ব্রেকিং নিউজ

আপডেট জুলাই ৩১, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০, ২৩ শ্রাবণ, ১৪২৭, বর্ষাকাল, ১৬ জিলহজ, ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

বর্ষিয়ান অভিনেতা আমিনুল হক-এর আজ নবম মৃত্যুবার্ষিকী

আজাদ আবুল কাশেম

নিরাপদ নিউজ

এক সময়ের নায়ক ও বর্ষিয়ান অভিনেতা আমিনুল হক-এর আজ নবম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ জুলাই, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। প্রয়াত গুণি এই অভিনেতার স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

বিজ্ঞাপন

আমিনুল হক (নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে নাম ছিল আমিন) ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই, অবিভক্ত বাংলার রাজশাহীবিভাগের মালদহে (বর্তমান মালদা জেলা,পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম জব্দুল হক। পেশায় ছিলেন উকিল। মায়ের নাম
গুলফেরনেসা। তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। মালদাহ জেলা স্কুল ও কলেজ থেকে মেট্রিক এবং আই এ পাশ করেন।

১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায়, শ্রীরঙ্গণ থিয়েটারে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়। সেখানে শিশির কুমার ভাদুড়ীর নির্দেশনায় মঞ্চনাটকে প্রথম অভিনয় করেন আমিনুল হক। কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এ প্রথম ডিভিশনে ফুটবলও খেলতেন। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বাবু ফণী বর্মণ পরিচালিত ‘মন্দির’ নামে কলকাতার একটি চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। তখন পশ্চিমবঙ্গসহ ঢাকা রেডিওর নাটকেও অভিনয় করতেন।

আমিনুল হক ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে, দেশবিভাগের সময় ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা রেডিওতে চাকরি নেন। পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করেন ।

১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে, আব্দুল জব্বার খান নির্মিত আমাদের দেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ, একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পুরোপুরিভাবে চলচ্চিত্রে আসেন আমিনুল হক।
এরপরে ফতেহ লোহানীর পরিচালনায় এফডিসিতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আকাশ আর মাটি’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ছবিটি মুক্তিপায় ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে।

আরো কয়েকটি ছবিতে নায়কের ভূমিকায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ছবিতে নানা ধরণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আমিনুল হক অভিনীত অন্যান্য ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তোমার আমার, জোয়ার এলো, গোধূলীর প্রেম, অপরাজেয়, জয় বাংলা, জানোয়ার, আব কেয়া হোগা (উর্দু- পাকাস্তানি), জীবন সাথি, অচেনা অতিথি, এপার ওপার, নাজমা, দেবর, নসীব, মহানায়ক, সকাল সন্ধ্যা, আগমন, ন্যায়বিচার, উসিলা, চাঁপাডাঙার বউ, দুই জীবন, সন্তান যখন শত্রু, হাজী শরীয়তউল্লাহ, রাবেয়া প্রভৃতি ।

আমাদের দেশের টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি অভিনেতা, নাট্যকার এবং নির্দেশক হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আমিনুল হক ‘বুলবুল ললিতকলা একাডেমি’র নাট্য বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘ নাট্যজীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে, নাট্যকলা বিভাগে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কার- চ্যানেল আই চলচ্চিত্র মেলা।

ব্যক্তিজীবনে আমিনুল হক ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে, ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির অভিনেত্রী পিয়ারি বেগম (নাজমা)-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র ছেলে সন্তান, রবিউল আমিন। বাংশাদেশ বিমানে principal engineer হিসাবে কর্মরত।

আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের নায়কদের মধ্যে অন্যতম একজন আমিনুল হক। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের ভিত মজবুত হয়েছে যাদের পদচারণায়, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। যাদের প্রচেষ্টায়, যাদের অভিনয় প্রতিভায়, শুরুর দিকে আমাদের চলচ্চিত্রশিল্প সমৃদ্ধ হয়েছে তিনি তাদেরই একজন। বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবনের অধিকারী আমিনুল হক, বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পে রেখে গেছেন অনন্য অবদান। শিল্প-সংস্কৃিতির ক্ষেত্রে অনুসরণয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে, আমিনুল হক- চির অমর।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x