ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০, ৩১ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২৩ জিলকদ, ১৪৪১

করোনাকে হারালেন ১০২ বছরের নারী!

রকিবুল ইসলাম সোহাগ

নিরাপদ নিউজ

নিরাপদ নিউজ: চীনের উহান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। মারণ ভাইরাস করোনায় কাঁপছে সিঙ্গাপুরও। তবে সুখবরও আসছে দেশটি থেকে। দেশটির এক ১০২ বছর বয়সী নারী করোনাভাইরাসকে হার মানিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। করোনা বৃদ্ধদের জন্য সাক্ষাত যমদূত হলেও তিনি এই ভাইরাসকে হার মানিয়েছেন। আজ শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

দেশটির লি অহ মুই নামের এক বৃদ্ধাশ্রমে থাকতেন ম্যাডাম ইয়াপ লেহ হং। সেখানে থাকতেন আরো ১৫ জন বৃদ্ধা। তারা সবাই করোনায় আক্রান্ত হন। তারপর থেকে ইয়াপ লেহ টেন টক সেং নামের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আর আজ করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেন। ওই ১৫ জনের সবাই সুস্থ। কিন্তু ৯৭ বছর বয়সী এক নারী এখনো ওই হাসপাতালে ভর্তি। তার অবস্থাও ভালো।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির সময় ম্যাডাম ইয়াপ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধ যুদ্ধ জয় করে বাড়ি ফিরেছেন এমন শতবর্ষীর সংখ্যাটা খুবই কম। ভাইরাসের হাত থেকে বেঁচে ফেরা সবচেয়ে বেশি বয়স্ক নারী হলেন নেদারল্যান্ডসের একশ সাত বছর বয়সী কর্নেলিয়া রাস। তিনি প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। আর সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী ম্যাডাম ইয়াপ।

ম্যাডাম ইয়াপের রয়েছে পাঁচ সন্তান। ১১ জন নাতি এবং ১৩ জন প্রপ্রৌত্রও রয়েছে তার। ইয়াপের শরীরে করোনা ধরা পড়ে এপ্রিলের ১ তারিখ। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর একমাস পর তিনি করোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছেন। তার দ্বিতীয় ছেলে অ্যালান হো গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, তার মার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো। আর এক সপ্তাহ পর তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন।

অ্যালান হো জানিয়েছেন, তার মা একশ দুই বছর বয়সেও স্বাধীন। তিনি নিজে নিজে হাঁটতে পারেন। তিনি প্রতিদিন হাঁটতেন এবং গোসল করতেন। তার প্রাণোচ্ছলতা আর বেঁচে থাকার আশা করোনাকে হারা মানানোর এক সত্য প্রমাণ। তার করোনাযুদ্ধের গল্পটি জাতি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে আশার আলো জাগিয়ে তুলবে।

লি আহ মুই শুক্রবার বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, আজ তাদের সুখের দিন। তারা বৃদ্ধাশ্রমটির বাসিন্দাদের স্বাগত জানাচ্ছে, যারা কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে বাড়ি ফিরছেন। তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন তারা বাসায় বসে ভালোভাবে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তারা প্রথম সারির স্বাস্থ্যসেবা সহকর্মীদের বীরত্বপূর্ণ ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদও জানিয়েছে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x