ব্রেকিং নিউজ

আপডেট মে ২১, ২০২০

ঢাকা শনিবার, ৬ জুন, ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১

কৃষকের পাশাপাশি লটারীতে ভাগ্য খুলেছে অন্যদেরও

রেদুয়ানুল হক

নিরাপদ নিউজ

ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ২২ জেলায় আপসের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান ক্রয় করবে বলে ঘোষনা দেওয়ায় গত ০৭/০৫/২০২০ইং তারিখ রোজ (বৃহস্পতিবার) কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় কৃষকদের কাছ হতে সরকারি মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে কৃষি কার্ড নম্বর হতে লটারীর মাধ্যমে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ,স্হানীয় নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি এবং কৃষি ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দদের সম্মুখে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন যথা সিংপুর, দামপাড়া,কারপাশা, নিকলী সদর, জারইতলা,গুরই এবং ছাতিরচর হতে মোট ৮০৭২ জন কৃষকের মধ্য হতে ৯৬৫ জন কৃষককে বাছাই করা হয়,যারা সরকারের কাছে প্রত্যেকে ২ টন করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান সরবরাহ করবেন।

উপজেলার প্রত্যকটি ইউনিয়ন ওয়ার্ড, গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা থেকে সংগ্রহীত ৮০৭২ টি কৃষি কার্ডের মধ্যে বহু কার্ডধারী ব্যক্তি রয়েছেন যারা প্রকৃতপক্ষে কৃষি ও চাষাবাদের সাথে সম্পৃক্ত নন। এদের মধ্যে কেউ রিক্সা চালক, ঠেলাগাড়ী চালক, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, ও অন্যান্য পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদের মধ্যে কারও নিজস্ব জমি রয়েছে আবার কার নেই। নিজস্ব জমি থাকলেও উনারা নিজে আবাদ করেন না বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন বঞ্চিত প্রকৃত কৃষক।

বাচাই করা তালিকায় রয়েছেন মোট ৯৬৫ জন কৃষক। এর মধ্যে নিকলী সদর ইউনিয়নে ২০০ জন কৃষকে বাচাই করা হয়। সদর ইউনিয়নের কুর্শা গ্রামেই ১০/১২ জন সরকারের কাছে ধান বিক্রয়ের অযোগ্য দাবি করে এ ব্যাপারে কুর্শা গ্রামের কৃষক মোঃ রাজন ভূঞা, সিরাজ উদ্দিন, আল মাহমুদ,তমিজ উদ্দিন, রতন মিয়া, লালচান মিয়া বলেন এতো শুধু মাত্র একটি গ্রামের চিত্র সারা উপজেলায় না জানি কতজন অকৃষ উপসহকারী কৃষি অফিসার ব্লক সুপারভাইজারদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাচাই হয়ে গেছে সেটা কে জানে। আমরা প্রকৃত কৃষকরা বরাবরই অসহায়। কখনও বন্যায়, অতিবৃষ্টিপাতে, কখনও শিলা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হচ্ছে। আবার কখনও ধানের মূল্য উৎপাদন খরচেরও কম।

ধানের ন্যায্য মূল্য প্রকৃত কৃষকের অধিকার। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ভুয়া কৃষকদের কার্ড দৈবচয়ন পদ্ধতির বক্সে রাখার কারনে। তবে এ ব্যাপারে কেউই লিখিত কোন অভিযোগ দেননি উপজেলা প্রশাসনের নিকট।

নিকলী সদরের কৃষক মোঃ ইস্রাফিল মিয়া বলেন অকৃষকদের কার্ড মধ্যস্থতাকারীদের নিকট বিক্রি হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে। খাদ্য গোদামে যদি মধ্যস্থতাকারীদের ধান ফেরত দেওয়া হতো এবং এদের কটোর হাতে ধমন করা যেতো তাহলে প্রকৃত কৃষকরা তাদের অধিকার ফিরে পেতো।

নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব এম এ রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি সাহেব বলেন এই বছর যারা কৃষি জমিতে ধান চাষ করেছেন তারাই শুধু কৃষি কার্ড জমা দিবে। আমাদের যারা ব্লক সুপারভাইজার আছেন উপ সহকারী কৃৃষি অফিসারগন আছেন তারা অল্প সময়ের মধ্য যতটুকু পারেন যাচাই বাচাই করে কার্ড জমা নিয়েছেন তারপরও যদি কোন অকৃষক থেকে থাকে তাদের ব্যাপারে নাম ধরে অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সামসুদ্দিন মুন্না মহোদয় বলেন আমার ফোন নাম্বার উল্লেখ পূর্বক মাইকিং করেছি। প্রত্যকটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা টানানোর ব্যবস্থা করেছি কারও কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের অবগত করার নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তুু নির্ধারিত সময়ে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা উক্ত তালিকাটি নির্ভুল বলে বিবেচনা করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড মেম্বারগন এই তালিকা তৈরিতে সম্পৃক্ত ছিল। আমরা যাতটুকা সম্ভ্যব যাচাই বাচাই করেছি। তারপরও কেউ অভিযোগ দিলে আমরা অপেক্ষমান তালিকা থেকে বাচাই করবো।

নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব জানান, লটারী ঠিকমতোই হয়েছে। কিন্তু লটারির প্রক্রিয়াটা নিয়ে মনে হয় সমস্যা আছে। কারণ প্রত্যেকটি ওয়ার্ডেই এমন কিছু নাম লটারীর মাধ্যমে উঠে এসেছে যারা প্রকৃত কৃষক না, আবার বর্গা চাষি ও না। এ নিয়ে সাধারণ কৃষকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of