ শ্রাবণ, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২৪ জিলকদ, ১৪৪১

অবশেষে ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট কার্যকর: উদ্বেগের বিষয় রয়েছে বাংলাদেশেরও

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: এখন থেকে আর ইউরোপিয় ইউনিয়নের অংশ নয় বৃটেন। ‘ব্রিটেন এক্সিট’কে সংক্ষেপে বলা হয় ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এটি। ৪৭ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালে গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। অধিকাংশ ভোটার ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন। এই ভোটের পর সেখানকার রাজনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়। যার ফলে পদত্যাগ করতে হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে। গণভোটে সমর্থনের তিন বছরেরও বেশি সময় পর, বহু ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ পাড়ি দিয়ে, বিতর্ক ও নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে গেল বৃটেন। ফলে ইইউ নীতিতে যুক্তরাজ্যের আর কোনো প্রভাব থাকবে না।

ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য কেমন বাণিজ্য শুল্ক নির্ধারণ করে, তা নিয়েও উদ্বেগের কারণ আছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশি পণ্যের তৃতীয় ক্রেতা যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পর তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় আসে যুক্তরাজ্য থেকে। ফলে কোনো কারণে দেশটিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাধাগ্রস্ত হলে দেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গত শুক্রবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়া ছাড়াছাড়ির প্রস্তাবের ঐতিহাসিক মুহূর্তে ব্রেক্সিটের পক্ষের বৃটিশ নাগরিকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে পার্টি করেছে ব্রেক্সিটপন্থীরা। ঠিক তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বিপক্ষ শিবিরে। তারা রাতের বৃটেনে ব্রেক্সিট বিরোধী বিক্ষোভ করে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে মত দেয়ায়, তাদের পক্ষাবলম্বকারীরা মোমবাতি প্রজ্বলন করে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবশ্য এরই মধ্যে ‘নতুন ভোরের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ব্রেক্সিট তার কথায়, ‘সত্যিকারের জাতীয় পুনর্জাগরণ ও পরিবর্তনেরই মুহুর্ত’।

ব্রেক্সিট নিয়ে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কারণ বাংলাদেশিদেরও। বাংলাদেশ থেকে ইংল্যান্ডে গিয়ে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম শেষে সেদেশের নাগরিক হয়েছেন, কারো জন্ম ইংল্যান্ডেই। আবার কেউ ইউরোপের অন্য দেশে নাগরিকত্ব পেয়ে ইংল্যান্ডে এসেছেন আরো উন্নত জীবনের আশায়। এতোদিন ইউরোপিয়ান মানবাধিকার আইনের যে সুফল ইমিগ্র্যান্টরা ভোগ করছেন, বিশেষ করে ১০ বছরে ‘ইনডিফিনিট লিভ টু রিমেইন’ পাবার নিয়মটি থাকবে কিনা এনিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও ব্রেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর হতে আরো এক বছর সময় লাগবে। কিন্তু কড়া অভিবাসন নীতি চালু হলে অভিবাসীদের ভবিষ্যত কেমন হবে, সে নিয়ে সংশয় থাকছেই।

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পাদনের আগে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ করে না দেয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। যদিও গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের একজন মন্ত্রী চিঠি পাঠিয়ে ব্রেক্সিটের পরও বাংলাদেশের জন্য ইবিএ সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তবে এ ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা চেয়েছিলেন। সংশয় ও আশঙ্কা ঝেড়ে ফেলা না গেলেও আমরা আশা করব, ব্রেক্সিটের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে, এমনটিই আমরা আশা করছি।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x