আপডেট ১১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০, ২১ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪১

জনগণের পাশেই থাকতে হবে জনপ্রতিনিধিদের: উপজেলা চেয়ারম্যানের হটলাইন

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ

স্বাভাবিক অবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের কিছু রুটিন কাজ করলেই চলে। কিন্তু যখন দেশে দুর্যোগ আসে, সেটি হতে পারে প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট, তখন জনপ্রতিনিধিদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়। করোনাভাইরাসের থাবায় গোটা দেশ প্রায় বিপর্যস্ত। দুই মাসের অধিক সময় লকডাউন চলছিল। এ সময়ে যেসব জনপ্রতিনিধি জনগণের পাশে থেকেছেন, তাঁরাই জনপ্রতিনিধিত্বের দাবি রাখেন। আর যাঁরা গরিবের হক মেরে খেয়েছেন কিংবা জনগণ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন, জনপ্রতিনিধি দাবি করার অধিকার তাঁদের নেই।

জানা যায়, সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম হটলাইনের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় মানুষকে সহায়তা দিয়েছেন। এই হটলাইনে যেকোনো ব্যক্তি ফোন করে সহায়তা চাইলে তিনি তাঁর ঠিকানায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

হটলাইন চালুর কারণ ব্যাখ্যা করে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেছেন, অনেকের পক্ষে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণসামগ্রী নেওয়া সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে যাঁরা স্বাভাবিক অবস্থায় নিজেদের রোজগারেই চলতেন এবং করোনা সংকটের কারণে কাজ হারিয়েছেন। এই মানুষগুলো লোকলজ্জার ভয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নিতে পারেননি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছেন। এটি সরকারি তহবিল থেকে ১৬ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে দেওয়া সহায়তার বাইরে।

লকডাউন শেষ হওয়ার পরও এই উপজেলা চেয়ারম্যান সীমিত পর্যায়ে হটলাইন চালু রেখেছেন। কেননা, এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অনেক শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় গত এপ্রিল মাসেই হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। অনেক জনপ্রতিনিধি সেই সুযোগটি ব্যবহার করেছেন। অনেকে করেননি। যেসব জনপ্রতিনিধি এটি ব্যবহার করেছেন, সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁদের একজন। সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে যে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-৬–এর সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীসহ আরও অনেক জনপ্রতিনিধি সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করেছেন। সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসতেন, তাহলে গরিব ও হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া মানুষগুলোর দুর্দশা কমত।

করোনা সংকটকালে সংখ্যায় কম হলেও অনেক জনপ্রতিনিধি শুরু থেকে জনগণের পাশে থেকে সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন। এখনো করছেন। আমরা তাঁদের সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে অন্যদেরও তাঁদের পথ অনুসরণ করে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানাই। করোনা সংকট সহজে যাবে না। অতএব, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও উদ্যোগী ভূমিকা প্রত্যাশিত।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of