ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪১

নিকলীতে একই গাছে ফাসিঁতে ঝুলে ৪ জনের আত্মহত্যা!

রেদুয়ানুল হক (শাওন), নিকলী, কিশোরগঞ্জ

নিরাপদ নিউজ

কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলাধীন ছাতিরচর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া নিবাসী রমিজউদ্দিনের ছেলে মোঃ তাহেরউদ্দিন মিয়া (৪৫) গতকাল ইফতারের কিছুক্ষণ পরই গ্রাম থেকে বেশ দুরে হাওড়ের মধ্যে রেন্টি গাছে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে; ছাতিরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নিজামুল ইসলাম বলেন এর পূর্বেও ৩ জন লোক আলাদা আলাদা সময়ে এই গাছটিতে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। তাহের উদ্দিনকে নিয়ে এই গাছটিতে মোট ৪জন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। গ্রামবাসী এই গাছটিকে অভিসপ্ত গাছ হিসেবে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে লোকমুখে শুনা যাচ্ছে।

মৃত্যুর ৪০ মিনিট পূর্বে মেসেঞ্জার গ্রুপে উনার দেয়া স্ট্যাটাস……..!!!
আমার মতো অকর্মার বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই। কাজ করিতে না পারিলে আসমান থেকে খাবার আসার কোন সিসটেম নাই। দুনিয়াতে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য অনেকগুলি পথ খোলা থাকে। যখন সবগুলো পথই বন্ধ হয়ে যায় তখনই মানুষ এই ধরনের গর্হিত কাজ করে।
আমি আরও অনেক দূরে গিয়ে মরতাম। এমন জায়গায় যেতাম কেউ কোন দিন আমার লাশও খোঁজে পেতনা। দূরে গেলে বাড়ির মানুষ খোঁজাখুঁজি করে হয়রানির শিকার হতো আর টাকা পয়সা নষ্ট করতো।
আমার অসুখ হওয়ার পর থেকে আস্তে আস্তে কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। পরিশ্রমের কোন কাজ করিতে পারিতাম না। সহজ কাজ হলে করিতে পারিতাম। বসিয়া কাজ বা কিছুটা হাঁটাহাঁটি করিয়া কাজ হলে করিতে পারিতাম।
এমনিতেই কাজ করিতে পারি না তার উপরে আবার মানসিক অসুখ। একটুখানি কাজ করিলেই হাত সহ শরীর কাঁপতে শুরু করে। যখনই শরীরটা কাঁপতে শুরু করে তখনই আমি মানসিক এবং শারীরিক ভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ি।
আমার বড় ভাই আমাকে বলে ছিল চেষ্টা করিলেই সব কাজ করা যায়। আমি সেই কথা মাথায় রেখে অনেক কাজ বহুবার করে চেষ্টা করেছি। পারি নাই। তো আরকি করব। আমার আর কোনকিছু করার নেই। দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে হলে কাজ করতে হবে। কাজ ছাড়া বাচাঁর কোন উপায় নেই।
অসুস্থতার জন্য আমার কাছে কোন মূলধন ছিলনা। কয়েকজন কে বললাম আমাকে কিছু টাকা ধার হিসাবে দাও একটি দোকান দিব পরে আস্তে আস্তে শোধ করে দিব। না পেলামনা। মৃত্যুর আগে কেউ মিথ্যা কথা বলতে পারেনা। কাজ যেটাই করিতাম সততার সাথে করিতাম এবং কেউ যদি আমাকে মূলধন দিয়ে একটি দোকান করিবার সহযোগিতা করিত তাহলে দোকানের লাভ দিয়ে তার টাকা পাই টু পাই তাকে বুজিয়া দিতাম। এবং সারাজীবন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতাম। তারা মনে করিত আমার তো কোন কিছুই নাই যদি টাকা ফেরত দিতে না পারি। কারো টাকা মেরে দেওয়া বা কারো সাথে প্রতারণা করা আমার চরিত্রে ছিলনা।
আমার স্বভাবের মধ্যে একটা নেগেটিভ দিক ছিল তাড়াতাড়ি কারো সাথে মিশতে পারতামনা।
মানসুরাকে দেখাশোনা করার জন্য খুকীর মা আছে এবং আমি আমার বড় ভাইকে ও মেহেদী হাসানের মাকে অনুরোধ করে যাইতেছি যে তারা যেন মানসুরাকে একটু দেখাশোনা করে। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমিই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী।
আমার ছালে ফুফুকে বলে দিও তার লুলা মামু চলে গেছে।
আর খুকীর মা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমাকে আমি কষ্ট ছাড়া আর কোনকিছুই দিতে পারলামনা।
নিকৃষ্ট কাজের মধ্যে একটা কাজ হলো কারো কাছে কোনকিছুর প্রতিদান চাওয়া। হে ফাতেমা আর শামীমা তোদেরকে বলছি। তোদের প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল স্বচ্ছ পানির মতো নিখুঁত পরিস্কার। একজন পিতা তার সন্তানকে যেমন ভালোবাসে ঠিক তদ্রূপ আমি তোদেরকে এমন ভালোবাসতাম। হয়তো তোদেরকে আমি কোনদিন কোনকিছু দিতে পারি নাই। কারণ অসুস্থতার জন্য কোনদিন ঘুরে ফিরে দাঁড়াতে পারি নাই। এখন এখানে দুইটা প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথম প্রশ্ন – তোরা ছাড়া আমার আরো অনেকগুলি চাচাতো বোন আছে। তাদের প্রতি আমার এত ভালোবাসা নাই কেন ? দ্বিতীয় প্রশ্ন -তোরা আমার চাচাতো বোন। তোরা ছাড়া আমার আপন ছোট দুই বোন আছে। আপন বোনের চেয়ে চাচাতো বোনের প্রতি এত ভালোবাসা কেন?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর -আমার অসুস্থতার কারণে কোন কাজ করিতে না পারায় আমি অনেক দিন বাড়িতে ছিলাম তোদের সাথে। তখন বাড়িতে আমার অন্যান্য কোন চাচাতো বোন ছিলনা। তোদের সাথেই আমার ওঠাবসা বেশি হয়েছে। আমার যখন রোগটি উঠিত আমি কোনকিছু বলার আগেই তোদের হাতের ছোঁয়া আমার শরীরে অনুভূতি পাইতাম। রোগ উঠিলে কথাও বলিতে পারিতামনা। তোরা আমার মনের ভাষা বুজতি। তখন আমাকে কিভাবে সেবা করিতে হইবে তা তোরা নিজের মতো করে করতি। তাই তোদের প্রতি আমার মনের ভিতরে আলাদা একটা ভালোবাসা কিভাবে জন্ম নিয়েছে আমি নিজেও টের পাইনি।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর -আমার আপন ছোট দুই বোন আছে। তারা আমার বয়সে প্রায় পিঠেপিঠি। পিঠেপিঠি হওয়ার কারণে খুনসুটি হয়েছে বেশি। খুনসুটির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর পরই তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট বোনকে কিভাবে ভালোবাসতে হয় তা অনুভূত হওয়ার আগেই তাদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং আমি নিজেও কাজের সুবাদে অন্যত্র থাকতাম। আর তোদের সাথে আমার বয়সের অনেক পার্থক্য। তাই তোদের জন্য আমার আলাদা একটা টান ছিল। আজ আমি তোদের কাছ থেকে আমার ভালোবাসার প্রতিদান চাই। আমি আমার দুইজন সন্তান রেখে গেলাম। তাদেরকে একটু ভালোবাসা দিস।
ছাতিরচর বাসী সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার এছাড়া আর কোন কিছু করার ছিলনা।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x