ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১০ মিনিট ২৮ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০, ২৯ আষাঢ়, ১৪২৭ , বর্ষাকাল, ২১ জিলকদ, ১৪৪১

বেদের মেয়ে জোসনা: শুধু গান বিক্রি করেই ১ কোটি টাকার একটি বাড়ি কিনেছিলেন অডিও ব্যবসায়ী!

ফয়সাল আহমেদ

নিরাপদ নিউজ

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রেকর্ড করা ব্যবসাসফল সিনেমা তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। এটি মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালের ৯ জুন। কথিত আছে, মাত্র ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিনেমাটি ব্যবসা করে ২৫ কোটি টাকারও বেশি। এমন রেকর্ড অতীতে দেশের চলচ্চিত্রে অন্য কোনো সিনেমা করতে পারেনি। আগামীতে করতে পারবে কিনা সন্দেহ। ছবির নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন এবং নায়িকা অঞ্জু ঘোষ। প্রেমের ছবি। যে প্রেমে ছিল জটিলতা! কেউ মানে না এই সম্পর্ক। সেই জটিলতা অভিনয় করা এবং মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও হয়েছিল। বিষয়গুলো জানিয়েছেন ছবিতে আনোয়ার চরিত্রে অভিনয় করা নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, এ ছবিতে আমার কাজ করার কথা ছিল না, সিডিউলের কারণে।

সে সময় তিন বছরের অগ্রিম সিডিউল বুক ছিল আমার। আমার কাছের এমন কিছু মানুষ ছবিটির প্রস্তাব নিয়ে আসেন, না করতে পারিনি। যদিও শুরুতেই প্রযোজক আব্বাস উল্লাহ হিরো হিসেবে সাত্তারকে চুক্তিও করেছিলেন। ৫ হাজার টাকা বুকিং মানিও তাকে দেওয়া হয়। কিন্তু পরিচালকের এক কথা, আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে কাজটি করবেন না। বকুলের এটাই ছিল প্রথম সিনেমা। অনেক সিনেমায় প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। দারাশিকোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল বাবা-ছেলের মতো। তিনি আমাকে সিনেমাটি করার জন্য খুব করে ধরলেন। তার কারণেই সিনেমাটি করতে সম্মত হই। সে সময় আমি ও দারাশিকো ‘বোনের মতো বোন’ নামে একটি সিনেমা প্রযোজনা করছিলাম।

তিনি এসে বললেন, ‘বোনের মতো বোন’-এর সাত দিনের যে সময় আছে সেটা তাকে দিয়ে দেন। আমি বললাম, এটা হলে তো আমাদের সিনেমা মুক্তি দিতে পারব না। তিনি আমাকে যুক্তি দিয়ে বললেন, অনেক প্রযোজক সিনেমার সিডিউল মিস করে। আমাদেরটা না হয় মিস হলো। পরে আমরা কাজ করে নিতে পারব। এভাবেই ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র কাজ শুরু করি। শুরুতে টানা সাত দিন কাজ করি। এফডিসিতে রাজদরবারের সেট তৈরি করা হয়। রাজদরবারের শুটিং, সাপে আমাকে দংশন করা, ওঝা ও বিষ নামানোর দৃশ্যগুলোও সেখানে হয়। সিনেমার কিছু দৃশ্য এখনো মনে দোলা দেয়, আমাকে সাপে কাটল। বাবা ঘোষণা দিলেন, যে আমাকে সারিয়ে তুলতে পারবে, সে যা চাইবে তাকে তা দেওয়া হবে। এ সময় মরণ বীণ বাজাতে এগিয়ে আসে অঞ্জু। এ বীণ বাজালে সাপ এসে বিষ চুষে নেবে। রক্তবমি হয়ে অঞ্জুর মৃত্যু হবে।

পরিবারের বাধা সত্ত্বেও অঞ্জু বীণ হাতে নেয়। এ দৃশ্য আসার সঙ্গে সঙ্গে হলের দর্শকও মনের অজান্তে নিজেদের চুলের বাঁধন খুলে ফেলেন। যেন সাপ আসে, রাজকুমার বেঁচে ওঠে। সিনেমায় অঞ্জুর যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে কাঞ্চন বলেন, সে সময় অন্য বেশ কয়েকজন নায়িকা ব্যস্ত। অঞ্জু ঘোষের টানা ১৯টি চলচ্চিত্র ফ্লপ। তাকে নিয়ে অনেকেরই আপত্তি। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ অঞ্জুর ২০তম ফ্লপ সিনেমা হবে এটি। সঙ্গে আমিও ডুবতে যাচ্ছি! তবে অঞ্জু মন-প্রাণ দিয়ে এটির কাজ করে যায়। যার ফল সবাই জানেন।

বাস্তবতা হচ্ছে, নির্মাণ হওয়ার পর সিনেমাটি চালাতে কষ্ট হয়েছিল। ঢাকার বাইরে অল্প কয়েকটি সিনেমা হলে মুক্তি পায়। চট্টগ্রামে মুক্তি পায়নি। ১৯ ছবির ফ্লপ নায়িকা, সঙ্গে নতুন পরিচালক, সব মিলিয়ে অনেকেই সিনেমাটি চালাতে রাজি হননি। তবে মুক্তির পর প্রথম দুদিন যারা সিনেমাটি দেখেছিলেন, তারা মুখেই এর প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। সিনেমাটির মুক্তির দিন আমি খুলনা ও রাজশাহীতে গিয়েছিলাম।

সিনেমাটির ২৫ কোটি টাকার ব্যবসা প্রসঙ্গে বলেন, এটির সঠিক তথ্য আমার কাছে নেই। বলাটাও মুশকিল। তবে কেমন ব্যবসা করেছে তার একটি উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে। সিনেমাটির মুক্তির আগেই এর গান বিক্রি করে দিলাম। সিনেমা হিট হবে না ভেবে এক অডিও ব্যবসায়ী অডিও কিনে পরে তা ফিরিয়ে দেন। পরে যিনি কিনেছিলেন তার নামটা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তিনি এই অডিওর লাভেই ১ কোটি টাকার একটি বাড়ি কিনেছিলেন। আর আগের ভদ্রলোক (যিনি বুকিং দিয়েও টাকা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন) তিনি পাগলপ্রায় অবস্থা। টানা ছয় মাস তিনি অসুস্থ ছিলেন। শরীর একটু ভালো হলেই শুধু বলতেন, এটি আমি কী করেছি!

বাংলাদেশে সিনেমাটি তুমুল আলোচিত হওয়ার পর পশ্চিবঙ্গে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ নির্মাণ করা হয়। সেখানে নায়িকা অঞ্জু ঘোষ থাকলেও নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ছিলেন না। অঞ্জুর বিপরীতে ছিলেন চিত্রনায়ক চিরঞ্জিৎ।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x