ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৪ শাওয়াল, ১৪৪১

বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র শতবর্ষী খ্রীষ্টিয়ান কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের লিচুবাগান খ্রীষ্টিয়ান কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্রে অর্থ সংকটসহ নানা কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদেশি সাহায্য বন্ধ, সরকারিভাবে দেশ থেকে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল ঘোষণায় শতবর্ষী এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। তারা বলছেন, মরলে তারা হাসপাতালেই মরবেন। কারণ বাইরে তাদের কেউ ছুঁয়ে দেখবে না। চন্দ্রঘোনা কুষ্ঠ হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা মো. আফজাল জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ২৮ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ২০ জন, মহিলা আটজন। তাদের চিকিৎসা চলছে কোনো রকমে। কয়েকজন কুষ্ঠ রোগী বলেন, আমরা এ হাসপাতালে ৩০-৩৫ বছর ধরে চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি ভালো হয়েছি। তবু সমাজের অনেকে আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছল্য করে, অভিশপ্ত বলে। আমাদের ঘরবাড়ি থাকলেও আমাদের সেখানে বসবাস করতে দেয় না। হাসপাতালেই আমাদের বাঁচা-মরা। আমাদের বাঁচাতে বিত্তশালী ও বিদেশি এনজিওদের এগিয়ে আসতে হবে।’ হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে জিরো লেপ্রসির (কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ) যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সেই লক্ষ্যে এই চিকিৎসা কেন্দ্র কাজ করছে। ইংল্যান্ডভিত্তিক দ্য লেপ্রসি মিশনের অর্থায়নে এই কুষ্ঠ হাসপাতাল পরিচালিত হতো। কিন্তু ১৯৯৪ সালের পর থেকে তারা অর্থায়ন কমিয়ে দেয়। ২০১০ সালের পর থেকে তাদের অর্থায়ন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কোনো রকম সরকারি-বেসরকারি সাহায্য ছাড়া অনেকটা খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটি।

এরপরও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চন্দ্রঘোনা কুষ্ঠ হাসপাতাল রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে, পাশাপাশি তাদের ওষুধ ও খাবার দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, কুষ্ঠ রোগীদের জন্য একটা আশ্রম গড়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সাহায্য ছাড়া এই আশ্রমের কার্যক্রম চালানো কঠিন। সেই ক্ষেত্রে বিত্তবান লোকেরা এগিয়ে এলে কুষ্ঠ রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। কুষ্ঠ হাসপাতালটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র হাসপাতাল। এটিকে চালু রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। জানা যায়, ৬০ শয্যাবিশিষ্ট চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান কুষ্ঠ হাসপাতাল ১৯১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত কুষ্ঠ রোগী চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন নিজ পরিবারে। চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের প্রোগাম অফিসার বিজয় মার্মা জানান, ১৯১০ সাল থেকে তিন পার্বত্য জেলার উপজাতীয়দের মাঝে ব্যাপকভাবে কুষ্ঠ রোগ দেখা দেয়। কুষ্ঠ রোগ নিরসনে নেদারল্যান্ডসের আর্থিক সহযোগিতায় হাসপতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময়ে উপজাতীয় কুষ্ঠ রোগীদের জন্য আলাদা ঘরে রেখে চিকৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হতো। সমাজে কুষ্ঠ রোগীদের নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকায় রোগীদের একসঙ্গে বসবাসের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কুষ্ঠ পল্লি প্রতিষ্ঠা করে। সাড়ে চার একর পাহাড়ি জায়গা নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের শেষ সীমান্তে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় ঝুমপাড়া কুষ্ঠ পল্লি তৈরি করা হয়। সংশ্নিষ্টরা জানান, আগের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রকল্প দিতে চায় না। অনেকের ধারণা, দেশে কুষ্ঠ রোগী নেই। সে জন্য কুষ্ঠ হাসপাতাল চলছে খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের নিজস্ব অর্থ থেকে। এ বছর হাসপাতাল থেকে ৪২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা দিয়ে কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কুষ্ঠ হাসপতালের ছয়টি ওয়ার্ড পরিদর্শনে দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা কুষ্ঠ রোগীরা খোশগল্পে মেতে আছেন। ২৫-৩০ জন রোগী হাসপাতালের বারান্দায় আলোচনায় মুখর। কারও পায়ে, কারও হাতে, আঙুলে, কারও ঘায়ে লালচে ক্ষত। আবার কারও শরীর থেকে পা বিচ্ছিন্ন। হাসপাতালের ৪নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কুষ্ঠ রোগী আনোয়ার হোসেন ও শেফালী আক্তার বলেন, ‘অনেকটা পারিবারিক পরিবেশে চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতা সেবায় এই কেন্দ্রে চিকিৎসা পাই আমরা। এখানে আমরা অনেক ভালো আছি। আমরা সমাজের অংশ। আমাদের বাঁচাতে সরকারসহ বিদেশি সাহায্য দরকার।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of