ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৫ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ১০ শাওয়াল, ১৪৪১

ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ গিয়াস উদ্দিন আর নেই

মো.আলাল উদ্দিন, ভৈরব প্রতিনিধি

নিরাপদ নিউজ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জননন্দিত রাজনীতিক আলহাজ্ব মো. গিয়াস উদ্দিন (৭০) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আজ মঙ্গলবার ২ জুন সকাল ৭.৩০ মিনিটে রাজধানীর সাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২৮ মে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ’তে নেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মঙ্গলবার ২ জুন সকালে তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

মো. গিয়াস উদ্দিন ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের মরহুম আফছর উদ্দিনের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার-পরিজন ও অনুসারীসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে আসে।

জানা গেছে, মো. গিয়াস উদ্দিন ভৈরবের গণমানুষের কাছে একজন স্পষ্টবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত থাকাকালীন সাধারণ মানুষের মতামতে পদত্যাগ করে ১৯৯০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

মো. গিয়াস উদ্দিন রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ৮৪ হাজার ৭৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন পান ৬৭ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

মো. গিয়াস উদ্দিন ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর ভৈরব উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপি’র রাজনীতির মারপ্যাচে পরে তাকে দল থেকে বহিস্কৃতও হতে হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ভৈরব উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন ও দলীয় প্রতীক ছাড়াই মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দু্ই প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

মো. গিয়াস উদ্দিন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

শিক্ষার জন্য তার বাবার নামে নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন আফছর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। একই সাথে ইসলামী শিক্ষায় নারীদের শিক্ষিত করা জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন মহিলা মাদ্রাসা।

মো. গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. নাজমুল হাসান পাপন।

গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শরীফুল আলম। একই সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, নিরাপদ সড়ক চাই ভৈরব শাখার সভাপতি এস.এম বাকি বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন ও সুশীল সমাজের লোকজনসহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of