ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১৭ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৯ শাওয়াল, ১৪৪১

এবার সড়ক, রেল ও নৌপথে ঈদযাত্রা অনেকটাই অনিশ্চিত

অনলাইন ডেস্ক

নিরাপদ নিউজ

দেশে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। প্রতি বছর দুই ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। রীতিমতো যুদ্ধ করে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এর পরও রয়েছে নানা ঝুঁকি ও দুর্ভোগ। এসব মাথা পেতে নিয়েও লাখ লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

দেশে অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে; বাড়ছে মৃত্যু। এমন বাস্তবতায় এবার সড়ক, রেল ও নৌপথে ঈদযাত্রা অনেকটাই অনিশ্চিত। সঙ্গত কারণেই নেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি এবং সোনার হরিণরূপী সেই টিকিট সংগ্রহের চিরচেনা চিত্র। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতির কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঢাকা ছাড়ার অনুমতি মিলবে না; চলবে না দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে কোনো যানবাহন।

একাধিক সূত্রের তথ্যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় যান চলাচলে আরও কঠোর হতে যাচ্ছে সরকার।

যাত্রা ঠেকাতে ঈদের আগের ৪ দিন, ঈদের দিন এবং এর পরের ২ দিনসহ মোট ৭ দিন গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হবে। কেবল জরুরি সার্ভিসের যানবাহন চলাচলে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ঈদে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত সব ধরনের যানবাহনের যাতায়াত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

ঈদুল ফিতরের সময় ঘনিয়ে এলেও এবারই প্রথম কোথাও অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। ট্রেনের টিকিটের জন্য রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনসহ ৫টি স্থানে আগের ঈদগুলোয় দেখা গেছে মানুষের দীর্ঘ লাইন; নগরীর গাবতলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে রাত থেকেই ছিল সকালে টিকিট ক্রয়ে ইচ্ছুক যাত্রীর লম্বা সারি; নৌপথেও তথৈবচ। না, এবার তা নেই। নেই কোনো তদবিরও।

করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত বিশেষজ্ঞদের প্যানেল রেলযাত্রা চালুর ক্ষেত্রে ১৪টি সুপারিশ করে। সেগুলো মানতে হলে ট্রেনে ঈদযাত্রা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। তাদের সুপারিশের ৪ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, সব এয়ার সিস্টেমের ফিরতি বাতাস বন্ধ রাখুন। তা করতে গেলে বিদ্যমান এসি কোচ পরিচালনা সম্ভব নয়।

এর বাইরে সাধারণ কোচের বেলায় যাত্রী পরিবহন, আসন বণ্টন, স্টেশনে তাপমাত্রা নিরীক্ষা ও পরিচ্ছন্নতাসহ বেঁধে দেওয়া শর্তাদি মেনে ঘনবহুল এ দেশে ট্রেনে ঈদযাত্রী পরিবহন সহজ নয় বলে ইতোমধ্যে রেল মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেল কর্মকর্তারাও বলছেন, কোনোভাবেই এবারের ঈদে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এলে অবশ্য ট্রেন পরিচালনায় তাদের কোনো আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে ট্রেন চলাচলের বিষয়টি। পণ্যবাহী ট্রেন চলছে। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে নির্দেশনা পেলে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় একের পর এক দফায় বাড়ছে সাধারণ ছুটি। এর আওতায় গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থায় পরিবহন খাতে বড় ধরনের সংকট আসছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, সড়কপথে গণপরিবহন কবে চালু হবে তা এখনই বলা যাবে না। সরকারি ছুটি চলাকালে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। ছুটি প্রত্যাহার করলে সীমিত আকারে চালু করা যায় কি-না, তা তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির বাস্তবতায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে তা-ই করা হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক সািমতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, ঈদযাত্রার অনুমতি মিলবে এমন আভাস পাননি তারা। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তা এখন বলতে পারছেন না তারা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রাসহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন বন্ধ থাকায় এ খাতে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি দাঁড়াবে। কিন্তু কিছু করারও নেই। সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু করা কঠিন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল অথবা বিভাগীয় ও জেলাশহরে গাড়ি চলবে তা বলা সহজ নয়। সব নিয়ম মেনে যাত্রী পরিবহন করার মতো সচেতন নন পরিবহন শ্রমিকরা।

সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪টি সুপারিশ রয়েছে। আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জীবাণুনাশক স্প্রের শর্তাদি মানার মানসিকতা এবং মানতে বাধ্য করার মতো অবস্থায় নেই পরিবহন খাত। বরং দীর্ঘদিন যান চলাচল বন্ধ থাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন শ্রমিকরা। পরিবহন মালিক-শ্রমিক কেউই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নজর দিতে চান না। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা এখনো পাচ্ছেন না কোনো ভাতা বা অনুদান। নেতা গোছের লোকেরাই অর্থকড়ি পকেটে ভরছেন। ত্রাণসহ সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের টাকাও শ্রমিকনেতাদের পকেটে। গাড়ি পাহারায় থাকা শ্রমিকদের মধ্যে মহাখালী টার্মিনালের শ্রমিকরা দিনে ৩শ করে টাকা পান। সায়েদাবাদে আরও কম, ২শ টাকা। নেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা।

এমনকি কোনো শ্রমিকনেতা তাদের খোঁজ নিয়েছেন এমনটিও মনে করতে পারছেন না। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতরভাবে দিনাতিপাত করছেন। রাজধানীতে বাস টার্মিনাল পাহারার বিনিময়ে দৈনিক খোরাকি পাচ্ছেন কিছু পরিবহন শ্রমিক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, দেশে নিবন্ধিত ২০ ধরনের গাড়ি আছে ৪৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ গাড়ি বাণিজ্যিক।

নৌযান চলাচলেও সরকারের ১৪টি নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার তাগিদ আছে সেখানে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লঞ্চে ঈদযাত্রী পরিবহন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লঞ্চ মালিকরাও যাত্রী পরিবহনে আগ্রহী নন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে যাত্রী পরিবহন করতে চান না তারা। আর তাই সদরঘাট ফাঁকা পড়ে আছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে।

দক্ষিণাঞ্চলের ২৩টি রুটে ঈদের অগ্রিম টিকিট ছাড়া হতো সদরঘাট থেকে। এবার টার্মিনাল থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার লঞ্চগুলো।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এবার নৌপথে কোনো ঈদযাত্রা নেই। সীমিত আকারে মালবাহী জাহাজ চলাচল করছে।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of