ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ৩২ মিনিট ১৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭, বর্ষাকাল, ১৮ জিলহজ, ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম পোশাকশিল্পে কর্মীবান্ধব ও উৎপাদনে শীর্ষে এস এম আবু তৈয়ব

শফিক আহমেদ সাজীব

নিরাপদ নিউজ

চট্টগ্রামের নগরের বায়েজিদ থানাধীন নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার রুবি গেইট এলাকায় হঠাৎ দেখতে পেলাম সারিবদ্ধভাবে কিছু নারী শ্রমিক প্রধান সড়কে এগিয়ে আসছেন। সকলের হাতে থলে ভরা আম। কি ব্যাপার এখানে কি আমের বাজার বসলো নাকি। এমনই ভাবতে ভাবতে সামনে এগিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এসব আম কোথায় থেকে আনছেন। জিজ্ঞেস করতেই অনেক শ্রমিকেই একসাথে বলে উঠলো আমাদের কারখানায় আজকে আম উৎসব হচ্ছে। শ্রমিকদের সারিকে অনুসরণ করে একটু এগিয়ে যেতেই দেখা গেলো ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলস গেইট দিয়ে শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে বেরিয়ে আসতে। ইনডিপেনডেন্টের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীদের অনুরোধ পুর্বক ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেলো আমার খুবই প্রিয় মহৎকর্মের অধিকারী নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান এবং অসংখ্য মানবকল্যাণ মূলক সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী শিল্পপতি এস এম আবু তৈয়ব নিজে একেক করে শ্রমিকদের হাতে একটি করে আম ভর্ত্তি থলে তুলে দিচ্ছেন। যিনি জানুয়ারিতে শ্রমিকদের সাথে কারখানায় একমাত্র কন্যা সাইকা তাফাননুম প্রীতির গায়ে হলুদ উপলক্ষে আয়োজন করেছিলো অন্যরকম গায়ে হলুদ। অনুষ্ঠানের চারদিকে যেমন ছড়িয়ে পড়েছিল শ্রমিকদের উচ্ছ্বাস, তেমনই গার্মেন্টসের ছাদে এই বিরল আয়োজনে দেশে-বিদেশে খুবই প্রশংসিত হয়েছিলো এই শিল্পপতি। আজ এমন দৃশ্য দেখে অবাক হলাম, এতোগুলো শ্রমিককে একসাথে আম বিতরণ করা কিভাবে সম্ভব।

বিজ্ঞাপন


পোশাকশিল্পে সাধারণত শ্রমিকদের মাঝে কম বেশি অসন্তোষ থাকেই। তবে ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলস লিমিটেড এর কর্মীদের মাঝে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বদলে আছে সন্তুষ্টি। এর কারণও আছে। প্রায় এক হাজার ছয় শতাধিক কর্মীর মানসম্মত স্বাস্থ্যকর ভাবে বসে খাবারের ব্যবস্থা। কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াতে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন উৎসবের এবং নিরাপদ কর্ম পরিবেশ।
ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলসের যাত্রা ১৯৯৮ সালে। ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলসে এমন অনেক কর্মী এখনও আছেন যারা শুরু থেকেই ছিলেন সঙ্গে। ২২ বছরের পথচলায় কর্মীবান্ধব পরিবেশের জন্য দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ নাম কুড়িয়েছে ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলস।
আয়োজিত এসব উৎসবে কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদবী অনুযায়ী কোনো ভেদাভেদ করা হয় না। ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলসের গিয়ে দেখা যায়, ক্যান্টিনে মধ্যাহ্নভোজ সেরে নিচ্ছেন এক সঙ্গে বসে। এভাবে পালা করে রোজ দুপুরের খাবার খান প্রায় এক হাজার ছয় শত কর্মী।


ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলসের নারী কর্মী (শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা) রুবি আক্তার নিরাপদ নিউজকে বলেন, এখানে আমি বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছি। আগে যত জায়গায় কাজ করেছি সেখানে এমন সুযোগ পেতাম না। এখানে যা পাচ্ছি। এখানে মধ্যাহ্ন বিরতিসহ প্রতিদিনের ১ ঘন্টার বিরতি দেওয়া হয়। আমাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে মালিকের পক্ষ থেকে। এছাড়াও শিশুদের জন্য আছে শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র। আছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত চিকিৎসা সেবা ও অসুস্থ শ্রমিকদের জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য এম্বুলেন্স সার্ভিস।
ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলসের আরও এককর্মী জাকির হোসেন সাগর (সিনিয়র অপারেটর) নিরাপদ নিউজকে বলেন, করোনার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সবার প্রিয় এমডি স্যার আমাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে করোনার মহাবিপদেও আম উপহার দিয়েছেন নিজের হাতে। মালিক আমাদের ফ্রী আম উপহার দিয়েছেন। মানবিক ও ভালো কাজের জন্য তিনি অন্যের অনুকরনীয় হয়ে থাকবেন আজীবন।
নিজেদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব নিরাপদ নিউজকে জানান, শুরুতে তিন শতাধিক শ্রমিক নিয়ে খুবই ছোট একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা যাত্রা করি। প্রথমে খুবই কঠিন ছিলো। তবে আমরা যখন উৎপাদনমুখী ব্যবসা শুরু করি তখন আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের অর্ডার দিয়ে শুরু আমাদের প্রথম সাফল্য। আমাদের প্রথম সাফল্যটা আসে এই অর্ডার ডেলিভারি করার সময়। ডেলিভারির সময়ই আমরা একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও অর্ডার পাই। এরপর আমাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতেই হয়নি।
ইনডিপেনডেন্ট এপ্যারেলসের শুরু থেকে বর্তমান অবধি এই সাফল্যের জন্য কর্মীদের অবদানই মুখ্য বলে মনে করেন এস এম আবু তৈয়ব। তিনি বলেন, শুরু থেকেই সততা এবং প্রতিশ্রুতিকে আমরা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিই। আর এখন পর্যন্ত এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের কর্মীদের জন্য। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের ব্যবসা খুবই কঠিন। এরমধ্যেই আমাদের সাধ্যমত সবটুকু করার চেষ্টা করছি আমরা।


এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ব্যবসায়িক যাত্রায় আমি তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা পাইনি। একা একা সংগ্রাম করে কখনো সফল হওয়া যায় না। সফল হতে হলে পারস্পরিক সহযোগিতা লাগে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ কাজ আদায় করে নিতে হলে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কর্মীবান্ধব করতে হয়। আমি নিজেকে মালিক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না।
শ্রমিকদের নিয়মিত মৌসুমী ফল বিতরণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরাপদ নিউজকে জানান, জীবন আর জীবীকার মুখোমুখী অনাকাঙ্ক্ষিত এক বিরূপ পরিবেশে পুড়ো পৃথিবী আজ বিপর্যস্ত। থেমে নেই জীবনের চাকা। ধীরে ধীরে জীবনকে সুরক্ষা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে জীবীকার সন্ধানে। থেমে নেই আমাদের ইনডিপেনডেন্টস এ্যাপারেলস পরিবারের কর্মীরাও। আমরা উদযাপন করলাম আম উৎসবের। কর্মীরা ছুটির সময় তিন কেজি আম নিয়ে হাসি মুখে ঘরে ফিরেছে। বিপর্যয় কাটিয়ে পুড়ো পৃথিবীর মুখে হাসি ফিরে আসুক এই প্রত্যাশাই করছি।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x