ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৫ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪১

পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল: দরকার পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাকের বিপণিবিতানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একের পর এক ক্রয়াদেশ হারাচ্ছে বাংলাদেশি কারখানাগুলো। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পও শঙ্কায় পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এই সঙ্কট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৭ হাজার।

একইসঙ্গে প্রতিদিনই নতুন করে যোগ হচ্ছে মৃত্যু। বাংলাদেশেও আক্রান্ত বাড়ছে দিনদিন। এ পর্যন্ত মৃত্যুও হয়েছে পাঁচজনের। করোনার কারণে গত শুক্রবার পর্যন্ত ৯৬৬টি কারখানায় দুই দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা) অর্ডার বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ৯৬৬টি কারখানার ৮২৭ কোটি ২৭ লাখ অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। যার আর্থিক পরিমাণ দুই দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এসব কারখানায় মোট ১০ লাখ ৯৬ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে।

করোনা প্রতিরোধে সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে শ্রমিকদের সুরক্ষায় বেশিরভাগ পোশাক কারখানাই বন্ধ রাখা হয়েছে। পিপিই ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে এমন কারখানাগুলো খোলা বলে জানা গেছে। তবে বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এতে কর্মহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছে এসব কারখানার লক্ষ লক্ষ শ্রমিক।

চলমান এই সঙ্কটে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বৃহৎ চালিকাশক্তি এই খাত। করোনা পরিস্থিতি কতদিন চলবে বা কবে নাগাদ এর উত্তরণ ঘটবে তা কেউ বলতে পারছে না। তবে এখন যেভাবে চলছে সেটি যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে বিশ^অর্থনীতিতে যে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলবে তা বলাই বাহুল্য।

এতে বাংলাদেশসহ রপ্তানি নির্ভর দেশগুলোর চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটার পর শুরু হবে বাণিজ্যযুদ্ধ অর্থাৎ সব দেশ তাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টার কারণে শুরু হবে তীব্র প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এতদিন বিশ্ববাজারে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছিল সেগুলো তখন হয়তো আর থাকবে না।

আমাদের দেশের পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে কারখানাগুলোর মালিক এবং সরকারের যেসব উদ্যোগ রয়েছে তাতে হয়তো কিছুদিন এই খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা যাবে, অর্থাৎ ধসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে বলে আমরা আশা করি। কিন্ত এইযে একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হতে হতে এখন ক্রয়াদেশ বাতিলের যে হিড়িক পড়েছে তাতে মনে হচ্ছে কিছুদিন পর আর কোনও অর্ডারই অবশিষ্ট থাকবে না।

তখন সেই চুড়ান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে কি? এই খাতের নীতি নির্ধারকদের সেই বিষয়ে এখন থেকেই ভাবতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে এবং কোনভাবেই পোশাকের বাজার হারাতে দেয়া যাবে না। বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আগেভাগেই নেয়া না হলে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হিমশিম খেতে হবে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x