ব্রেকিং নিউজ

আপডেট এপ্রিল ৬, ২০২০

ঢাকা রবিবার, ৩১ মে, ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৬ শাওয়াল, ১৪৪১

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে হাসির রাজপুত্র টেলি সামাদের প্রতি শ্রদ্ধা

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

আজাদ আবুল কাশেম,নিরাপদ নিউজ: জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদ-এর (৬ এপ্রিল) প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ৬ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে, ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৭৪ বছর। প্রয়াণ দিবসে, নানামুখী প্রতিভাবান এই গুণি শিল্পীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

অত্যন্ত জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা, টেলি সামাদ ( আবদুস সামাদ)-এর জন্ম ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মঞ্চনাটক ও সংগীত অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত অংশ গ্রহণ করতেন।
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা টেলি সামাদ, তাঁর বড় ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বিএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রাবস্থায়ই চলচ্চিত্র পরিচালক নজরুল ইসলামের সাথে তাঁর পরিচয় । সেই সূত্রধরে নজরুল ইসলাম তাঁর পরিচালিত ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে ছোট্ট একটা চরিত্রে টেলি সামাদকে অভিনয় করার সুযোগ দেন। ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে।

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সমানতালে জনপ্রিয়তা পাওয়া টেলি সামাদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ময়নামতি, মায়ার বাঁধন, পায়ে চলার পথ, মেঈমান, সুজন সখি, নয়নমণি, সোহাগ, অবাক পৃথিবী, জিঘাংসা, আগুনের আলো, গুনাহগার, মাটির মায়া, মতিমহল, মা, মনের মানুষ, গোলাপী এখন ট্রেনে, অশিক্ষিত, আসামী হাজির, ফকির মজনু শাহ্, তুফান, বৌরাণী, পাগলা রাজা, মধুমিতা, মিন্টু আমার নাম, বধূবিদায়, হারানো মানিক, মাটির ঘর, দিন যায় কথা থাকে, কন্যাবদল, নদের চাঁদ, নাগরদোলা, নওজোয়ান, লাভ ইন সিংগাপুর, দি ফাদার, কথা দিলাম, শেষ উত্তর, গাঁয়ের ছেলে, বাদল, ভালো মানুষ, ঘরণী, কলমী লতা, আলতা বানু, খোকন সোনা, নতুন বউ, কালো গোলাপ, মান অভিমান, পরাণ পাখি, নসেবা, জয়পরাজয়, চাষীর মেয়ে, গুন্ডা, মিস লোলিতা, দিলদার আলী, মনাপাগলা, এতিম, মায়ের আঁচল, সখিনার যুদ্ধ, হিসাব নিকাশ, ভাতদে, নেপালি মেয়ে, হাসান হেনা, অভাগী, সাধনা, দিদার, হীরামোতি, আমার সংসার, বিশাল, ক্ষমা, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, আজকের শয়তান, ডাইনি বুড়ি, মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি, জিরো ডিগ্রী, প্রভৃতি ।

তাঁর নিজের প্রযোজিত ছবি ‘দিলদার আলী’তে (১৯৮০) তিনি নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘মনা পাগলা’ (১৯৮৪) চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী, সুরকার-গীতিকার, সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন টেলি সামাদ।
তিনি অনেকগুলো চলচ্চিত্রে গানও গেয়েছেন এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেই সময়ে গানগুলো।
তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্য আছে- দিওয়ানা বানাইয়া….., দিলদার আলী আমার নাম……., ও জুলিয়া প্রাণ খুলিয়া দে…….., দোস্ত আমার ইস্কাপানের টেক্কা……. প্রভৃতি।

তিনি একাধারে অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, সুরকার-গীতিকার, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক ও অঙ্কন শিল্পী।
বহুমাত্রিক প্রতিভাধর, জাতশিল্পী টেলি সামাদ তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী অভিনয় শৈলি দিয়ে দর্শকদের বিনোদীত করেছেন । বিমোহিত করেছেন । সমানতালে অভিনয় করেছেন সিনেমায়, টেলিভিশনে। পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। হাসির রাজপুত্র, এসেছিলেন পৃথিবীকে হাসাতে। হাসিয়েছেন-ভাসিয়েছেন আনন্দের বন্যায়, চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দায় । নানাগুণে গুণান্বিত এই মানুষটি আমাদের স্মৃতির পাতায়, হৃদয়ের মাঝখানে অম্লান চিরদিন।

ছবি- ফিরোজ এম হাসান

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of