ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১ আশ্বিন, ১৪২৭, শরৎকাল, ৮ সফর, ১৪৪২

বিজ্ঞাপন

গৃহকর্মী ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

নিরাপদ নিউজ

গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলী (৫০)’র বিরুদ্ধে তার নিজ বাড়ির কিশোরী গৃহকর্মীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধা সদর থানায় ওই ধর্ষিত কিশোরীর দাদি বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি নিয়ে গাইবান্ধায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সচেতন মানুষ। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নওহাটী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি গাইবান্ধা জেলা শহরের থানাপাড়ায় নিজ বাসায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন।

এ দিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তভার জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে দেয়া হয়েছে।

ওই কিশোরীর বাবা জানান, শিক্ষক ইউনুস আলী তার চাচাতো ভাই। ইউনুস প্রায় ৩ বছর আগে তার মেয়েকে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির গৃহকর্মীর কাজ করার জন্য গ্রাম থেকে গাইবান্ধা শহরের বাসায় নিয়ে যায়। তার সাথে কথা ছিল মেয়েটি সেখানে কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করবে এবং বড় হলে তার বিয়ের দায়িত্ব নেবেন ইউনুস।

ওই কিশোরী অভিযোগ করে জানায় , প্রায় ৮-৯ মাস আগে একদিন দুপুর বেলা বাথরুমের দরজার ছিটকিনি ভুলে না দিয়ে গোসল করছিল। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই শিক্ষক বাথরুমে প্রবেশ করে। পরে তাকে বাথরুম থেকে বের করে নিয়ে গৃহকর্মীর বেডরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি দেখান। পরে ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানাতে ধর্মীয় গ্রন্থ স্পর্শ করিয়ে শপথ করান। এরপর থেকে তার উপর চলতে থাকে ওই শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতন।

গাইবান্ধা থানা চত্বরে ওই কিশোরীটির দাদী বলেন, এরপর বিষয়টি শিক্ষকের স্ত্রী জানতে পেরে সম্প্রতি ওই কিশোরীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু হঠাৎ মেয়েকে বাড়িতে পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে কোনো উত্তর না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে শিক্ষক ইউনুসের যৌন নির্যাতনের ঘটনা মা-বাবার  কাছে বর্ণনা দেন। তিনি আরো জানান, বিষয়টি ওই শিক্ষকের পরিবারকে জানালে সমাধান না করে উল্টো তারা ওই মেয়ের পরিবারকে বিভিন্নভাবে শাসান।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার জানান, ঘটনাটি জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। তাদের রিপোর্ট পাবার পর গ্রেপ্তারসহ পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে।

জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইউনুস আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা যায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মাহফুজা খানম মিতা ও সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ কিশোরী গৃহকর্মীর ওপর যৌন নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x