আপডেট ১১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০, ২২ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১৪ জিলক্বদ, ১৪৪১

নদী ভাঙনে বিলিনের পথে নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়ন

রেদুয়ানুল হক (শাওন), নিকলী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

নিরাপদ নিউজ

ঘোড়াউত্রা নদীর ভাঙন কবলে পরে বর্তমানে চলমান বিশ্বমহামারী করোনা ভাইরাস আতঙ্কের ছেয়েও অধিক আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের মানুষ। নিকলী উপজেলায় বহমান খড়স্রোতা নদী ঘোড়াউত্রার পূর্বপারে বিশহাজার জনসংখ্যার বসবাস ছাতিরচর ইউনিয়নে।

এ গ্রামের মানুষদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। এক ফসলী জমিতে ধান চাষ করে যেটুকু আয় রোজগার হয় তা দিয়েই চলতে হয় সারা বছর। জীবন জীবিকার তাগিদে অভাব অনটনের সংসার খরচ মেটাতে বর্ষা মৌসুমে হাওরে মাছ ধরে। আবার কেউ কেউ ঢাকা চট্টগামে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করে কোনরকম পরিবারের বরনপোষন করে।

ঘোড়াউত্রার নিষ্টুর আচরন এমন ভাবে চলতে থাকলে অদুর ভবিৎষতে যে এই গ্রামের অস্থিত্ব খুজে পাওয়া যাবেনা সে ব্যাপারে শিশু, কিশোর, যুবক,বৃদ্ধসহ মোটামুটি সবাই নিশ্চিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এ গ্রামে বসবাসকারী হাতেগুনা কয়েকটি পরিবার রয়েছে মুটামুটি আর্থিকভাবে সচ্ছল। তারা পৈতৃকভিটার বিকল্প হিসেবে উপজেলা সদরের ভিবিন্ন এলাকায় এবং পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে জমি ক্রয় করে রেখেছেন। এছাড়া বাকি সকল পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে জীবন যাপন করছে। পৈতৃকভিটা টিকিয়ে রাখতে তারা দিশেহারা হয়ে পরেছে। উপরে আল্লাহ্ এবং নিচে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারই একমাত্র শেষ ভরসা বলেই কেদেঁপেলেন এ গ্রামের কয়েকজন মুরব্বিয়ান।

নদী ভাঙনের কবল থেকে গ্রামের ঘরবাড়ি টিকিয়ে রাখতে সেচ্ছাশ্রমে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে এই গ্রামের সাধারন জনগন ও ছাতিরচর যুব শক্তি সংঘের সদস্যবৃন্দ। কিন্তুু ঘোড়াউত্রার হিংস্র থাবায় এ শ্রম বৃথা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ছাতিরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব ইয়ার খাঁন চৌধুরী বলেন, খননের মাধ্যমে গোড়াউত্রা নদীর গতিপথ পরিবর্তন না হলে যে কোন সময় নিকলীর মানচিত্র থেকে ছাতিরচর গ্রাম হাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে । গত কয়েক বছরে গোড়াউত্রা নদীর ভাঙন এতটাই প্রকট আকার ধারন করেছে যে কোন সময় ভাঙনের কবলে পড়তে পারে এ গ্রামের স্কুল, মসজিদ, বসতভিটা সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments