ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৭ জুন, ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ , গ্রীষ্মকাল, ১৪ শাওয়াল, ১৪৪১

দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে ছাত্র ও কৃষকসহ ১১ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

নিরাপদ নিউজ

দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে স্কুল ও কলেজছাত্রসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময় এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে-

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ধরেরবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বজ্রপাতে মো. অনিক (১৫) নামে নবম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের ধরেরবাড়ী এলাকার ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হক সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে মা-বাবার সঙ্গে অনিক খড় শুকাচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার বাহুবল উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার নোয়াঐ ও জারিয়া বিলে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের নোয়াঐ গ্রামের দরদ মিয়ার ছেলে ওড়কাইদ (১১) ও সাতকাপন ইউনিয়নের মানিকা গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে নরছ উদ্দিন (১৭)।

পুলিশ জানায়, নোয়াঐ গ্রামের ওড়কাইদ তার বড় ভাই জুনাইদসহ আরও দুইজনকে নিয়ে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যায়। এ সময় বজ্রপাতে ওড়কাইদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বজ্রপাতে তার ভাই জুনাইদ ও বন্ধু উসমান আহত হয়।

আহত দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ দিকে জারিয়া বিলে মানিকা গ্রামের নরছ উদ্দিন মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

বাহুবল মডেল থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বজ্রপাতে রফিক উল্যাহ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪জুন) দুপুরের দিকে হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে মাটি কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানা পুলিশের ওসি আবুল খায়ের।

তিনি জানান, নিহত রফিক উল্যাহ (৩৮) সুবর্ণচর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের মধ্য চরবাটা গ্রামের গুল্লালাগো বাড়ির মৃত শফি আলমের ছেলে।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলার কাহালুতে বজ্রপাতে মখলেছুর রহমান (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার এরুলিয়া বাজার এলাকায় বোরো ধান বস্তায় তোলার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

এ সময় একই গ্রামের কৃষক রায়হান হোসেন (৩৫), হাসান আলী (৪০) ও মুদি ব্যবসায়ী আল-মামুন (৪২) আহত হন। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাহালু থানা পুলিশের ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম।

অপরদিকে, ধুনট উপজেলায় গোচারণ ভূমি থেকে গরুর বাথান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আব্দুস ছালাম সরকার (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের মহিশুরা-সাতটিকরী পাকা সড়কের দেউড়িয়া সেতুর উপর এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আব্দুস ছালাম সকালের দিকে বাড়ির অদূরে মাঠের গোচারণ ভূমিতে গরু চরাতে যান। বিকেলের দিক বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে তিনি গরুর বাথান নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন। এ সময় দেউড়িয়া সেতুর উপর পৌঁছালে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার পারুলিয়া গণকবাড়ী গ্রামে বজ্রপাতে সুকমল চন্দ্র (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, কৃষক সুকমল বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে গোসল করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনায় বজ্রপাতে কলেজছাত্রসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার তেলিগ্রামের নূরুজ্জামান মোল্লা (১৯) ও সুজানগর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের আ. জলিল (৫০)।

কলেজছাত্র নূরুজ্জামান ওই গ্রামের আলতাফ মোল্লার ছেলে। আর আ. জলিল ওই গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে ও পেশায় কৃষক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কলেজছাত্র নূরুজ্জামান তার বাড়ির পাশে একটি মাঠে ঘাস কাটতে যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি এবং বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে নূরুজ্জামান ঘটনাস্থলেই মারা যান। নূরুজ্জামান শাঁখারীপাড়া সুধীর কুমার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেন।

এদিকে সুজানগর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের আ. জলিল বিকেল ৫টার দিকে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আতাইকুলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম এবং সুজানগরের শান্তিপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামে ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামের হামিদুল মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৩০) ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের ময়েজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে শফি মন্ডল (৪৫)।

সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন জানান, দুপুরে গরু চড়াতে পদ্মার চরে যায় ফারুক।একটু পরে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। এরমধ্যে বিকেল ৩ টার দিকে গরু চরানো অবস্থায় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে বিকেল ৫টার দিকে মাঠে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক শফি মন্ডলের মৃত্যু হয়।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of