ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জুন ১৫, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০, ২৬ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪১

প্রেমিকের তোলা আপত্তিকর ছবিই কাল হলো কলেজছাত্রীর: রাগে-অভিমানে আত্মহত্যা!

বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

নিরাপদ নিউজ

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করেন প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি। পরে তার পরিবার বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় সেই আপত্তিকর ছবি মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে অর্থ দাবি করেন ওই প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছবি প্রকাশের হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় রাগে-অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন মারিয়া আক্তার গাজী (১৯) নামে এক কলেজছাত্রী।

মারিয়া জেলার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াছ মিয়ার মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার প্রেমিক জাবেদ মজুমদার পার্শ্ববর্তী খলারপাড় গ্রামের মোস্তফা মজুমদারের ছেলে।

থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ ও ওই ছাত্রীর পরিবার থেকে জানা যায়, কলেজছাত্রী মারিয়া নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে পার্শ্ববর্তী খলারপাড় গ্রামের জাবেদ মজুমদার নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাদের প্রেমের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মারিয়ার পরিবার ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ছেলেকে সাবধান করার জন্য বলেন।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবেও এলাকার লোকজন জাবেদকে মারিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দেয়। এতে জাবেদ ক্ষিপ্ত হয়ে মারিয়ার ওপর প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে আগে গোপন ক্যামরায় ধারণকৃত মরিয়ার সব আপত্তিকর ছবি পরিবারের নিকট মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে অর্থ দাবি ও ফেসবুকে প্রকাশের হুমকি দেন।

এ বিষয়ে মারিয়ার মা সাদিয়া আক্তার জানান, ‘আপত্তিকর ছবিগুলো মারিয়াকে পাঠানোর পর তার বাবার ফেসবুক মেসেঞ্জারেও পাঠায় ওই যুবক। এ ছাড়াও মারিয়ার বড় ভাই ও আমাকেও ওই ছবিগুলো পাঠিয়ে বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ধারণকৃত ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। তাই এসব ছবি দেখে লজ্জায় ও অভিমানে গত ৮ জুন মারিয়া বিষপানে আত্মহত্যা করে।’

এ ঘটনায় গত ১১ জুন প্রেমিক জাবেদ, তার বাবা মোস্তফা মজুমদার ও তিন ভাইসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মারিয়ার মা। মামলার অভিযোগের সঙ্গে মেসেঞ্জারে জাবেদের হুমকি, কিছু ছবি ও কথোপকথনের সব স্ক্রিনশট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরুড়া থানার এসআই আনিছুর রহমান জানান, ‘থানায় মামলা করার পর আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়ে আসছি। মামলার প্রধান আসামিসহ সবাই পালাতক রয়েছে। তাই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।’

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x