ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ২১ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০, ৩০ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২২ জিলকদ, ১৪৪১

বিশ্ব পানি দিবস: সুপেয় পানি নিশ্চিতে দূষণ রোধে এগিয়ে আসুন

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: বিশ্ব পানি দিবস আজ ২২ মার্চ। প্রতিবছর নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিতে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। তবে শতভাগ নিরাপদ পানি দিবস পালনের এসব কর্মসূচি দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যদি না নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষ সচেতন হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ^ব্যাপী নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে। পৃথিবীর মোট পানির মাত্র ২.৫ ভাগ স্বাদু পানি। এর মধ্যে ৬৮.৯ ভাগের অবস্থান তুষারে, ০.০০৯ ভাগের অবস্থান লেক ও নদীতে এবং ২৮ ভাগের অবস্থান ভূ-অভ্যন্তরে।

মিষ্টি পানির ২৩ ভাগ শিল্পোৎপাদনে, ৬৯ ভাগ কৃষি উৎপাদনে এবং ৮ ভাগ গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার হয়। বিশ্বের মোট পানি সম্পদের মাত্র ০.০২৫ ভাগ পানি পানযোগ্য। জাতিসংঘের জনসংখ্যা সংক্রান্ত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৮টি দেশে বসবাসকারী ২৮০ কোটিরও বেশি মানুষ পানির অভাবের সম্মুখীন হবে। ২০৫০ সালে এ ধরনের দেশের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৩টিতে এবং পানির অভাবে থাকা মানুষের সংখ্যা হবে ৪০০ কোটি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৭৮৫ মিলিয়ন মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত কিংবা সুপেয় পানিতে প্রবেশাধিকার নেই। অন্যদিকে যারা এ সুপেয় পানিতে প্রবেশাধিকার আছে তারাও নানানভাবে সমস্যাগ্রস্ত।

এর কারণ এ সুপেয় পানির অপর্যাপ্ততা। তাদের দৈনন্দিনের পানি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পৃথিবীর বিশাল পানির মধ্যে মাত্র .০২৫ ভাগ সুপেয়। অথচ নানানভাবে মিষ্টি পানির উৎসগুলোকে দূষিত করা হচ্ছে। শিল্পকারখানা, কৃষি এবং নগরায়ণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কমযজ্ঞগুলোই মিষ্টি পানির এ উৎসগুলোকে দূষিত করেছে। অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানি হচ্ছে পৃথিবীর মোট মিষ্টি পানির তিনভাগের এক ভাগ। এই উৎস থেকে আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় ৩৬শতাংশ পানি ব্যবহার করি। কিন্তু এই উৎস থেকেও পানির প্রাপ্যতা কমে গেছে। কারণ সেচের জন্য নানানভাবে ভূ-গর্ভস্থের পানি তোলা হচ্ছে। এছাড়া, প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনে নানাভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দিনকে দিন পানির সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে।

পানি সঙ্কট মোকাবিলায় প্রতিবছরই ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস পালন করা হয়। দিবস পালনের মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার ও পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো রক্ষা ও সরক্ষণের জন্য নানানভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। পানির প্রাপ্যতার সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি যোগসূত্র রয়েছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানান আপদ দেখা দেয়। সেই আপদের মধ্যে খরা, বৃষ্টিপাতহীনতা অন্যতম। বৃষ্টিপাত কম হলে স্বাভাবিকভাবেই ভূগর্ভস্থ ও ভূ-অপরিস্থ পানির ওপর প্রভাব পড়ে। কারণ ন্যুনতম যে পরিমাণ পানি রির্চাজ হওয়ার কথা সেই পরিমাণ পানি রিচার্জ না হয় না। ফলশ্রুতিতে পানির সঙ্কট দেখা দেয়। আমাদের দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতিবছরই পানি সঙ্কট দেখা দেয় কম বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি আপদ হচ্ছে লবণাক্ততা। নানানভাবে এই লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ে; বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস হলে সেই লবণাক্ততা মিষ্টি পানির উৎসকে দূষিত করে।

ফলে পানির সঙ্কট দেখা দেয়। আমাদের দেশের উপকূলীয় এলাকায় এই সঙ্কটটি দিনকে দিন প্রকটাকারে দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরির্বতনজনিত কারণে কৃষির জন্য, গৃহস্থালী কাজের জন্য, শিল্পকারখানার জন্য এবং মানুষের পানের জন্য আজ সর্বত্রই পানি সঙ্কট অনুভূত হচ্ছে। অথচ বিশ্বব্যাপী বিশুদ্ধ পানির আধারগুলোর দূষণ, দখল এবং ভরাট এখনই হরহামেশাই হচ্ছে! আমাদের দেশে বিভিন্ন এলাকার নদী, খাল, বিল ও জলাভূমি দূষণ ও দখলের চিত্রগুলো প্রতিদিনই পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে বা হচ্ছে। দখল ও দূষণ হচ্ছে প্রায় প্রতিটি নদী। সরকার নদীকে একটি ‘জীবনসত্তা’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পরও আজও পানির উৎস তথা নদী, খালবিল ও জলাভূমির দখল বাণিজ্য কমেনি।

তাই বৈশ্বিক পানি সঙ্কট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনকে তরান্বিত করে এমন কর্মযজ্ঞ সম্পাদন থেকে বিরত থাকতে হবে। বন উজাড়, নদী দূষণ, দখল এবং কার্বনভিত্তিক জীবন-জীবিকাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন যত দ্রুত হবে ততবেশি সুপেয় পানির উৎসগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। পানি সঙ্কট মোকাবিলায় তাই শুধুমাত্র পানির উৎস দূষণ ও দখল বন্ধ করলে চলবে না, পাশাপাশি আমাদের জীবনযাত্রায় যাতে কম কার্বন নিঃসরণ হয় সেদিকেও সমান নজর দিতে হবে। এজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x