ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩২ মিনিট ৯ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৯ শাওয়াল, ১৪৪১

আইনি প্রতিকার ও সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি: নারীর প্রতি সহিংসতা

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ

করোনা সংকটের কারণে চলমান অবরুদ্ধ অবস্থায় যেখানে নারী ও শিশুরা অধিক সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দাবি করে, সেখানে তাদের প্রতি সহিংসতার হার বেড়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে নারীর ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ২৪৯টি। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, খাদ্য ও অর্থসহায়তা থেকে বঞ্চিত রাখা। এই সময়ে ৪২৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪২টি শিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।

 অপর এক জরিপে দেখা যায়, করোনাজনিত লকডাউনের সময় বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে ২০ শতাংশের মতো। জাতিসংঘ মহাসচিব এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সময়ে বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার হার কত ভাগ বেড়েছে, তা জানা যায়নি। তবে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জরিপমতে, ১ হাজার ৬৭২ জন নারী বলেছেন, তাঁরা লকডাউনের সময়ই প্রথম সহিংসতার শিকার হন। তাঁদের অনেকে নির্যাতিত হয়েছেন ত্রাণসামগ্রী নিতে ও আশ্রয়ের সন্ধান করতে গিয়ে।

 এই প্রেক্ষাপটে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন যে সরকারের ত্রাণসহায়তা কর্মসূচির মধ্যে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে, তা খুবই জরুরি। লকডাউনের সময় নারী ও শিশুরা যেখানেই থাকুক, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।

 নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে। সহিংসতা বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে ১০৯ ও ৯৯৯ নম্বর-এর যে হেল্প লাইন চালু আছে, তা আরও জোরদার করা যেতে পারে।

 যেখানে জীবনের নিরাপত্তার জন্য লকডাউন বা ঘরবন্দী থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে এটিকে নারীর প্রতি সহিংসতার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা জঘন্য অপরাধ। লকডাউনের সুযোগ নিয়ে যেসব দুর্বৃত্ত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ঘটাচ্ছে, দ্রুত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও বিচার হতে পারে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of