ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৬ মিনিট ২৭ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৯ মে, ২০২১, ২৬ বৈশাখ, ১৪২৮, গ্রীষ্মকাল, ২৬ রমজান, ১৪৪২

বিজ্ঞাপন

দেশবরেণ্য কন্ঠশিল্পী লায়লা আর্জুমান্দ বানুর আজ ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

আজাদ আবুল কাশেম,নিরাপদ নিউজ: নজরুল গীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, গজল, আধুনিক ও লোকসঙ্গীতের অসামান্য প্রতিভার অধিকারী- লায়লা আর্জুমান্দ বানু’র আজ ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের, ১০ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। প্রয়াত খ্যাতিমান কন্ঠশিল্পী লায়লা আর্জুমান্দ বানু’র স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত প্রার্থনা করি।

বিজ্ঞাপন

লায়লা আর্জুমান্দ বানু ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই জানুয়ারী ঢাকার এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পৌত্রিক বাড়ি সোনারগাঁ-এর শাদীপুরে। পিতার নাম সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর (ইতিহাসবিদ-লেখক ) এবং মাতার নাম সৈয়দা সারা তৈফুর (লেখিকা , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট মেম্বার , জেল ভিজিটর, পাকিস্তান ফিল্মস সেন্সর বোর্ডের সদস্য এবং ঢাকার রেডিওর ব্রডকাষ্টার ছিলেন )। তাঁর বড় বোন ঢাকা রেডিওর( অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র) প্রথম বাঙ্গালী মুসলিম মহিলা নাট্যশিল্পী, বেগম লুলু বিলকীস বানু। তিনি ঢাকা রেডিওর কেন্দ্রের সর্বপ্রথম বাঙ্গালী মুসলিম মহিলা কন্ঠশিল্পী। তাঁর ছোট বোন ঢাকা রেডিওর দ্বিতীয় বাংগালী মুসলিম মহিলা কন্ঠশিল্পী, বেগম মালেকা পারভীন বানু।
লায়লা আর্জুমান্দ বানু ঢাকার ইডেন বালিকা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া সমাপ্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ও দর্শনশাস্ত্রে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

লায়লা আর্জুমান্দ বানু প্রথমে উচ্চাংগ সংগীত-এ শিক্ষা লাভ করেন পন্ডিত রমনী মোহন ভট্রাচার্য এবং ওস্তাদ গুল মোহাম্মদ খানের কাছে। ১০বছর বয়সে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশু কন্ঠশিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন। সেদিন তিনি প্রথমে- “খেলার সাথী এসো এসো আমার খেলা ঘরে” গানটি সমবেত কন্ঠে এবং পরে- “নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি জল” গানটি একক কন্ঠে গাওয়ার মধ্যমে সংগীত জগতে পা রাখেন। এই গান দুটির গীতিকার যথাক্রমে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
তিনি টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু করেন ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ।

নজরুল গীতির বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত লায়লা আর্জুমান্দ বানু, চলচ্চিত্রের গানেও কন্ঠ দিয়েছেন। চলচ্চিত্র কন্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি “সাহুনী”(উর্দু)। তারপরে তিনি আরো কন্ঠ দেন- এহতেশাম পরিচালিত “এদেশ তোমার আমার” এবং মহিউদ্দিন পরিচালিত ও সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ প্রযোজিত “মাটির পাহাড়” ছবিতে।সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ( চিত্রপরিচালক-প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা “চিত্রালী”র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক) তাঁর চাচাতো ভাই।

ব্যক্তিজীবনে লায়লা আর্জুমান্দ বানু , প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব মোঃ শামসুল হুদা চৌধুরীর সংগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান ডঃ শাহনাজ হুদা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং চেয়ারম্যান)।
লায়লা আর্জুমান্দ বানু ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা সরকারী সংগীত মহাবিদ্যালয়ের অবৈতনিক অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ঢাকা জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি, নজরুল স্বরলিপি শুদ্ধীকরণ বোর্ড-এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সংস্কৃতি কমিশনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে প্রকাশিত ঢাকা পাস্ট প্রেজেন্ট ফিউচার-এর সংগঠনিক কমিটির সদস্য ছিলেন।

লায়লা আর্জুমান্দ বানু মূলত উচ্চাংগ সংগীত শিল্পী, কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, আধুনিক গান, গজল এবং লোকসংগীতের ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেন।
তিনি বাংলা, উর্দু , ফার্সি, তুর্কি এবং রুশ ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন ধরনের সংগীত পরিবেশনে পারদর্শী ছিলেন।
তিনি ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ইরানের শাহ রেজা পাহলবীর নিকট থেকে ‘অভিষেক পদক’ এবং ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের নিকট হতে সম্মানজনক ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এমন এক সময় ছিল যখন পর্দা প্রথা মুসলিম নারীদেরকে ঘরের বাইরে, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করত। প্রবল বাধা-বিপত্তি আসতো নিজের ঘর থেকে, সমাজ থেকে। সেই সময়ে লায়লা আর্জুমান্দ বানু, সকল বাধা-নিষেধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বাংলার সংগীত, বাংলার সাংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। নিজে অর্জন করেছেন খ্যাতি। অর্জন করেছেন মানুষের ভালোবাসা। তিনি শারীরিকভাবে চলে গেলেও, রয়েগেছে সংগীতের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিসম্পন্ন ও দেশবরেণ্য কন্ঠশিল্পী লায়লা আর্জুমান্দ বানু, সংগীত পিপাসু মানুষের মনে চিরজাগোরুক থাকবেন।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x