ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জুলাই ৭, ২০২০

ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০, ২৬ শ্রাবণ, ১৪২৭, বর্ষাকাল, ১৯ জিলহজ, ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

‘আমিও হয়তো কখন চলে যাই আপনাদের মাঝ থেকে…!’

তানিয়া ইসলাম

নিরাপদ নিউজ

এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ১৯৫৫ সালে এবং আমার জন্ম ১৯৫৬ সালে। সুতরাং আমাদের বয়সের অনেক বেশি পার্থক্য রয়েছে এমনটা নয়। ওনার চলে যাওয়াটা দ্রুত হয়ে গেল। এন্ড্রু কিশোরের সাথে আমার জীবনের অনেক মিল রয়েছে। তাই আজ এটাই মনে হচ্ছে উনি চলে গিয়ে হয়তো বা এটাই স্বরণ করিয়ে গেলেন, আমরা একই বয়সের মানুষ হয়তো আমারও চলে যাবার সময় হয়ে গেছে!!  কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ১৯৭৭ সালে আমি চলচ্চিত্রে এসেছি। আমার অভিনীত প্রথম জনপ্রিয় ছবি ছিল ‘আঁখি মিলন’। ওই ছবির একটি গান ছিল ‘আমার গরুর গাড়িতে’। এই গানটির জন্য ছবিটি সুপার ডুপার হিট হয়। আর এই সিনেমাটিতে গানটি গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তার কণ্ঠের সঙ্গে আমার অভিনয় কেন জানি দর্শক খুব পছন্দ করতো। ওই গানের পর থেকেই আমি আমার ক্যারিয়ারের উন্নতিটা অনুভব করতে থাকি।

‘আমার গরুর গাড়িতে’ গানটির পর আমার প্রায় সব ছবিতে তার গান থাকতো। বিশেষ করে ১৯৮৮ ‘ভেজা চোখ’ নামে ছবিতে তার অনেকগুলো গান ছিল এবং ওই ছবিটা গানের কারণে বেশি ব্যবসা করে, পরবর্তীতে বলিউডেও ছবিটি রিমেক করে। শুধু কি তাই, আমার ক্যারিয়ারের মাইলফলক ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নাম গানটিও ছিলো তার কণ্ঠে। সেসময় কী যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো গানটি! আসলে তাঁর গানের জন্য আমার বহু ছবি সুপার ডুপার হিট হয়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এন্ড্রু কিশোরের সাথে আমার জীবনের মিল রয়েছে বলেছি তাঁর একটি বড় কারণ যদি বলতে হয় তাহলে বলব, ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে একবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সিঙ্গাপুর যাই। আমার অবস্থা এত খারাপ ছিল তো জানতামই না যে আমি আবার বেঁচে ফিরব। আমার স্পষ্ট মনে আছে, তখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে গান করেছিলাম ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’। গানটি আমি এখনো বিভিন্ন সময় গাই। আপনারা জেনে থাকবেন এন্ড্রু কিশোরও কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে অসুস্থ্য অবস্থায় যখন চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন তখন তিনিও হাসপাতালের বেডে এই গানটি গেয়েছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, তাঁর গাওয়া অসংখ্য গানে আমি ঠোট মিলিয়েছি। শুধু তাঁর গাওয়া গান নয় তাঁর অসংখ্য উল্লেখযোগ্য গান যে গানগুলো আজ সুপারহিট তালিকায় রয়েছে সেগুলোর প্রায় বেশীরভাগ গান আমার সিনেমায় আমার ঠোটে দর্শকরা দেখতে পেয়েছে। আমার ক্যারিয়ারে তাঁর গাওয়া গান এবং আমি দুজন যেন দর্শক হৃদয়ে অতপ্রতভাবে মিশে আছি। এন্ড্রু কিশোরের শুরের সাথে আমার অভিনয়কে দর্শক এমন ভাবে গ্রহন করে নেন যে, দর্শকরা একটা সময় ভেবেই নিতেন যেন গানটি আমি নিজেই গাইছি।

ইলিয়াস কাঞ্চন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে বলেন, এন্ড্রু কিশোর চলে গেছেন। আমাদের বয়স যেহেতু কাছাকাছি আমিও হয়তো কখন চলে যাই আপনাদের মাঝ থেকে। যদি চলে যাই সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি যদি কোন অন্যায় করে থাকি বা আমার দ্বারা যদি কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তিনি আরো বলেন, আমি জীবনে যা কিছু করেছি বা এখনো যা কিছু করছি সব এই দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য। আমার আন্দোলন দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে নিরাপদ করার আন্দোলন। দেশের সড়ককে নিরপদ সড়ক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার এই আন্দোলন আমি যতদিন বাঁচব করেই যাব। তিনি সকলকে সড়ক পথে সাবধানে চলার আহবান জানান।

আরো পড়ুন: চলচ্চিত্রজগতের কালজয়ী অনেক গান এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x