ব্রেকিং নিউজ

আপডেট মে ৩, ২০২০

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৮ শাওয়াল, ১৪৪১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ: বাচ্চাদের দেহে নতুন উপসর্গ

সেরীন ফেরদৌস

নিরাপদ নিউজ

চলতি সপ্তাহেই কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সারভিল্যান্স প্রোগ্রাম (সিপিএসপি) চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে একটি সতর্ক বার্তা জারি করেছে। সেই বার্তায় শিশু-কিশোরদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের হাতে-পায়ে বিশেষ করে চামড়ায় কোনো ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে কী না- সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিপিএসপি হচ্ছে কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদারকি কর্মসূচি। শিশু-কিশোরদের মধ্যে নতুন ধরনের কিংবা জরুরী কোনো রোগের উপসর্গ দেখা দিলে সেগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব এই সংস্থার। শিশু-কিশোরদের চামড়ার পরিবর্তনের দিকে এদের নজর পড়লো কেন! করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এটিও একটি উপসর্গ বলে তারা মনে করছেন।

সবাই জানি, বাচ্চারা বড়দের তুলনায় করোনায় কম আক্রান্ত হয়! কিন্তু করোনার উপসর্গ বাচ্চাদের শরীরে কম দেখা দিলেও বাচ্চারা করোনার বাহক হতে পারে সহজেই! শিশুদের করোনার বাহক হওয়ার এ সম্ভাবনাটি সম্প্রতি কানাডার চিকিৎসালয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে তীব্রভাবে। করোনা বিস্তারের এই সময়ে সবাই যখন ব্যস্ত বয়স্ক এবং অসুস্থদের জীবন বাঁচাতে, তেমন সময় শিশুদের শরীরেও নতুন আবিষ্কৃত কিছু পরিবর্তন শিশু-বিষয়ক ডাক্তারদেরকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে!

সম্প্রতি, অনেক শিশুর পায়ের আঙুলের ত্বকে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগেরই পায়ের আঙুলের ডগা লালচে অথবা বেগুনি রঙের হয়ে যাওয়া। সেখানে ছোট ছোট ফোস্কামতোও দেখা দিচ্ছে! আবার কারো কারো হাতের আঙুলেও দেখা গেছে এটি। কারো কারো ক্ষেত্রে শুধু রংটাই পরিবর্তিত হয়, আবার কারো কারো বেলায় জায়গাটা গরম হয়, ব্যাথা থাকে। পাশাপাশি কেউ মৃদু শাসকষ্টে ভৃগতে পারে। এছাড়া শিশুটির হয়তো আর অন্য কোনোই উপসর্গ দেখা দিতে নাও পারে। শিশুদের একটি বড় অংশেরই কফ অথবা জ্বর নাও থাকতে পারে। দেখা যায়, দু সপ্তাহ পর চামড়ার এই ব্যাপারটা আপনা আপনি সেরে যায়। কানাডার চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাচ্চাদের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত খ্যাতিমান হাসপাতাল হচ্ছে টরন্টোর সিক কিডস হাপসপাতাল। বাবা মায়ের নির্ভরতার স্থানও এটি। সিক কিডস হাসপাতালের শিশুচর্ম-বিশেষজ্ঞ এবং ডাক্তার এলেনা পোপ বাচ্চাদের নতুন উপসর্গের বিষয়টি মিডিয়ার নজরে আনেন। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা শিশুদের ভেতর এই চামড়ায় নতুন এই উপসর্গ দেখতে পাচ্ছি। আগে, বছরে গড়ে ৫টি শিশু এরকম পাওয়া যেতো। এখন গত কয়েক সপ্তাহে প্রচুর বাচ্চা আসছে এরকম উপসর্গ নিয়ে। দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ভেতরে এই লাল হওয়া ফোস্কাপরা অংশ বাড়তে থাকে, তারপর আপনা আপনি কমে যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই শিশুদের অনেকেই করোনা জীবাণুর বাহক (ক্যারিয়ার) হতে পারে। তবে তাদের করোনায় আক্রান্ত রোগী হিসেবে ভাবা হচ্ছে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেহেতু এরা রোগী নয়, তাই পিতামাতা ও আশেপাশের মানুষ বুঝে উঠতে পারার আগেই আক্রান্ত হতে পারেন! কানাডার চিকিৎসকরা বাচ্চাদের চামড়ায় কোনো ধরনের পরিবর্তন দেখলেই করোনার সংক্রমণ ঘটেছে কীনা সেটি নিশ্চিত হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদেরও করোনা-টেস্ট করানোর জন্য সুপারিশ করেছেন। করোনা টেস্টের আগ পর্যন্ত “কোভিড-আঙুল” বলে একে সনাক্ত করা হচ্ছে। আর টেস্ট যদি পজেটিভ আসে, তবে বলা হচ্ছে “কোভিড-রোগী”।

তবে অতি অল্পসংখ্যক যেসব শিশু আক্রান্ত, তাদের বেলায় বড়দের মতো সব উপসর্গই বিদ্যমান থাকে। ইতিমধ্যেই কানাডায় যেসব শিশু ও কিশোর আক্রান্ত হয়েছে, তাদের নিয়ে নানা পর্যায়ের গবেষণা চলছে। কানাডিয়ান পেডিয়াট্রিক সোসাইটির স্বাস্থ্য বিষয়ক ডাইরেক্টর ডাঃ শার্লোট মুর হেপবার্ন বলেন, যদিও অতি অল্প সংখ্যক বাচ্চাদের শরীরে এই উপসর্গ দেখা গেছে, তারা অসুস্থ হোক বা না হোক, তবুও তাদেরকে হাসপাতালেই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: কানাডার কমিউনিটি নার্স

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of