ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জুন ৩০, ২০২০

ঢাকা শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০, ২০ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১

পটুয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের কারণে এমপিওবঞ্চিত হতে যাচ্ছেন ল্যাব সহকারী জহিরুল!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

নিরাপদ নিউজ

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার চরখালী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা খানের কারণে দিশেহারা ল্যাব সহকারী (সিভিল) মোঃ জহিরুল ইসলাম বাসার। এই প্রধান শিক্ষকের কারণে জহিরুলের ১৪ বছরের স্বপ্ন সাধনা ভেস্তে যেতে বসেছে। ২০০৬ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরখালীর ল্যাব সহকারী (সিভিল) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন জহিরুল। কিন্তু পক্ষপাতিত্ব করে অন্যায়ভাবে সম্প্রতি অন্য ল্যাব সহকারীর নাম এমপিওভূক্তির জন্যে প্রেরণ করেছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এব্যাপারে সুবিচারের আশায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন করেছেন এমপিও বঞ্চিত মোঃ জহিরুল ইসলাম বাশার। জহিরুল ইসলাম বলেন, বিধি মোতাবেক সিভিল কনট্রাকশন ও জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস ট্রেডে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর পদে ও উক্ত ট্রেডের অনুকূলে ০২(দুই) জন ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ০২/১২/২০০৬ইং তারিখে আমি মোঃ জহিরুল ইসলাম বাশার ও অপরজন মোঃ মামুন ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। আমরা উভয়ই ০৩/১২/২০০৬ইং তারিখে যোগদান করে কর্মরত আছি। গত ৩০/০৪/২০২০ তারিখে সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেড এমপিও ভুক্তির পরই তৈরি হয় নতুন জটিলতা। এক্ষেত্রে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী উল্লিখিত সিভিল কনট্রাকশন ট্রেডে ল্যাব সহকারী পদে একজনই মাত্র এমপিও ভূক্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে অত্র বিদ্যালয়ে ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত দু’জনের মধ্যে মোঃ জহিরুল ইসলাম বাশারের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি (ভোকেশনাল) বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স, যা এমপিও’র শর্ত মোতাবেক ট্রেড সিভিল কনস্ট্রাকশন সংশ্লিষ্ট। অপরদিকে মোঃ মামুন হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি (ভোকেশনাল) জেনারেল মেকানিক্স, যা এমিপিওভূক্ত ট্রেড সিভিল কনস্ট্রাকশন সংশ্লিষ্ট নয়। সঙ্গত কারণেই শর্তযুক্ত ট্রেড অনুযায়ী মোঃ জহিরুল ইসলাম বাশারই এমপিওভুক্তির যোগ্য। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা খান অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এমপিও’র শর্ত গোপন রেখে জহিরুল ইসলাম বাশারকে বাদ দিয়ে মোঃ মামুনের অনুকূলে কাগজপত্র প্রেরণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এনিয়ে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমপিও বঞ্চিত মোঃ জহিরুল ইসলাম বাশার বলেন, আমি যোগদানের তারিখ হতে অদ্যাবধি সিভিল কনস্ট্রাকশন ল্যাব সহকারী পদে কর্মরত আছি। সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেড বিষয়ের ক্লাস পরিচালনা তথা রেজিন্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা পরিচালনা করে আসছি। যার প্রমাণস্বরূপ প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত বিভিন্ন কাগজপত্র রয়েছে। এছাড়া ক্লাস রুটিন এবং শিক্ষক হাজিরা রেজিস্টার রয়েছে। উক্ত রেজিস্টার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারের পরিদর্শন রয়েছে। এ বিষয়ে সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরখালীর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা খান বলেন, এ নিয়োগ ২০০৬ সালে হয়েছে। এ কারণে আমরা ১৯৯৫ সালের পরিপত্রের আলোকে মোঃ মামুনকে এপিওভূক্ত করার চিঠি দিয়েছি। আমরা ২০১৮ সালের পরিপত্র অনুসরণ করিনি। এক্ষেত্রে আমরা মোঃ জহিরুল ইসলাম বাশার ও মোঃ মামুন এর পরীক্ষা নিয়েছি। মামুন প্রথম হয়েছে। তার নামে উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় চরখালীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জহিরুল ইসলাম বাশার ও মোঃ মামুন একই দিনে যোগদান করার পর থেকে জহিরুল সিভিল কনস্ট্রাকশন ল্যাব সহকারী পদে এবং মামুন ইলেকট্রিক ল্যাব সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সিভিল কনস্ট্রাকশন ল্যাব সহকারী পদটি এমপিও ভূক্ত হওয়ার পর জহিরুলকে বাদ দিয়ে মামুনকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে। বিষয়টি একভাবে প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা খান একক সিদ্ধান্তেই হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। উল্লেখ, প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of