আপডেট জুন ২১, ২০২০

ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০, ২৮ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২০ জিলক্বদ, ১৪৪১

চালের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করুন: খাদ্যনিরাপত্তা

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ

করোনা সংকটে কৃষিই প্রধান ভরসা বলে মনে করেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। সরকারও বলে আসছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে এবার রেকর্ড পরিমাণ ৩ কোটি ৬১ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি নেই।

কিন্তু শঙ্কার বিষয় হলো, সাম্প্রতিক কালে সরকারি গুদামে চালের মজুত কমছে।  গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্চে চাল–গমের মজুত ছিল ১৭ লাখ ৬২ হাজার টন। ১৫ জুন সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৩ হাজার টনে। অন্যদিকে ২৬ এপ্রিল থেকে চাল সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার টন এবং ধান ২৬ হাজার টন।

সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সরবরাহ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধান–চাল–গম মজুত রাখে। আবার সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় সেখান থেকে জনগণের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেয়। সরবরাহের তুলনায় সরকারি সংগ্রহ ও মজুত কমতে থাকলে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে চালকল মালিক সমিতি সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা চুক্তি অনুযায়ী ৩৬ টাকা কেজি দরে সরকারের কাছে চাল বিক্রি করতে পারবে না। কেজিপ্রতি ৪ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। গত সপ্তাহে চালকল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বাজারে ধান–চালের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে তাঁরা পূর্বনির্ধারিত দামে চাল সরবরাহ করতে পারছেন না।

এমন সময়ে চালকল মালিক সমিতির এই বক্তব্য এল, যখন করোনা সংকটের কারণে সরকারকে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে হয়েছে।

সরকার সিংহভাগ চাল কিনে থাকে চালকলমালিকদের কাছ থেকে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয় সামান্যই। এটা ভুল নীতি এবং এ জন্য সরকারকে বারবার খেসারত দিতে হচ্ছে। ২০১৭ সালে চালের সংকটের সময়ও চালকলমালিকেরা বেঁকে বসেছিলেন।

তাই চালকলমালিকদের আবদার মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। তাতে বাজারে চালের দাম বাড়বে এবং তা সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। দেশে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী থাকলেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, সেটি সাধারণ মানুষের সামর্থে্যর মধ্যেও রাখতে হবে। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও বলেছেন, চুক্তিমাফিক চালকলমালিকদের প্রতি কেজি ৩৬ টাকায়ই দিতে হবে। ৩১ আগস্টের মধ্যে চাল না দিলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন তিনি।

আমরা মনে করি, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে এখনই ফয়সালা হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে সরকার চালকলমালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। মালিকেরা নির্ধারিত দামে চাল না দিলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও সরকার চাল কিনতে পারে। চালের দাম কোনোভাবে বাড়তে দেওয়া যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ট এ এম এম শওকত আলী বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ফের চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিতে পারে। চাল আমদানি হলে দাম কমবে। তখন আর চালকলমালিকেরা বাজারে দাম বাড়ার ঠুনকো অজুহাত দিতে পারবেন না।

যে চালকলমালিকেরা করোনা সংকটের সুযোগ নিয়ে বাড়তি মুনাফা করতে চাইছেন, তঁাদের দাবির কাছে সরকারের নতি স্বীকার করা চলবে না। সরকারকে জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সে জন্য সরকারি গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করাও জরুরি।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x