ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ১০ শাওয়াল, ১৪৪১

৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং-এর সর্বশেষ আপডেট জানাতে লাইভে এলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: জীবন অমূল্য । মানুষের জীবন কোন মূল্য দিয়ে পরিমাপ করা যায়না। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং-এ এই কথাটিই এবার উঠে আসে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অকালে ঝরে যাচ্ছে কত তাজা প্রাণ, কত পরিবারের বেঁচে থাকার আলো নিভে যাচ্ছে। কত মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে টুকরো হচ্ছে, তবু ও মানুষকে জীবন জীবিকার তাগিদে পথ চলতে হয়। অথচ এ পথের বলি ঠেকানো, পঙ্গুত্বকে এড়ানো অনেকটা আমাদের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে। একটু সচেতনতা ধৈর্য সতর্কতা আর ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ সড়ক দুর্ঘটনা বহুকালে হ্রাস করতে পারে। কিন্তু আমরা এই সদিচ্ছার যায়গায় এখনো দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে থাকি। দুর্ঘটনার এই সংখ্যাগুলো কমানোর জন্য সচেতনতা,দায়ত্বশীলতার পাশাপাশি মানুষকে নিয়ম মেনে চলাতে কঠোর আইন প্রয়োগ গুরুত্বপূণ্য।

ইলিয়াস কাঞ্চন আজ বিকালে প্যারিস থেকে তার ফেসবুক লাইভে আসেন এবং দুদিন আগে শেষ হওয়া সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং-এর সর্বশেষ আলোচনার বিষয় সবার সামনে তুলে ধরেন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত একটি ডিটেড ডিগ্লেসন করা হয়েছিলা যেখানে সব দেশ তাদের দুর্ঘটনার হার ৫০% এ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন এবং শেষ পর্যন্ত সব দেশ ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে আনতে না পারলেও ২০% বা ৩০% দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তারা এবার এই মিটিংয়ে অঙ্গীকার করেন এবার আমরা ৫০% এ কমিয়ে আনার চেস্টা করব। এবং যেসব দেশ ইতিমদ্ধে ৫০% দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে তারা অঙ্গীকার করেন এবার সেসব দেশ ০% এ দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনবেন।

মিটিংয়ে আলোচনায় এবার গুরুত্ব দিয়ে আরো যে বিষয় তুলে ধরা হয় তা হলো, একটি দেশের দুর্ঘটনা কমাতে সে দেশের সরকারের ভুমিকা রাখতে হবে বেশী। অনেক এমপি মন্ত্রী দেশের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন কিন্তু কথা মতো কাজ করেন না। এসব মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর নয়। দেশের সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নে এবং দুর্ঘটনারোধে সরকারিভাবে গ্রহন করা ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে পালন করতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে বাধ্য করাতে।

আলোচনায় আরো উঠে আসে, শুধু মুখের কথায় মানুষকে সচেতন করা সম্ভব নয় তাই কঠোর আইন প্রয়োগ এর ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের দুর্ঘটনারোধে সরকারিভাবে কঠোর কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে চালকের দক্ষতা ও যোগ্যতা ভালভাবে যাচাই বাচাই করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ যাতে গাড়ি চালাতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পরিকল্পিত ট্রাফিক আইন প্রণয়ন করতে হবে। অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট প্রশস্ত করতে হবে। ভাঙা ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন যাতে রাস্তায় যাতে নামতে না পারে, সে জন্য কৃতপক্ষের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ড্রাইবারের পরিবর্তে হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। গাড়ির ধারণ ক্ষমতা বাইরের মাল ও যাত্রী বহন বন্ধ রাখতে হবে। পুরানো রাস্তাঘাট মেরামত করতে হবে। বেপরোয়া ও প্রতিযোগিতা ভিওিক গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ট্রাফিক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন দুর্ঘটনা রোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই প্রতিটি চালক এমনকি পথচারীকে ও ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে- সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

৩য় গ্লোবাল ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং-এ সামাজিক সংগঠন এবং এনজিও গুলোর প্রতিনিধিরা বলেন,দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলে আমরা ব্যাথিত হই। কষ্ট পাই। মানুষের জীবন অমূল্য এই জীবন রক্ষার জন্য আমরা মানুষকে বোঝাই। কিন্তু আমাদের সামর্থ নেই মানুষের জীবন রক্ষা করার। সকলে এনজিওর পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূণ্য ভুমিকা কামনা করেন।

লাইভ ভিডিও…

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of