ব্রেকিং নিউজ

আপডেট এপ্রিল ১৪, ২০২০

ঢাকা শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১

করোনাসংকট : ঘরে ঘরে উঁকি দিয়ে দেখুন কার কি অবস্থা: মালেক আফসারী

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

যাযাবর পলাশ, নিরাপদ নিউজ: পৃথিবীজুড়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। ভয়ংকর এই ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পরায় দিনকে দিন ক্রমশ বেড়েই চলেছে করোনার বিস্তার। ইতিমধ্যেই দেশে এই ভাইরাসে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮০০ পেরিয়েছে। আর মারা গেছেন ৩৯ জন। পাশাপাশি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৪২ জন।

তবে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সারাদেশ লকডাউন ঘোষণা করায় ঘরবন্দী হয়ে পরেছেন দেশের প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার নিম্ন আয়ের সাধারণমানুষ। যার ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো এবং নিম্ন আয়ের মানুষগুলো চরম বিপদে পরেছেন। যদিওবা সরকার এই বিপদের দিনে সারাদেশে সাহায্য বা ত্রান দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তবে এখনও সর্বত্র প্রতিটি ঘরে ঘরে এই ত্রান সেভাবে পৌঁছায়নি। কিন্তু ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সকল কাজকর্ম বন্ধ করে দিনের পর দিন ঘরবন্দী সাধারণ মানুষের পিঠ যেন দেয়ালে ঠেকেছে।

এদিকে দেশের চলমান এই পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্রের সকল কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেছেন এই কাজের উপরে নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষ। ইনকামের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ঘর থেকে বের হতে না পারায় পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন দেশ বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মালেক আফসারী।

তিনি বলেন – গোটা পৃথিবী আজ ভালো নেই। সাথে আমরাও। করোনা ভাইরাস আসলেই খুব মারাত্মক একটি ভাইরাস। যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রতিটি সাধারণ মানুষের এই মূহুর্তে ঘরে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরী। তাই দেশের সরকার থেকে শুরু করে আমরাও সবাইকে বলছি ঘরে থাকুন, ঘরে থাকুন, ঘরে থাকুন। তবে ঘরে থাকুন তো বলছি কিন্তু কতোক্ষণ ঘরে থাকবেন যদি ঘরে খাবার না থাকে! এ ব্যাপারে বিশেষকরে দেশের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষকে অনুরোধ করবো এই সময়টাতে অন্তত আপনার পাশের ঘরে বা দরিদ্র পাড়া প্রতিবেশীর খবর নিন। ঘরে ঘরে উঁকি দিয়ে দেখুন কার কি অবস্থা। আর এ ব্যাপারে আসলে সরকারকেই পুরোপুরি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। অন্তত সারা দেশের গরীব মানুষগুলোর খাবারের ব্যবস্থা সরকারকেই করা উচিত। আবার যাদের ঘরই নেই রেলস্টেশনে বা ফুটপাতে ঘুমায় তারা আসলে কোথায় যাবে? তাই এই সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকেই অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে।

করোনায় সিনেমার সকল কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চলচ্চিত্র শিল্পের উপর আগামীতে এর প্রভাব কেমন পরতে পারে সে বিষয়ে তিনি বললেন –
যদিওবা করোনার কারনে আমাদের চলচ্চিত্রের সকল কাজ বন্ধ হয়ে আছে। তবুও বলবো আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পতো অনেক আগে থেকেই সংকটে আছে। নতুন করে করোনা এসে এই সংকট আরও বড় আকার তৈরি করেছে। টুকটাক যে কাজগুলো চলছিল সেগুলোতো এখন পুরোপুরি বন্ধ। এই বন্দী অবস্থা কবে কাটিয়ে উঠতে পারবো জানিনা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এই চলচ্চিত্র শিল্প আবারও কতোদিনে মাথা তুলে ঘুরে দাঁড়াবে তা একমাত্র আল্লাহ তাআ’লা ভালো জানেন।

চলচ্চিত্র শিল্পের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষ আজ ঘরে বন্দী। সবাই এখন কর্মহীন। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে হচ্ছে অনেককেই। সবার বর্তমান দৈনন্দিন অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন –
এভাবে হঠাৎ সবাই ঘরবন্দী হয়ে পরায় আমাদের চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত সবার অবস্থা খুব খারাপের দিকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা এই পেশায় পুরোপুরি নির্ভরশীল তাদের অবস্থা তো বলার মতো না। দিনকে দিন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে সবার। যদিওবা শিল্পী সমিতি এবং প্রযোজক সমিতিকে দেখছি এ ব্যাপারে বেশ তৎপর। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এ ব্যাপারে পরিচালক সমিতির কার্যক্রম খুব কমই চোখে পরছে। কেন পরছেনা জানিনা। তাছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে অনেককেই দেখছি এ ব্যাপারে এগিয়ে আসছেন। আর আসাটাও উচিৎ, বিশেষ করে যাদের সামর্থ্য আছে। এই বিপদের সময় সবাই সবার পাশে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা সহজেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবো।

সবশেষে তিনি বলেন – সারাদেশেই দেখছি সরকারের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও নিজস্ব ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছেন। যা সত্যিই অনেক প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এ বিষয়ে ফেসবুকে কিছু সমালোচনা হচ্ছে যা একদমই ঠিক হচ্ছে না। যারা বলছেন ডান হাতে সাহায্য করলে যেন বাঁ হাত না জানে তারা আসলে কয়জনকে সাহায্য করেছেন? নিজের পকেটের টাকায় খাবার কিনে অসহায় মানুষকে সাহায্য করে সেটার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করাটা এমন দোষের কিছু দেখিনা আমি। এতে করে বরং অনেকেই আরও উৎসাহিত হচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of