ব্রেকিং নিউজ

আপডেট ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন, ১৪২৭, শরৎকাল, ৭ সফর, ১৪৪২

বিজ্ঞাপন

পাহাড়কন্যা রাঙামাটির পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র পলওয়েল পার্ক

শফিক আহমেদ সাজীব

নিরাপদ নিউজ

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পাহাড়ের কোলে মাচাংয়ের অবয়বে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একেকটি আধুনিক কটেজ। এ কটেজে বসে অথবা রুমে শুয়ে জানালা দিয়ে কাপ্তাই লেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। হ্রদ, পাহাড় ও সবুজ বৃক্ষরাজির সম্মিলন ঘটিয়ে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে অন্যরকম এক পাহাড়কন্যা রাঙামাটিকে। সকাল, বিকেল ও রাতের স্বচ্ছ লেকের জলরাশির বহুরূপী মিতালিতে মুগ্ধ ভ্রমণপিপাসুরা। পার্বত্য রাঙামাটির ডিসি বাংলোর পাশেই ‘পলওয়েল পার্কে’ রয়েছে বিনোদনের বৈচিত্র্যময় এ সুযোগ-সুবিধা।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, হ্রদ ভ্রমণে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে স্পিডবোট ও বিচ বাইকের সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। কক্সবাজার বিচের আদলেই সাজানো হয়েছে পলওয়েল পার্কঘেঁষা হ্রদকে। পাহাড়ের পর্যটনকে সমৃদ্ধ করতে পরিকল্পিত পার্কের ভেতর রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঝরনার দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা রোমাঞ্চকর অনুভূতি ও শিহরণ জাগানো নানা ধরনের রাইড, হিল ভিউ পয়েন্ট, লেক ভিউ পয়েন্ট, প্রেমিক জুটির সম্মাননা স্মারক ‘লাভ পয়েন্ট’, চমৎকার ও আকর্ষণীয় মুখরোচক খাবারের সমারোহ সমৃদ্ধ ক্যাফেটেরিয়াও। এখানে এলে যে কোনো পর্যটকই মুগ্ধ হন হ্রদ, পাহাড় ও সবুজের প্রাকৃতিক রূপলাবণ্য উপভোগ করে।

পলওয়েল পার্কের তত্ত্বাবধায়ক রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার মো. আলগমীর কবীর জানান, রাঙামাটির সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করতেই পলওয়েল পার্কটিকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। এখানে সরাসরি লেকের সৌন্দর্য ও স্বাদ উপভোগে পর্যটকদের সেবা দিতেই আধুনিক কটেজ ও সুইমিংপুল তৈরি করা হয়েছে। পাহাড়ের কোলে তৈরি করা কটেজে বসে পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ করে দিয়েছি আমরা।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে ‘পলওয়েল পার্ক’, যা এখন জৌলুস ছড়াচ্ছে দেশ-বিদেশে।

রঙ-বেরঙের ফুল আর দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষের সমারোহে রঙিন হয়ে হাজির হয়েছে সবার সামনে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকছে পার্কটি। অনন্য নির্মাণশৈলী এবং পরতে পরতে রয়েছে তার সৃজনশীলতার ছোঁয়া। প্রবেশের সময়ই তৈরি হয় শিহরণ জাগানো রোমাঞ্চকর অন্যরকম এক অনুভূতি। কারণ সাতটি সিংহের মুখের বিশাল বিশাল অবয়বের সুরঙ্গ পথ দিয়েই ঢুকতে হয় পার্কে। তারপর হাতের ডানে দেখা মেলে পুনাকের একটি প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। এতে পাহাড়ের আদিবাসীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তৈরি করা পোশাক ও পণ্যের সমাহারের প্রদর্শনী এবং বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়েছে। আরেকটু সামনে এগোতেই জাঁকজমক কিডস জোন শিশুদের দিয়ে যাচ্ছে নির্মল আনন্দ। কিডস জোন পেছনে ফেলতেই সবার চোখ পড়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির ওপর। যেখানে ঢেঁকিতে চারজন গ্রামীণ নারীর ধান থেকে চাল ভানার কসরত চিত্রকর্মে তুলে ধরা হয়েছে ভাস্কর্যের মাধ্যমে। যা পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক টুকরো গ্রামীণ স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ঢেঁকির ঠিক পাশেই তৈরি করা হয়েছে কলসি কাঁখে চার আদিবাসী নারীর ভাস্কর্য। এখানে নারীদের কাঁখে থাকা কলসি দিয়ে অনবরত পড়ছে স্বচ্ছ জলরাশি। এ যেন প্রাকৃতিক মিনি ঝরনা।

সিঁড়ি ভেঙে পাহাড়ের উঁচুতে উঠতেই হ্রদ সৌন্দর্য উপযোগ করার জন্য রয়েছে ইজি চেয়ারের ব্যবস্থা। কোটি টাকা ব্যয়ে পাহাড়ের এক পাশের ঢালে তৈরি করা হয়েছে হ্রদ দর্শনে আধুনিক ছয়টি মাচাং কটেজ। এখানেই আছে একটি অত্যাধুনিক সুইমিংপুল। পাহাড়ের অপর দিকের ঢালে রয়েছে আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া। এখানে পাওয়া যায় সব ধরনের সুস্বাদু খাবার। আইসক্রিম ও কফি তরুণ-তরুণী এবং আড্ডাবাজদের দেয় একটু বাড়তি আনন্দ। ক্যাফেটেরিয়া ফেলে সামনে এগোলেই হ্রদের একটু ভেতরে ইট-কাঠের পিলার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ফিশিং পাওয়ার। চারদিকে পানি আর তার ওপরে তৈরি করা ফিশিং পাওয়ারে দাঁড়ালে হ্রদের কোমল বাতাসে শরীরময় এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর এ স্থানেই সবচেয়ে ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা।

পার্কটির একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে ‘লাভ পয়েন্ট’ (ভালোবাসার বিন্দু)। এটি রাঙামাটিতে অবস্থিত একটি ভালোবাসার বিশেষ স্মারক। এটি মূলত ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ রাঙামাটিতে বেড়াতে এসে কাপ্তাই লেকে ইঞ্জিনচালিত বোট উল্টে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলাউদ্দিন পাটোয়ারী ও তার স্ত্রী আইরিন লিমা দম্পতির ভালোবাসার স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর লাভ পয়েন্টটি উদ্বোধনের পর এটি এখন বিনোদনের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পলওয়েল পার্ক থেকে বাঁশের সেতু পেরিয়ে যেতে হয় লাভ পয়েন্টে। চারদিকে পানিবেষ্টিত দ্বীপটিকে নানা কারুকাজের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন সাজে সাজানো হয়েছে। শতবর্ষী গাছের শিকড়ে বসে সময় কাটান অনেক পর্যটক।
পলওয়েল পার্ক ও লাভ পয়েন্ট ঘিরে দীর্ঘ কাপ্তাই হ্রদ ঘুরে দেখার জন্য নানা ধরনের স্পিডবোট ও বিচ বাইক রয়েছে। নির্ধারিত ফি দিয়েই কাপ্তাই হ্রদ ছাড়াও সুভলং ঝরনাসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের। এ পার্কটি রাঙামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।


চট্টগ্রাম থেকে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পার্কে বেড়াতে এসেছেন দেশের খ্যাতিমান সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক লায়ন মোঃ হাকিম আলী। ব্যবসায়ী হাকিম আলী জানালেন, পর্যটকেরা সারা দিন সুবলং ঝরনা ও হ্রদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এ পার্কে আসছেন। পলওয়েল পার্ক সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় অন্যতম এক বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে স্থান করে নিয়েছে রাঙ্গামাটিতে। অভিনব নির্মাণশৈলী এবং নানা রকম বসার স্থান পার্কটিকে দিয়েছে অন্যরকম এক মাত্রা। মনরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো এবং উপভোগ করার অন্যতম সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা।

পলওয়েল পার্কের বুকিং কর্মকর্তা রাঙামাটি জেলা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পার্কে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৩০ টাকা, বিভিন্ন রাইডের ফি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং সুইমিংপুলের প্রবেশ ফি ২০০ টাকা। পার্কে এক রাতের জন্য কটেজের ভাড়া আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কটেজ বুকিংয়ের সাথে রয়েছে সকালে নাস্তা, ফ্রি সুইমিংপুল ব্যবহারের সুবিধা, ফ্রি এন্ট্রি, কার পার্কিং, ওয়াইফাই এবং ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x