ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪১

সিলেটে অর্ধেক অপারেশন করে রোগী ফেলে চলে গেলেন ডাক্তার

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

সিলেট ব্যুরো, নিরাপদ নিউজঃ সিলেটে অপারেশনের মাধ্যমে পায়ে থাকা স্টিলের পাত খোলার নামে কাটা-ছেঁড়া করে রোগীর অবস্থা করলেন সঙ্কটাপন্ন, পরে বললেন- সরি- এই অপারেশন বাংলাদেশে হবে না! এমন কাণ্ড করেছেন সিলেটের এক অর্থপেডিক্স সার্জন ডা. সুমন মল্লিক। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মঞ্চব মিয়া নামের এক কাতার প্রবাসীর সঙ্গে এমনটি করেছেন সিলেটের অর্থপেডিক্স সার্জন ডা. সুমন মল্লিক। কাতার ফেরত মঞ্চবের পায়ে থাকা স্টিলের পাত খুলে দেয়ার নাম করে মধ্যরাতে শুরু করেন অপরাশেন, পরে অপারেশন সমাপ্ত না করেই টালবাহানার আশ্রয় নিয়ে উদাও হয়ে যান তিনি। বর্তমানে পায়ের দুরবস্থা নিয়ে মঞ্চব মিয়া আছেন অনেক কষ্ট-যন্ত্রণায়। কুলাউড়ার দক্ষিণ হিঙ্গাজিয়া গ্রামের মৃত রেজাক আলীর ছেলে কাতার প্রবাসী মঞ্চব মিয়া (৪২) পাঁচ মাস আগে কাতারে একটি দুর্ঘটনায় ডান পায়ের গোড়ালিতে আঘাপ্রাপ্ত হন। কাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মঞ্চব মিয়ার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে অপারেশেন করে সেখানকার চিকিৎসকরা স্টিলের পাত বসিয়ে দেন। পরে দেশে চলে আসেন মঞ্চব মিয়া। সুমন মল্লিকের পরামর্শমতে গতকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিলেট শহরের মিরবক্সটুলাস্থ সিলেট ট্রমা সেন্টার এন্ড স্পেশালাইজড হসপিটাল-এ ভর্তি হন মঞ্চব মিয়া। রাত দেড়টার দিকে সার্জন মল্লিক অপারেশনের প্রস্তুতি নিয়ে মঞ্চবকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকান। আধাঘণ্টা পরে তিনি মঞ্চবের স্বজনদের জানান অপারেশন সাকসেসফুল। আপনারা ২০ হাজার টাকা হাসপাতালে জমা করেন।মল্লিকের কথা অনুযায়ী মঞ্চবের স্বজনরা তখন ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দেন,কিন্তু এর আধাঘণ্টা পর সার্জন মল্লিক অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু স্টিলের পাতটা কিছুতেই বের করতে পারলাম না। সরি- অপারেশন সাকসেসফুল করা সম্ভব হয়নি। এই পাত বাংলাদেশের কোথাও বের করা যাবে না। যেখানে (কাতারে) ঢুকানো হয়েছে, একমাত্র সে হাসপাতালেই এটি খোলা যাবে। ডাক্তারের কথা শুনে মঞ্চবের স্বজনরা তখন হতভম্ব হয়ে পড়েন। এর মধ্যেই ট্রমা সেন্টার থেকে সটকে পড়েন সার্জন মল্লিক। অপারেশন সম্পন্ন বা রোগীর পায়ের সমস্যার সমাধান না হলেও সিলেট ট্রমা সেন্টার কর্তৃপক্ষ প্রথমে মঞ্চবের স্বজনদের ৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ১২ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তোপের মুখে ওই ১২ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয় ট্রমা সেন্টার। বিষয়ে জানতে আজ মঙ্গলবার সার্জন সুমন মল্লিকের ফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি। এ নিয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x