আপডেট ১ মিনিট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৫ শাওয়াল, ১৪৪১

বিড়াল-কুকুর-পাখির কষ্ট: জীবে দয়া করারই সময় এখন

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ

করোনা জগতের সবকিছুকেই আক্রান্ত করেছে। মানুষের বসতির আশপাশে থাকা কুকুর-বিড়াল-পাখিও সমাজেরই অংশ। যখন মানুষ সমস্যায় পড়ে, তখন মানুষের ওপর নির্ভরশীল প্রাণীরাও সংকটে পড়ে। দেশজোড়া লকডাউনে যখন মানুষ খাদ্যাভাবে পড়ছে, তখন উচ্ছিষ্টভোগী প্রাণীদেরও খাবারের সংকট। ঢাকা-যশোরসহ সেসব শহরে বানরের বসতি আছে, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। পাখিরা খাবারের খোঁজে মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে। তারাও মানুষের মানবিকতা প্রত্যাশী। জীবে প্রেম করে যেজন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর—এ ধারণা মানুষের বিশ্বাসের অংশ।

জীবে দয়া করা মানবিক গুণ, করোনার সময়ে ক্ষুধায় কাতর প্রাণিকুলের দিকে মমতা নিয়ে তাকাচ্ছেন অনেক মানুষ। বগুড়া শহরের একজন সিটি কাউন্সিলর এক মাস ধরে কাক-কুকুরের আহার জুগিয়ে যাচ্ছেন। একদল স্বেচ্ছাসেবীও তিনি পাশে পেয়েছেন। শহরের কুকুর-বিড়াল ও কাকের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনও এগিয়ে এসেছিল। খ্যাতনামা শিল্পীরা তো বটেই, ঢাকায় অনেকে ঘুরে ঘুরে পথবাসী কুকুর-বিড়ালদের খাবার দিচ্ছেন। কিন্তু সব জায়গায় এমন চেষ্টা নেই। অনেকে বিষয়টি অনুভব করলেও এগিয়ে আসার অভাব আছে। সিটি করপোরেশন কাউন্সিলরদের মাধ্যমে কাজটা করার ব্যবস্থা করতে পারে। বাড়িঘরের পাশে ঘোরাফেরা করে যে বিড়ালগুলো খাবার পেয়ে যেত, তারা অভ্যাসবশত এখনো ঘুরে বেড়ায়। তখন তাদের সামান্য ভাত, উচ্ছিষ্ট দেওয়া কঠিন কিছু নয়।

একই সঙ্গে পোষা প্রাণীদের অসুখ-বিসুখের চিকিৎসাও চালু আছে। ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা অনলাইন সেবাও দিচ্ছেন। বাংলাদেশে এ ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা সব জেলা শহরেই থাকার কথা। সেগুলো যাতে সেবা দিয়ে যেতে পারে এবং বিকল্প হিসেবে অনলাইন সুবিধা চালু রাখে, সেটা যেন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর নিশ্চিত করে।

যখন মানুষেরই খাদ্যের সংস্থান হচ্ছে না, তখন এমন উদারতা দেখানো কতটা সম্ভব—এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। পশুপাখির প্রতি মমতা দেখানোও স্বাভাবিক মানবিক গুণ। সামান্য একটু খেয়াল রাখলে যেখানে আমাদেরই চারপাশে প্রাণীরা বেঁচে যায়, সেখানে উদাসীনতা কি দায় এড়ানো নয়? যে মানুষ মানুষের কষ্টে ব্যথিত হয়, সেই মানুষ কি পশুপাখির প্রতি নির্দয় হতে পারে? আবার অনেক মানুষ আছেন—গ্রামসমাজে আরও বেশি দেখা যেত যাঁদের—তাঁরা পশুপাখি ভালোবাসেন। নিজের মধ্যে এ ধরনের টান যাঁরা অনুভব করেন, তাঁরা ছোট ছোট আকারে যোগাযোগের মাধ্যমে এই ধরনের প্রাণীসহ প্রতিবেশীদের দিকেও সুদৃষ্টি দিয়ে তাকাতে পারেন। সেই তাকানোটা যেন করোনায় আক্রান্ত সময়ে চালু থাকে, সেটাই প্রত্যাশিত।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of