ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জুলাই ১, ২০২০

ঢাকা শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০, ২০ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১

ঈদে খুলতে পারে সিনেমা হল: সুদীপ্ত কুমার দাসের সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর বৈঠক

আহমেদ তেপান্তর

নিরাপদ নিউজ

হল খোলার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত না এলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ইতিমধ্যে সিনেমার শুটিং শুরু হয়ে গেছে। তাই কপালে ভাঁজ প্রযোজকদের। ছবি যদি হলেই না চালানো যায় তবে নির্মাণ করেই বা লাভ কী এমন জিজ্ঞাসা নবীন প্রযোজকদের। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরেই কপালে এমন ভাঁজ। এরমধ্যে প্রযোজক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রদর্শক সমিতিকে অনুরোধ করে সিনেমা হল খুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সমিতি নেতৃবৃন্দ হল খোলার ব্যাপারে সরকারের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রযোজক সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগগ্রাপ্ত প্রশাসক বরাবর হল খুলে দিতে চিঠি দেয়। কিন্তু প্রশাসক ইতিবাচক সাড়া না দিলে এ নিয়ে তারা আবারও প্রদর্শক সমিতিকে অনুরোধ করে হল খোলার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে। একই অনুরোধ পরিচালক সমিতি থেকেও এলে প্রদর্শক সমিতি উদ্যোগ নেয় হল খোলার ব্যাপারে। জানা গেছে, ২৯ জুন প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এবং ঈদুল আযহার আগেই হল খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লিখিত অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে সুদীপ্ত কুমার বলেন, আমরা মনে করছি মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি আগ্রহের সঙ্গে আমাদের কথাগুলো শুনেছেন এবং লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রী বরাবরও দিতে বলেছেন। আমরা সেটাও করেছি। কি আলোচনা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত আমরা মন্ত্রী মহোদয়কে বোঝাতে চেয়েছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্যুটিং যেহেতু শুরু হয়ে গেছে তাই হল খোলা না হলে প্রযোজক-শিল্পীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, একইসঙ্গে হলের সঙ্গে যুক্তরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন তাই পরিবহন বা অন্যান্য স্থানের মতো স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে হল খোলার ব্যাপারে অনুরোধ করেছি। দ্বিতীয়ত, দ্রুত ৮০টি হল সংস্কারে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় একই সঙ্গে স্বল্পসুদে অন্তত ৮০টি সিনেপ্লেক্স করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে এবং তৃতীয়ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সিনেমা হলগুলোর বৈদ্যুতিক বিল বাণিজ্যিক আকারে নেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের দাবিগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক এ নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন জানিয়ে প্রবীন এই নেতা বলেন, আমরা কিভাবে আসন বন্টন করবো সেটারও একটা ছক মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধপত্রে দিয়েছি। পাশাপাশি মারাত্মক ক্ষতির মুখে থাকা সিনেমা হলের মালিক-কর্মচারীদের বাঁচাতে টিকিটের হার কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাবও তাকে দেওয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার হয়েছে দাবি করে সুদীপ্ত আরও জানান, সিনেমা অঙ্গনকে বাঁচাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে চলতে হবে। আর এ কারণে শিগগিরই আমরা প্রযোজক-পরিচালক সমিতিকে নিয়ে বসবো। এ ব্যাপারে প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, প্রদর্শক সমিতিকে ধন্যবাদ তারা হল খোলার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। আশা করছি প্রযোজকরা আটঘাট বেধেই নামতে পারবেন। আমরা এখন অপেক্ষায় আছি হল খোলার ঘোষণার। সত্যি কথা বলতে হল না খুললে ছবি বানিানোর ঝুঁকি নেওয়ার মানেই হয় না। তাছাড়া প্রদর্শক সমিতির যে দাবি সেগুলো বাস্তবায়ন হলে ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। দ্রুত খোলার ঘোষণা দিলে প্রযোজক এবং হল মালিকরা প্রস্তুতিও নিতে পারবেন উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, শিগগিরই আমরাও প্রদর্শক সমিতির সঙ্গে বসে কিছু এজেন্ডা ঠিক করে তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করবো। এ ব্যাপারে পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন বলেন, এটা খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক সংবাদ। চলচ্চিত্রে প্রাণ ফেরাতে মন্ত্রীমহোদয়ের কাছে আমাদেরও অনুরোধ থাকবে প্রদর্শক সমিতির যে দাবি সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

মন্তব্য করুন

Please Login to comment
avatar
  Subscribe  
Notify of