ব্রেকিং নিউজ

আপডেট মে ১৮, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ৫ শাওয়াল, ১৪৪১

চট্টগ্রামে বিনামূল্যে অর্ধশতাধিক টন সবজি বিতরণ

শফিক আহমেদ সাজীব

নিরাপদ নিউজ

চট্টগ্রামে বিনামূল্যে অর্ধশতাধিক টন সবজি বিতরণ করেছেন ছাত্র নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু। গতকাল বিতরণ এলাকা বাগমনিরাম ওয়ার্ড। সরেজমিনে প্রত্যক্ষ কালে দেখা যায়, কেউ নিচ্ছেন ঢেঁড়শ, কেউ বা মিষ্টি কুমড়া। আবার কারও চাই বরটি কিংবা লাউ। যার যেটা পছন্দ-প্রয়োজন সেটাই নিয়ে যাচ্ছেন চাহিদামত, তাও আবার একেবারে ফ্রি সাথে পাচ্ছে জনপ্রতি দুটি করে ডিম। করোনাভাইরাসের ক্রান্তিকালে নগরজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবজি বোঝাই ৮ টি ভ্যান।

নগরের দুস্থ ও নিম্ন আয়ের খেঁটে খাওয়া মানুষরা এসব সবজি ও ডিম সংগ্রহ করেন। করোনাভাইরাসের কারনে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পরই নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে ফ্রি সবজি বাজার নামে ব্যাতিক্রমী এ উদ্যোগ নেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু। বাচ্চুর গঠিত টীম প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের প্রায় দেড় হাজার কেজিও অধিক সবজি নিয়ে ৮ টি ভ্যান পৌঁছে যাচ্ছে নগরীর একেক ওয়ার্ডে।

সেখান থেকেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে এসব সবজি। যেখানে রয়েছে লাউ, ঢেঁড়শ, পটল, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো,বাঁধাকপি ইত্যাদি সবজি এবং জনপ্রতি দুইটি করে ডিম। প্রতিদিন প্রায় আট শতাধিক ডিম বিতরণ করা হয় একদম ফ্রিতে সংগ্রহ করছেন দুস্থ ও নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষগুলো। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম এখনও চলমান আছে। এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক টন সবজি। এভাবেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডেই পৌঁছে যাবে ফ্রি সবজি বাজার।

এ ব্যাপারে আরশেদুল আলম বাচ্চু বলেন, এ দূর্যোগকালীন সময়ে যেসব মানুষ খাদ্যাভাবে রয়েছেন তাঁদের পাঁশে দাড়াতেই এ উদ্যোগ। নগরীর একেকটি ওয়ার্ডে একেকদিন আমাদের ফ্রি সবজি বাজার পৌঁছে যাচ্ছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরের গোয়াল পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন গার্মেন্টকর্মী সানজিদা বেগম।

করোনার কারণে বহুদিন ধরে বাসায় আছেন তিনি। শরীরে বাসা বেধেছেন ডায়াবেটিস নামক রোগ তাই তিনি মেহেদীবাগ এলাকায় এসেছেন ডাক্তারের কাছে। দেখতে পারেন কিছু লোকজন বিনামূল্যে সবজি বিতরণ করছেন। এগিয়ে যেয়ে বিভিন্ন রকমের একব্যাগ সবজি নেন তিনি। ছয় বছর আগে রেলপথ দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার তার। এ সাহায্য পেয়ে অনেক খুশি তিনি। তিনি বলেন, অনেক কষ্টের আছি। সামান্য বেতনে চাকরি করি তাও বন্ধ। ধার-দেনা করে চলছি। এ মুহূর্তে এমন সাহায্য অনেক বড় পাওয়া।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of