ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৯ শাওয়াল, ১৪৪১

ভাষাসৈনিক-জননন্দিত সঙ্গীতজ্ঞ আবদুল লতিফ-এর আজ ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ
আজাদ আবুল কাশেম,নিরাপদ নিউজ: সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার আবদুল লতিফ-এর আজ ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৫ খৃষ্টাব্দের ২৬ ফেব্রুয়ারি, তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮বছর। প্রয়াত এই সঙ্গীতজ্ঞ’র প্রতি বিন্ম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

খ্যাতনামা গীতিকার ও সুরকার আবদুল লতিফ-এর জন্ম, ১৯২৭ খৃষ্টাব্দের বরিশাল জেলার, রায়পাশা গ্রামে। পিতার নাম আমিনুদ্দিন, মায়ের নাম আজিমুন্নেসা। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়াঅস্থায় তিনি প্রথম, স্কুলের এক অনুষ্ঠানে গান করে সবার নজর কাড়েন। সঙ্গীতের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে, কৈশোরেই চলে যান কলকাতায়। সেখানে ওস্তাদদের কাছে তালিম নেন সংগীতে। শেখেন নানা ধরনের লোকগান ।
কংগ্রেস সাহিত্য সংঘে তিনি ১৬ বছর বয়স থেকে গান গাইতে শুরু করেন।

১৯৪৮ খৃষ্টাব্দের জুলাই মাসে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং পরের মাসে রেডিও পাকিস্তানের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। তিনি বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠানে গান গাইতেন এবং ভাষা আন্দোলনে অণুপ্রেরণা যোগাতেন। ১৯৫২’র আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটিতে তিনিই প্রথম সুরারোপ করেন। পরবর্তীকালে গানটিতে সুরারোপ করেছিলেন আলতাফ মাহমুদ। বর্তমানে আলতাফ মাহমুদের সুরটিই টিকে আছে। তিনি তাঁর জীবনে অসংখ্য গানে সুরারোপ করেছেন এবং কন্ঠ দিয়েছেন। তাঁর জনপ্রিয় কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে- ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়/ ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়…,
দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা/ কারো দানে পাওয়া নয়…., সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা সোনা নয় তত খাঁটি.., তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি…, হেই সামালো ধান হো…., ভুলব না ভুলব না…, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা.. ইত্যাদি।

সংগীতের কালজয়ী প্রতিভা আবদুল লতিফ, চলচ্চিত্রেও গান লিখেছেন, গেয়েছেন, সুর করেছেন এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। তিনি যেসব ছবিতে কাজ করেছন- শেষ পর্যন্ত, নয়ন মনি, কুঁচ বরণ কন্যা প্রভৃতি।

আবদুল লতিফ-এর লেখা কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে- দুয়ারে আইসাছে পালকী, ভাষার গান, দেশের গান অন্যতম।

গণমানুষের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা পাওয়া আবদুল লতিফ, তাঁর জীবদ্দশায়ই অনেক সম্মান-সম্মাননা ও রাস্ট্রিয় পদক পেয়েছেন। এর মধ্যে- একুশে পদক-১৯৭৯, স্বাধীনতা পদক-২০০২। আরো পেয়েছেন কুমিল্লা থিয়েটার পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পদক, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা, জাতীয় জাদুঘর পদক, নজরুল একাডেমী সম্মাননা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট পদক, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা পদক, বাংলা একাডেমী পদক, শেরেবাংলা পদক, ভাষাসৈনিক সম্মাননা ইত্যাদি।

সঙ্গীত জগতের বহুমাত্রিক প্রতিভাধর আবদুল লতিফ, বিভিন্ন ধরণের গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন ও গেয়েছেন- পল্লী গীতি, দেশাত্মবোধক গান, গণসংগীত, জারি, পুঁথি, আধ্যাত্মিক। যে গানগুলো অত্যন্ত উচ্চ মানের I
আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহু অভিধায় অবিহিত, সঙ্গীতে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন আবদুল লতিফ।

ভাষাসৈনিক-জননন্দিত সঙ্গীতজ্ঞ আবদুল লতিফ, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আমাদের মাঝে।

তথ্যসূত্র ও ছবি: ইন্টারনেট থেকে

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of