ব্রেকিং নিউজ

আপডেট এপ্রিল ২৫, ২০২০

ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০, ২৮ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২০ জিলক্বদ, ১৪৪১

বিশ্বের যেসব দেশ লকডাউন তুলে নিল

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: লকডাউন; মহামারী থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হিসেবে শুরু হয়েছিল। এতে জীবন রক্ষা পেলেও থমকে গেছে মানুষের জীবিকা। ধসে পড়ছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। দুর্ভিক্ষসহ কঠিন বাস্তবতার দিকে এগিয়ে চলছে বিশ্ব। তাই পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ধীরে অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিল করছে বিভিন্ন দেশ। ফলে উৎপাদনে ফিরবে কল-কারখানা, আর খুলবে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।

আঁধার শেষে আলো আসবেই। করোনাভাইরাস মহামারী থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হিসেবে সারা বিশ্বে শুরু হয় লকডাউন। তাতে অবশ্য জীবন বাঁচলেও থেমে যায় জীবন-জীবিকা। প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে নামে ধস। বিশেষজ্ঞরা দুর্ভিক্ষ আর কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করে সতর্কও করেন। অন্যদিকে লকডাউনে সম্ভব হয় সংক্রমণ কমানো। তাতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ সিদ্ধান্ত নেয় লকডাউন তুলে স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার। তাই পরিস্থিতি বুঝে কিছু দেশ অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিলও করে। এতে আবার চলতে শুরু করল কল-কারখানা আর খুলতে শুরু করল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সারা বিশ্বের লকডাউন শিথিল হওয়া দেশগুলো নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

দুই মাস পর মুক্তজীবন পেল উহানবাসী

চীনের উহান থেকেই শুরু করোনাভাইরাসের। ১০ জানুয়ারি করোনাভাইরাসে প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। উহানকে ওই রোগ সংক্রমণের কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর লকডাউন ঘোষণা করে চীন। কিন্তু ততক্ষণে চীনের কয়েকটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে কভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস। ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের কারণে ১ কোটি ১০ লাখ লোকের শহরকে অবরুদ্ধ করা হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য। লোকজনকে ঘরবন্দী বা কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় দিনের পর দিন। সরকারি সূত্র মতে, শহরের প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মারা যাওয়া মানুষের ৮০ শতাংশই উহান শহরের। এখানে মারা যায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। দুই মাসেরও বেশি সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল উহানবাসী। অবশেষে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে কয়েকদিন আগে লকডাউন উঠেছে। ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে পুরো এলাকা। জানুয়ারি থেকে গড়ে প্রতিদিন যেখানে অন্তত হাজারখানেক লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতেন, সেটা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। মুক্ত জীবনের স্বাদ পেল উহানের মানুষ। লকডাউন উঠে যাওয়ায় উহানের রাস্তায় আবার লোকজনের চলাচল শুরু হয়। খুলে দেওয়া হয়েছে যানবাহন। কল-কারখানা, দোকানপাট এবং রেস্তোরাঁগুলো খুলতে শুরু করে। মিলেছে অন্যান্য শহর থেকে উহানে আসা যাওয়ার অনুমতি। তবে তা কেবল কয়েকটি নিয়ম মেনে। যেমন- চেক পয়েন্টগুলোয় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। চীনের কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘স্থানীয় বার ও রেস্তোরাঁগুলোর টেবিলগুলো কমপক্ষে এক মিটার দূরে স্থাপন ও জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম মেনে চলা উচিত।’

স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে অস্ট্রিয়ায় মুক্ত জীবন

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জারি করা লকডাউন শিথিল করা হয়েছে অস্ট্রিয়ায়। তবে তা কেবল সম্ভব সরকারি দেওয়া কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে। দেশটির প্রতিটি নাগরিককে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার এবং গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। দোকানপাট খুলেছে, তাতে বেঁধে দেওয়া হয় সময়সূচি। প্রাথমিকভাবে ৪০০ মিটারের কম আয়তনের দোকানগুলো খোলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। যদিও অস্ট্রিয়ায় মানুষজনকে এখনো কোনো প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অস্ট্রিয়ার বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। ধীরে ধীরে দেশটিতে পুরো লকডাউন শিথিল করা হবে বলেও অস্ট্রিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেন, ‘কভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে আবারও জরুরি লকডাউন দেওয়া হবে।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে আগামী মে মাসের শুরুতে বড় দোকান, শপিং সেন্টার, পার্লার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো খুলে দেওয়ার চিন্তা করছে দেশটির সরকার।

সাত দিনেই লকডাউন তুলে নিল ইরান

দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ না পেরোতেই দেশজুড়ে বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে তুলে নিতে শুরু করল ইরান সরকার। গত ৪ এপ্রিল দেশটির অধিকাংশ সরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনের আওতার বাইরে থাকা সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় দেশটির প্রশাসন। এর আগে যদিও রাজধানী শহর তেহরানের বাইরে সব সরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মীদের উপস্থিতির সংখ্যা ছিল মাত্র দুই- তৃতীয়াংশ। ইরান সরকার বাকিদের ‘ওয়ার্ক এট হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেয়। তেহরানে যেসব ব্যবসয়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার জন্য সরকারের কাছে নাম নথিভুক্ত করিয়ে সামাজিক দূরত্বের শর্ত মেনে চলতে হবে। আগামীতে তেহরানের সরকারি অফিসগুলোও দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী নিয়ে খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মূলত অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। দেশে করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিলেও পুরোপুরি লকডাইনে রাজি নয় ইরান প্রশাসন।

স্পেনে অর্থনীতির জন্য  লকডাউন শিথিল

গভীর এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি স্পেন। করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তালিকায় উইরোপে দ্বিতীয় অবস্থানে দেশটি। জারি করা হয় ‘স্টেট অব অ্যালার্ট’। কয়েকদিন বাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সংকট মোকাবিলায় লকডাউন ঘোষণা করেন। সুপারমার্কেট এবং ফার্মেসি ছাড়া সবকিছু বন্ধ। গৃহবন্দী প্রায় চার কোটি মানুষ। সম্প্রতি মৃত্যুর হার কমে আসায় এক মাসের বেশি সময় পর লকডাউন শিথিল করেছে স্পেন। খুলে দেওয়া হয়েছে রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানাগুলো। উৎপাদন, নির্মাণসহ কয়েকটি সেবা খাতের সঙ্গে জড়িতদের কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে দোকানপাট, বার, রেস্তোরাঁসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রেখেছে স্পেন সরকার। কৃষি সংকট মোকাবিলায়, নতুন ফসল তোলা এবং নতুন ফসল বোনার জন্য কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে কাজের নিশ্চয়তা দিচ্ছে স্পেন সরকার। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা সরকারকে উপসর্গহীন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তে আরও বেশি পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস মুক্ত হওয়া থেকে আমরা অনেক দূরে। কিন্তু এই মুহূর্ত থেকে আমরা স্বাভাবিক জীবন দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। আমরা সবাই আগের অবস্থানে ফিরতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া।’

মে থেকে শিথিল হবে ইতালির লকডাউন

করোনাভাইরাসে ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি। সংক্রমণ আর মৃত্যু এড়াতে লকডাউন ঘোষণা করে ইতালির সরকার। কেবল জরুরি নিত্যপণ্য কেনা ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এতে অর্থনীতি স্থবির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি কাটাতেই এখন লকডাউন শিথিলের কথা ভাবছে সরকার। যার ফলস্বরূপ, টানা পাঁচ সপ্তাহ পর লকডাউন শিথিল করেছে ইউরোপের দেশ ইতালি। খুলছে বই, মণিহারি ও শিশুদের জামা-কাপড়ের দোকান। কম্পিউটার সরঞ্জাম ও কাগজের দোকানও খুলে দিয়েছে প্রশাসন। তবে যেসব শহরে করোনা পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয় সেগুলোতে জারি রাখা হয়েছে লকডাউন। আবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের মহামারী-কেন্দ্র বলে চিহ্নিত লোমবার্দির মতো বেশকিছু শহরে বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল করা হয়েছে। ইতালির অর্থনীতির জনপ্রিয় দৈনিক সোলে-৪৪ এ একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় দেশের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষাবিদের মতামত। সেখানে তারা বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত ক্ষতি এড়াতে দ্রুত লকডাউন তুলে দেওয়া উচিত। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্তে জানান, ‘লকডাউন প্রত্যাহার করা হবে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। কিছুসংখ্যক লোককে খুশি করার জন্য নয় কিংবা কোনো উৎপাদক, প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলের বিশেষ অনুরোধেও নয়। কন্তে তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আরও বলেন,  ‘বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে সংক্রমণ আবার বাড়ার ঝুঁকি থাকবে। এ মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যেন সংক্রমণের ঝুঁকি সহনীয় থাকে।’

ভারতে লকডাউন শিথিল হচ্ছে

ভারত করোনা লড়াইয়ে কিছুটা ধাক্কা খেলেও অনেকটা সামলে নিয়েছে দেশটি। দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে ভারত সরকার বেশকিছু জায়গায় লকডাউন শিথিল করছে। আগামী ৩ মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্যে তা শিথিল করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে ‘গ্রিন’ ও ‘অরেঞ্জ’ জোন হিসেবে এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রাজ্যের মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকা। তবে দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে শিথিল করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, লকডাউন শিথিল হওয়া জেলাগুলোয় কৃষি ও শিল্পশ্রমিকরা এক অঞ্চল থেকে অন্যত্র যাতায়াত করতে পারবেন। সে জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিবহনের ব্যবস্থা করবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক, এটিএম, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসি এবং সরকারি অফিস খোলা থাকবে। এছাড়া স্ব-কর্মসংস্থান- যেমন প্লাস্টিক শ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কাঠমিস্ত্রিরা তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবে। এনডিটিভি বলছে, ‘নন হটস্পট’ অঞ্চলগুলোতে লকডাউনের নিয়ম শিথিল হয়েছে গত সোমবার থেকে। তবে ভিন্ন রাজ্যের শ্রমিকরা নিজ রাজ্যে ফিরতে পারবেন না। এক রাজ্য থেকে অপর রাজ্যে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। ওই শ্রমিকরা যে রাজ্যে আছেন, সে রাজ্যে নিজের নাম নথিভুক্ত করে কাজ করতে পারবেন। নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের কাজ দেওয়া হবে।’

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল চেক রিপাবলিক

৯ এপ্রিল দেশটির সরকার সামাজিক দূরত্বে আরোপিত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছে। খুব দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির। গত সপ্তাহ থেকে নির্মাণসামগ্রী, আসবাবপত্রের দোকান, বাইকের শো-রুমগুলোর ওপর লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। অন্যদিকে কেবল মুদির দোকান, ফার্মেসি এবং বৃক্ষ নার্সারির কেন্দ্রগুলো চালু রাখার অনুমতি দিয়েছে। তবে শিথিল করা দোকানপাটগুলোয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা হিসেবে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলক মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ইস্টার সানডের পর লকডাউন সম্পূর্ণ খুলবে কিনা তা বিবেচনা করবে।

চার সপ্তাহ পর শেষ জার্মানির লকডাউন

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো লকডাউন প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে জার্মানি। সম্প্রতি দেশটি লকডাউনের কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করছে। ফলে পুনরায় কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকান চালু হতে যাচ্ছে। মাত্র চার সপ্তাহ পর লকডাউন তুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে দেশটিতে। জার্মান সরকার সর্বোচ্চ ৮০০ মিটার আয়তনের দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে যত আয়তনেরই হোক না কেন বইয়ের দোকান, গাড়ি ও মোটরসাইকেল মেরামতের সব দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া জার্মানির বেশকিছু অঞ্চলে চিড়িয়াখানাও পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। আলোচনা-সমালোচনা যাই হোক, লকডাউন তুলে নেওয়ায় প্রাইমারি স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মান সরকার। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধান বহাল থাকছে আগামী ৩ মে পর্যন্ত।

তিন সপ্তাহে লকডাউন শিথিল ডেনমার্কে

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ডেনমার্কও লকডাউনের কঠোরতা শিথিল করতে যাচ্ছে। লকডাউন শিথিলের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রেস্তোরাঁ, স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার, জিম এবং জেন্স বা ওমেন্স পার্লারগুলো খুলে দিয়েছে ডেনমার্ক।

গত তিন সপ্তাহ এসব বন্ধ ছিল দেশটিতে। এছাড়াও আগামীতে ধীরে  ধীরে চালু করবে দেশটির সরকারি-বেসরকারি সব অফিস। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিক্সেন বলেন, ‘আমরা এখনই পুরোপুরি বিপদমুক্ত না হলেও সঠিক পথেই আছি। সারা জীবন তো আমরা লকডাউনে থাকতে পারি না। তাই লকডাউনটি ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে। যা হবে অনেকটা ধীরে হাঁটার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা পড়ে যাই, সেই পথে আবার উঠে দাঁড়িয়ে থাকি এবং পরবর্তীতে আমরা খুব দ্রুত চলে যাই, তবে ভুল হতে পারে। অতএব, আমাদের অবশ্যই প্রতিটি পদক্ষেপ ধীরে ধীরে এবং সতর্ক থেকে নিতে হবে।’

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x